চব্বিশের জুলাই: ১৪৪ ধারা ভেঙে মিছিলে নামে কুবি ছাত্রশিবির

Post Image

 বাংলাদেশের ইতিহাসে চব্বিশের জুলাই-আগস্ট মাসে ঘটেছে এক রক্তক্ষয়ী সংগ্রাম। শুরুতে কোটা পদ্ধতির বিরুদ্ধে আন্দোলন হলেও পরে সেটা ফ্যাসিবাদী সরকার পতনের আন্দোলনে রূপ নেয়। ১৮ জুলাই রাতে সারাদেশে ১৪৪ ধারা জারি ও ইন্টারনেট বন্ধ করে দেওয়া হয়। সেই কারফিউ ভেঙেই কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ে (কুবি) বিক্ষোভ মিছিল করেছে শাখা ছাত্রশিবির। 

সেদিন সকালে বিশ্ববিদ্যালয় থেকে বাস দেওয়ায় আবাসিক হলগুলোর অধিকাংশ শিক্ষার্থী বাড়িতে চলে যায়। তালা ঝোলানো হয় হলগুলোতে। তখন কিছু শিক্ষার্থী আশেপাশের আবাসিক মেসে থেকে যায়। সেসময় আবাসিক মেসগুলো থেকে এসে শিবিরের নেতা-কর্মী ও সাধারণ শিক্ষার্থীরা আন্দোলন গতিশীল রাখে। সেদিন পুরো কুমিল্লাতে শুধু এই মিছিলটি-ই হয়েছে বলে জানা যায়।

চব্বিশের ১৯ জুলাই (শুক্রবার) বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় মসজিদ থেকে মিছিলটি শুরু হয়ে শহীদ আব্দুল কাইয়ুম চত্বরে (ততকালীন গোলচত্বর) এসে সমাপ্ত হয়েছিল। স্মৃতিচারণ করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে পোস্ট দিয়েছেন শাখা ছাত্রশিবিরের সাবেক সভাপতি হাফেজ ইউসুফ ইসলাহী।

জানা যায়, শাখা ছাত্রশিবিরের বর্তমান সাংগঠনিক সম্পাদক মোহাম্মদ তানভীর হোসাইন ও হিউম্যান রিসোর্স ডেভেলপমেন্ট সম্পাদক কায়েসুর রহমানের নেতৃত্বে মিছিলটি হয়েছিল।


ছাত্রশিবির কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয় শাখার সাবেক সভাপতি ও বর্তমান কেন্দ্রীয় কলেজ কার্যক্রম সম্পাদক হাফেজ ইউসুফ ইসলাহী বলেন, আন্দোলনের সময় বিশ্ববিদ্যালয় শাখার অধিকাংশ সাথী-সদস্যই গুরুতর আহত হয়েছিলেন। এমন পরিস্থিতিতেও আহত কর্মীরা বারবার ফোন করে জানতে চাইতেন, আন্দোলন চলবে কি-না। তাদের উদ্দেশে তিনি বলেন, আন্দোলন থেমে যাবে না; যতদিন শিক্ষার্থীরা রাজপথে থাকবেন, ততদিন কোনো শক্তিই তা দমিয়ে রাখতে পারবে না। আর কেউ যদি আন্দোলন থেকে সরে দাঁড়ানোর সিদ্ধান্তও নেয়, তবুও তিনি আন্দোলন বন্ধ হতে দেবেন না, কারণ এত মানুষের রক্ত, ত্যাগ ও আহাজারির বিচার না হওয়া পর্যন্ত আন্দোলনের যৌক্তিকতা শেষ হয় না।

