বিদ্যুৎ ও জ্বালানি সংকটে বাড়ছে ওষুধ উৎপাদন খরচ

Post Image

বিদ্যুৎ ও জ্বালানির দাম বাড়ায় দেশে ওষুধ উৎপাদনের ব্যয় বেড়ে যাচ্ছে। বিদ্যুৎ সরবরাহে বিঘ্ন ঘটলে কারখানায় জেনারেটর ও বড় ইউপিএস চালাতে হচ্ছে। গ্যাসের সংকট থাকায় জেনারেটরের জন্য নির্ভর করতে হচ্ছে ডিজেলের ওপর। এতে উৎপাদন ব্যয় আরও বাড়ছে। এভাবে জ্বালানি ব্যয় বাড়তে থাকলে একপর্যায়ে উৎপাদন খরচ সমন্বয়ে ওষুধের দাম বাড়ানো ছাড়া উপায় থাকবে না বলে জানিয়েছেন বাংলাদেশ ঔষধ শিল্প সমিতির (বাপি) মহাসচিব হালিমুজ্জামান।

আজ সোমবার রাজধানীর তেজগাঁওয়ে বাপি কার্যালয়ে মালিক সমিতি ও বাংলাদেশ হেলথ রিপোর্টার্স ফোরামের (বিএইচআরএফ) আয়োজনে ‘ওষুধ শিল্পের অগ্রগতি: চ্যালেঞ্জ ও সম্ভাবনা’ শীর্ষক মতবিনিময় সভায় তিনি এসব কথা বলেন।

হালিমুজ্জামান বলেন, ওষুধশিল্পের জন্য জ্বালানি একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। বর্তমানে বিদ্যুৎ ও ডিজেল দুই ক্ষেত্রেই শিল্পটি সমস্যায় পড়ছে। কারখানা চালানোর সময় বিদ্যুৎ না থাকায় বিকল্প জ্বালানির ওপর নির্ভর করতে হচ্ছে। এতে উৎপাদন ব্যয় অনেক বেড়ে যাচ্ছে।

তিনি আরও বলেন, ১৫ টাকা ছিল বিদ্যুতের সরকারি রেট। আমার ফ্যাক্টরির হিসাবে এখন আসছে ৪২ টাকা। ১৫ টাকার জায়গায় ৪২ টাকা হচ্ছে।

বিদ্যুৎ গেলে উৎপাদন বন্ধের সুযোগ নেই

ওষুধশিল্পের সঙ্গে অন্যান্য শিল্পের বড় পার্থক্য রয়েছে উল্লেখ করে বাপি মহাসচিব বলেন, ওষুধের উৎপাদনপ্রক্রিয়া একবার শুরু হলে তা মাঝপথে বন্ধ করা যায় না। বিদ্যুৎ চলে গেলে উৎপাদনের পুরো প্রক্রিয়া নষ্ট হওয়ার আশঙ্কা থাকে। 

এ কারণে কারখানাগুলোকে ব্যাকআপ হিসেবে জেনারেটর ও বড় ইউপিএস চালাতে হয়। গ্যাসের সংকট থাকায় জেনারেটর চালাতেও ডিজেলের ওপর নির্ভর করতে হচ্ছে। অনেক প্রতিষ্ঠানের ডিজেল মজুতের সক্ষমতাও পর্যাপ্ত নয়। ফলে ট্যাংক শেষ হয়ে গেলে দ্রুত ডিজেল সংগ্রহ করতে হচ্ছে। এতে বাড়ছে উৎপাদন ব্যয়।

বাড়ছে মান নিয়ন্ত্রণের খরচও

ওষুধের দাম নির্ধারণে শুধু জ্বালানি খরচ নয়, কাঁচামাল, মান নিয়ন্ত্রণ, পরীক্ষা-নিরীক্ষা, সংরক্ষণ এবং গবেষণা ও উন্নয়নসহ (আরঅ্যান্ডডি) বিভিন্ন খরচ যুক্ত রয়েছে বলে জানান হালিমুজ্জামান।

তিনি বলেন, ২০ বছর আগে গুডস স্ট্যান্ডার্ড প্র্যাকটিস (জিএসপি) অনুযায়ী পাঁচটি পরীক্ষা করতে হতো। এখন পরীক্ষার সংখ্যা বেড়ে আটটি হয়েছে। আগে অনেক ধরনের ইমপিউরিটি বা অমেধ্য সম্পর্কে জানা ছিল না। এখন কোনো কোনো ওষুধে ১৮ থেকে ২০ ধরনের ইমপিউরিটি শনাক্ত করতে হয়। এসব পরীক্ষা করতে প্রয়োজনীয় রেফারেন্স স্ট্যান্ডার্ডের খরচও অনেক বেশি। ফলে ওষুধের মান নিয়ন্ত্রণে ব্যয় বাড়ছে।

