রাঙ্গামাটি বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে (রাবিপ্রবি) আন্তঃবিভাগ ক্রিকেট খেলাকে কেন্দ্র করে ম্যানেজমেন্ট বিভাগের শিক্ষার্থীদের প্রাণনাশের হুমকি ও অকথ্য ভাষায় গালিগালাজের অভিযোগ উঠেছে ট্যুরিজম অ্যান্ড হসপিটালিটি ম্যানেজমেন্ট বিভাগের শিক্ষার্থী ও বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রদলের যুগ্ম আহ্বায়ক মোহাম্মদ সাঈদের বিরুদ্ধে।
বুধবার (৭ অক্টোবর) বিশ্ববিদ্যালয়ের আন্তঃবিভাগ ক্রিকেট প্রতিযোগিতায় ম্যানেজমেন্ট (MGT) ও ট্যুরিজম অ্যান্ড হসপিটালিটি ম্যানেজমেন্ট (THM) বিভাগ মুখোমুখি হয়। খেলা চলাকালে সাঈদ ম্যানেজমেন্ট বিভাগের শিক্ষার্থীদের বিভিন্নভাবে হুমকি ও গালিগালাজ করেন বলে অভিযোগ করেন ভুক্তভোগীরা।
এ ঘটনায় বৃহস্পতিবার (৮ অক্টোবর) বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর বরাবর লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন ম্যানেজমেন্ট বিভাগের শিক্ষার্থীরা।
লিখিত অভিযোগে শিক্ষার্থীরা দাবি করেন, এর আগে ১৪ জুন MGT ও THM বিভাগের হ্যান্ডবল ফাইনালকে কেন্দ্র করে একটি অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটে। বিষয়টি বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের মাধ্যমে সমাধান হওয়ার পরও সেই ঘটনার জেরে ক্রিকেট ম্যাচ চলাকালে মো. সাঈদ তাদের প্রাণনাশের হুমকি দেন। একপর্যায়ে তিনি ইট হাতে নিয়ে ম্যানেজমেন্ট বিভাগের শিক্ষার্থীদের দিকে এগিয়ে আসেন বলেও অভিযোগ করা হয়েছে।
অভিযোগে আরও বলা হয়, ম্যাচ চলাকালে শারীরিক শিক্ষা বিভাগের সামনে ম্যানেজমেন্ট বিভাগের শিক্ষার্থীদের মা-বাবা তুলে অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ করা হয়। এ সময় শারীরিক শিক্ষা বিভাগের কামাল ও আম্পায়ার হিসেবে দায়িত্ব পালনকারী হৃদয় বিষয়টি অবগত হলেও কার্যকর কোনো পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি বলে অভিযোগ শিক্ষার্থীদের।
খেলায় অংশ নেওয়া ম্যানেজমেন্ট বিভাগের শিক্ষার্থী ইফতেখার ইসলাম বলেন, আগের ঘটনার সমাধান হওয়ার পরও তাকে হত্যার হুমকি দেওয়া হয়েছে। ম্যাচ চলাকালে হাতে লাঠি নিয়ে মারতে আসার মতো পরিস্থিতি তৈরি হলেও আম্পায়ার ও সংশ্লিষ্টরা তা প্রতিহত করেননি বলেও অভিযোগ করেন তিনি।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক প্রত্যক্ষদর্শী শিক্ষার্থী বলেন, খেলার একটি সিদ্ধান্তকে কেন্দ্র করে দুই বিভাগের শিক্ষার্থীদের মধ্যে উত্তেজনা তৈরি হয়। এ সময় সাঈদকে গালিগালাজ করতে এবং মারামারির হুমকি দিতে শোনা যায় বলে দাবি করেন তিনি। তবে কাকে উদ্দেশ্য করে গালিগালাজ করা হয়েছে, তা তিনি নিশ্চিত নন বলে জানান।
এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর ড. ফখরুদ্দিন বলেন, “অভিযোগের বিষয়ে উভয় পক্ষের বক্তব্য আমরা শুনেছি। কিছু অভিযোগ সামনে এসেছে, তবে বিষয়টি এখনও যাচাই-বাছাই পর্যায়ে রয়েছে। তাই এখনই কাউকে দায়ী না করে, সব তথ্য ও বক্তব্য পর্যালোচনা করে বিশ্ববিদ্যালয়ের বিধি অনুযায়ী নিরপেক্ষভাবে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
অভিযোগের বিষয়ে মোহাম্মদ সাঈদের বক্তব্য পাওয়া যায়নি। বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের তদন্ত শেষে অভিযোগের সত্যতা ও দায়ীদের বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।







