তিস্তা নদীর আকস্মিক ভাঙন

কয়েকঘণ্টার ব্যবধানে নদীগর্ভে বিলীন শতাধিক বসতভিটা

Post Image

গাইবান্ধার প্রধান চারটি নদ-নদীর মধ্যে তিস্তা, ব্রহ্মপুত্র ও ঘাঘট নদীতে বাড়ছে পানি এবং কমছে করতোয়ায়। পানি বৃদ্ধি-হ্রাসের এই দোলাচলে ভাঙছে সুন্দরগঞ্জ, সদর, গোবিন্দগঞ্জ, সাঘাটা ও ফুলছড়ির উপজেলার নদী তীরবর্তী ও চরাঞ্চলের অনেক এলাকা। এরমধ্যে সুন্দরগঞ্জের তিস্তায় গত ২৪ ঘণ্টায় আকস্মিক ভাঙনে বিলীন হয়েছে শতাধিক পরিবারের বসতভিটা ও আবাদি জমি।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, সুন্দরগঞ্জ উপজেলার কাপাসিয়া ইউনিয়নের ৪নং ওয়ার্ডের লাল চামারে আকস্মিক ভাঙনের তাণ্ডব চালায় রাক্ষুসে তিস্তা। এদিন অল্প সময়ের ব্যবধানে অন্তত ১০০ এর কাছাকাছি পরিবারের বসতভিটা নদীতে বিলীন হয়। আজ তা শতাধিক ছাড়িয়ে গেছে। অনেকেই ঘর-বাড়ি সরিয়ে নেয়ার চেষ্টা করছেন। এছাড়া ভাঙতে শুরু করেছে এই ইউনিয়নের ৩ নম্বর ওয়ার্ডেও।

কাপাসিয়া ইউনিয়নের ৪নং ওয়ার্ড সদস্য হাবিজার রহমান জানান, আকস্মিক ভাঙনে নদীতে বিলীন হয়েছে অর্ধশতাধিক পরিবারের বসতভিটা। এখন বসতভিটা হারানো পরিবারের সংখ্যা ১০০-এর বেশি হবে। মুহূর্তের ভাঙনে সব শেষ হয়ে যায়। ভাঙনের সময় চরম বিপদের সম্মুখীন হয়েছে এখানকার মানুষ। এখনো অনেক পরিবার ঘরবাড়ি সরিয়ে নিতে পারেনি। 


এদিকে, ভাঙনের মুখে রয়েছে ভোরের পাখি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, মসজিদসহ অন্তত ২০টি পরিবার। মসজিদের একাংশ খোলা হয়েছে। যে কোনো সময় ভাঙতে পারে। ইতোমধ্যে এখানকার ২০ বিঘা ফসলি জমি বিলীন হয়েছে নদীতে। বসতভিটা হারানো পরিবারগুলোর জন্য জরুরি সরকারি সহায়তা প্রয়োজন। এখন পর্যন্ত এখানে কেউই খোঁজ নেয়নি, বিদ্যুৎ বন্ধ রয়েছে এখানে। 


উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢলে পানি বৃদ্ধির ফলে নদী জেলার সদর, সুন্দরগঞ্জ, ফুলছড়ি, সাঘাটা ও গোবিন্দগঞ্জে উপজেলায় প্রায় ৩০টি পয়েন্টে ভাঙনের ফলে নদী তীরবর্তী অন্তত আট শতাধিক পরিবার গৃহহীন হয়ে পড়েছেন। নদীগর্ভে বিলীন হয়েছে বিপুল পরিমাণ আবাদি জমি। ভাঙন আতঙ্কে দিন কাটাচ্ছেন নদী পাড়ের বহু মানুষ।


ভাঙন কবলিত এসব এলাকার মধ্যে কাপাশিয়া ছাড়াও সুন্দরগঞ্জের কঞ্চিবাড়ী ইউনিয়নের কালির খামার গ্রামের শখের বাজার, হরিপুর ইউনিয়নের চর চরিতাবাড়ী, রাঘব, চন্ডিপুর ইউনিয়নের উত্তর সীচা, কাপাসিয়া ইউনিয়নের লালচামার, কেরানির চর, মিন্টু মিয়ার চর ও বাদামের চর। অন্যদিকে, সদর উপজেলার মোল্লারচর ইউনিয়নের সিধাইল ও ফুলছড়ি উপজেলার ভাঙন কবলিত এলাকার মধ্যে রয়েছে। কঞ্চিপাড়া ইউনিয়নের বালাসীঘাট, দক্ষিণ রসুলপুর, উড়িয়া ইউনিয়নের রতনপুর, ফজলুপুর ইউনিয়নের মধ্য ও দক্ষিণ, খাটিয়ামারীর চর ও চর চৌমোহন।