তিনি আরও বলেন, ওই অনুপ্রেরণায় আহত শিক্ষার্থীরাও নতুন করে সাহস সঞ্চয় করেন এবং শুক্রবার জুমার নামাজের পর বিক্ষোভ কর্মসূচি পালনের সিদ্ধান্ত নেন। পরিকল্পনা অনুযায়ী বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় মসজিদ থেকে প্রধান ফটক পর্যন্ত বিক্ষোভ মিছিলের ঘোষণা দেওয়া হয়। তবে আগের দিনের সহিংসতা, আতঙ্ক ও ভীতিকর পরিস্থিতির কারণে মিছিলে অংশগ্রহণকারীর সংখ্যা তুলনামূলক কম ছিল। এছাড়া শেষ মুহূর্তে কর্মসূচির সিদ্ধান্ত হওয়ায় সবার কাছে খবর পৌঁছানো সম্ভব হয়নি। ইন্টারনেট সংযোগ বন্ধ থাকায় যোগাযোগও ব্যাহত হয়। ফলে সীমিত অংশগ্রহণ নিয়েই মিছিলটি বিশ্ববিদ্যালয় এলাকার মধ্যে শান্তিপূর্ণভাবে শেষ করা হয়।

আন্দোলনকারী মোহাম্মদ রাহীম বলেন, আন্দোলনের দিনগুলো ছিল চরম অনিশ্চয়তা, আতঙ্ক ও প্রতিরোধের। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কঠোর দমন-পীড়ন এবং ইন্টারনেট বিচ্ছিন্নতার মধ্যেও শিক্ষার্থীরা নিজেদের মধ্যে যোগাযোগ বজায় রেখে কর্মসূচি চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করেছেন। তিনি বলেন, আগের দিনের হামলায় অনেকেই আহত ও মানসিকভাবে বিপর্যস্ত থাকলেও আন্দোলন থামানোর মানসিকতা কারও ছিল না। সীমিত যোগাযোগ, কম জনসমাগম ও প্রতিকূল পরিস্থিতির মধ্যেও তারা শান্তিপূর্ণভাবে বিক্ষোভ কর্মসূচি পালন করেন এবং গণ-আন্দোলনের ধারাবাহিকতা বজায় রাখার চেষ্টা করেন।

এই বিভাগের আরও খবর

সারাদেশ

News Image

ফিলাডেলফিয়ায় বৈশাখী মেলা

সোমবার, ৩০ জুন, ২০২৫

সর্বশেষ খবর

বিয়ের দাবিতে প্রেমিকের বাড়ির সামনে তরুণীর অবস্থান

টিউমার সন্দেহে জানা গেল ৭ মাসের অন্তঃসত্ত্বা শিশু, নানা পলাতক

সুরা বাইয়্যিনাতে মানুষের জন্য যে শিক্ষা রয়েছে

নিষেধাজ্ঞার আগে চাঁদপুরের ঘাটে বেড়েছে ইলিশের দাম, বিক্রি হচ্ছে কেজি ৩ হাজারে

কুমিল্লায় পুলিশের বিশেষ অভিযানে গ্রেপ্তার ৫

সাংবাদিককে না পেয়ে ছেলেকে ধরে নিয়ে গেল পুলিশ

ছিনতাইকারী ধরতে গিয়ে প্রাণ দিলেন সিএমপি কনস্টেবল আল আমিন

শিক্ষক দিবসের ব্যানারে ‘শেখ হাসিনার বাংলাদেশ’ স্লোগান, প্রধান শিক্ষক গ্রেপ্তার

সর্বাধিক পঠিত

ফুটপাত উচ্ছেদে অভিযানে বিএনপির দুই গ্রুপের ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া

যারা গণভোট মানবেন না, তারা মুনাফেক : শিশির মনির

এসি রুমে বসে জনগণের সমস্যা বোঝা যায় না: সংসদে হাসনাত আবদুল্লাহ

সংখ্যালঘু নির্যাতন সহ্য করব না, প্রয়োজনে মন্ত্রিত্ব ছাড়ব: ধর্মমন্ত্রী

স্থানীয় সরকার নির্বাচনের ভোটার তালিকা প্রকাশ ৩১ আগস্ট

হঠাৎ অসুস্থ হয়ে হাসপাতালে ভর্তি সারজিস

সিলেট সিমান্তে ১ কোটি ৯০ লাখ টাকার চোরাই মাল জব্দ

যেসব এলাকায় ৯ ঘণ্টা বিদ্যুৎ থাকবে আজ

প্রেমে রাজি না হওয়ায় বিদ্যালয়ে ঢুকে স্কুলছাত্রীকে লাথি, ভাঙলো তিন দাঁত

বিশ্ববাজারে কমল স্বর্ণের দাম