উৎপাদনের পরও চলতে থাকে ব্যয়

ওষুধ উৎপাদনের পরও দীর্ঘ সময় ধরে নমুনা সংরক্ষণ ও নিয়মিত পরীক্ষা করতে হয়। কোনো ওষুধ বাজারে চাহিদা হারালেও নির্ধারিত শেলফ লাইফ পর্যন্ত এর নমুনা সংরক্ষণ করতে হয়। এমনকি মেয়াদ শেষ হওয়ার পরও নির্দিষ্ট সময় পর্যন্ত নমুনা রেখে নিয়মিত পরীক্ষা করতে হয়। এসবের পেছনেও ব্যয় হয়।

হালিমুজ্জামান আরও বলেন, ‘এনার্জি ওয়ান অব দেম, যেটা আমরা চোখে দেখছি। আর বাকি যেগুলো আছে, সেটা আমরা এখন চোখে দেখছি না। আমরা বুঝতেও পারছি না, ওই খরচ আসলে কত।’

গবেষণায়ও বাড়ছে ব্যয়

আন্তর্জাতিক মানের ওষুধ উৎপাদনে গবেষণা ও উন্নয়ন খাতেও আগের তুলনায় বেশি ব্যয় হচ্ছে বলে জানান বাপি মহাসচিব। আধুনিক ওষুধ উৎপাদনে এখন আরও বেশি বিজ্ঞানী ও বিশেষজ্ঞ প্রয়োজন হচ্ছে। সব মিলিয়ে জ্বালানি, কাঁচামাল, মান নিয়ন্ত্রণ, পরীক্ষা-নিরীক্ষা, সংরক্ষণ এবং গবেষণা ও উন্নয়ন প্রতিটি খাতেই ব্যয় বাড়ছে। এর মধ্যে জ্বালানি ব্যয় দ্রুত বাড়ায় তা সরাসরি উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠানের মুনাফায় চাপ তৈরি করছে।

হালিমুজ্জামান বলেন, ‘এই সবগুলিই আসলে ওষুধের উৎপাদন খরচ। তবে এটা ধারাবাহিক প্রক্রিয়া। এর মধ্যে জ্বালানির খরচও যদি এভাবে বাড়তে থাকে, তাহলে তা অবশ্যই আমাদের মুনাফার ওপর প্রভাব ফেলবে।’

তিনি বলেন, জ্বালানির বাড়তি ব্যয় দীর্ঘদিন অব্যাহত থাকলে উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠানের পক্ষে তা নিজেদের মুনাফা থেকে বহন করা কঠিন হবে। তখন উৎপাদন খরচ সমন্বয় করতে ওষুধের দাম বাড়ানোর প্রয়োজন হতে পারে।

এই বিভাগের আরও খবর

সারাদেশ

News Image

ফিলাডেলফিয়ায় বৈশাখী মেলা

সোমবার, ৩০ জুন, ২০২৫

সর্বশেষ খবর

সেই বিচারকের বিচারিক ক্ষমতা কেড়ে নিলেন হাইকোর্ট

বিদ্যুৎ ও জ্বালানি সংকটে বাড়ছে ওষুধ উৎপাদন খরচ

আসামির গায়ের শার্ট নিয়ে নানা প্রশ্ন

ফুটবল খেলায় অতিথি না করায় ছাত্রদল নেতার ‘১৪৪ ধারা জারির’ মাইকিং

গুদাম ভেঙে সার লুট করে নিয়ে গেলেন কৃষকরা

মাচার পেঁয়াজ পচে, বাজারে নেই দাম, সালথায় পেঁয়াজ চাষিদের নীরব কান্না

অভিযানে গিয়ে হুমকির মুখে এসিল্যান্ড, ৫৫ জনের বিরুদ্ধে মামলা

দুবাই থেকে চোরাচালান, ৩১ ভরি স্বর্ণসহ দুই যুবক আটক

সর্বাধিক পঠিত

ভোলা সদর উপজেলা ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক আটক

চট্টগ্রাম বন্দরে আন্দোলনের নেতা আটক

ঈদের ফিরতি ট্রেন টিকিট কাটবেন যেভাবে

ঠাকুরগাঁও জেনারেল হাসপাতালকে ৫০০ শয্যায় উন্নীত করা হবে

রংপুরে পুলিশ হত্যা মামলায় এক আসামির মৃত্যুদণ্ড

দলীয় সব পদ থেকে ছাত্রদলের ৮ নেতাকে বহিষ্কার

খুলনায় আ.লীগ কার্যালয়ে পতাকা উত্তোলন ও স্লোগান, ভিডিও ভাইরাল

তারাবির নামাজের ফজিলত

ঝিনাইদহে নির্বাচন-পরবর্তী সহিংসতা : আহত ১৩, ভাঙচুর

আমার মেয়ে বুকের বাঁ পাশে গুলিবিদ্ধ হয়ে শহীদ হয়