এদিকে, নতুন করে ভাঙনের কবলে পড়েছে ফুলছড়ি উপজেলার উড়িয়া ইউনিয়নের ব্রহ্মপুত্রের তীরবর্তী ভূষির ভিটা গ্রাম। এছাড়াও নতুন করে ভাঙন দেখা দিয়েছে গোবিন্দগঞ্জের করতোয়ার তীরবর্তী কয়েকটি এলাকায়।


গাইবান্ধা পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী শরিফুল ইসলাম জানান, সুন্দরগঞ্জের কাপাসিয়ার ৩ ও ৪নং ওয়ার্ডসহ নদী ভাঙনের কবলে পড়া ১৩/১৪টি পয়েন্টে ভাঙন রোধে জিও ব্যাগ ফেলে জরুরি কাজ চলমান রয়েছে। এছাড়া নতুন করে ভাঙন দেখা দেয়ায় ফুলছড়ি উপজেলার ভূষির ভিটা এলাকায় জিও ব্যাগ ডাম্পিংয়ের কাজ শুরু করা হয়েছে। সেখানে প্রাথমিকভাবে ৫ হাজার জিও ব্যাগ ফেলানো হচ্ছে। ভাঙনের অন্যান্য পয়েন্টগুলোতেও অগ্রাধিকার ভিত্তিতে কাজ করা হবে।

এই বিভাগের আরও খবর

সারাদেশ

News Image

ফিলাডেলফিয়ায় বৈশাখী মেলা

সোমবার, ৩০ জুন, ২০২৫

সর্বশেষ খবর

চব্বিশের জুলাই: ১৪৪ ধারা ভেঙে মিছিলে নামে কুবি ছাত্রশিবির

বিদেশে পালিয়ে যাওয়া গোষ্ঠী জুলাই বিপ্লবকে কলঙ্কিত করতে সক্রিয় : সাদিক কায়েম

তুর্কি প্রেসিডেন্টকে বিরোধীদলীয় নেতার শুভেচ্ছাপত্র হস্তান্তর

জুলাই স্মরণ করিয়ে দেবে ক্ষমতা চিরস্থায়ী নয়: চরমোনাই পীর

কয়েকঘণ্টার ব্যবধানে নদীগর্ভে বিলীন শতাধিক বসতভিটা

দেশের ৭ জেলায় আবারও বন্যার আশঙ্কা

কনে নিয়ে ফেরার পথে মাইক্রোবাস খাদে, নিহত ২

পানির উচ্চতা বৃদ্ধি, আজ খোলা হবে কাপ্তাই বাঁধের ১৬টি জলকপাট

সর্বাধিক পঠিত

রাজার ছেলে রাজা হোক,এই রাজনীতিতে বিশ্বাসী নয় জামায়াত

রুমিন ফারহানা পেলেন হাঁস প্রতীক

নরসিংদীতে কিশোরীকে ধর্ষণের পর হত্যার প্রধান আসামি নূরাসহ গ্রেপ্তার ২

জামায়াতে যোগ দিলেন বিএনপির ৩০ নেতাকর্মী

কুড়িগ্রামে বহিষ্কৃত বিএনপি নেতা কর্তৃক গণমাধ্যম কর্মীর উপর হামলা

মা-বোনদের হেনস্থা করার মত আচরণ করলে, ছাড় দেওয়া হবে না: মঞ্জুরুল হক রাহাদ

ক্লাবের পদ-পদবি দখল নিয়ে ছাত্রদলের মারামারিতে কমিটি বিলুপ্ত

আমার পক্ষে কাজ না করায় বিএনপির উপজেলা কমিটি বাতিল করা হয়েছে: নুর

লাঠি নিয়ে প্রত্যেকটি সেন্টার পাহারা দেবেন : খেলাফত মজলিসের নেতা

হেফাজত আমিরের সঙ্গে আসিফের সাক্ষাৎ, আলোচনা হলো যে বিষয়ে