ব্রাহ্মণবাড়িয়ার আখাউড়া উপজেলার মোগড়া ইউনিয়নের বচিয়ারা গ্রামে ঝড়ে উপড়ে পড়ার পর আবার ‘দাঁড়িয়ে যাওয়া’ আলোচিত কড়ই গাছটি অবশেষে কেটে ফেলেছে প্রশাসন। শুক্রবার (৫ জুন) দুপুরে পুলিশ ও ফায়ার সার্ভিসের সহযোগিতায় গাছটি গোড়া থেকে অপসারণ করা হয়।
গত কয়েকদিন ধরে গাছটিকে ঘিরে এলাকায় ব্যাপক কৌতূহল সৃষ্টি হয়। ঝড়ে শিকড়সহ উপড়ে পড়ার পর গাছটি আবার দাঁড়িয়ে গেছে—এমন দাবিকে কেন্দ্র করে শত শত মানুষ সেখানে ভিড় করেন। কেউ এটিকে অলৌকিক ঘটনা বলে দাবি করেন, আবার অনেকে এর বৈজ্ঞানিক ব্যাখ্যা তুলে ধরেন। গাছটির গোড়ায় আগরবাতি ও মোমবাতি জ্বালানো, মানত করা এবং শিকড় সংগ্রহের ঘটনাও দেখা যায়।
আখাউড়া উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট কফিল উদ্দিন মাহমুদ বলেন, ‘গাছটি ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় ছিল। এ ছাড়া এটিকে কেন্দ্র করে ধর্মীয় অনুভূতি ব্যবহার করে মানুষকে বিভ্রান্ত করার আশঙ্কা তৈরি হয়েছিল। তাই পুলিশ ও ফায়ার সার্ভিসের সহায়তায় গাছটি কেটে ফেলা হয়েছে।’
তিনি জানান, গাছের মালিকের সঙ্গে আলোচনা করেই এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। গাছ বিক্রি থেকে পাওয়া অর্থ মসজিদ বা মাদরাসায় অনুদান হিসেবে দেওয়ার বিষয়ে মালিক সম্মতি দিয়েছেন।
এদিকে গাছটিকে ঘিরে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমেও ব্যাপক আলোচনা শুরু হয়। অনেকেই এটিকে প্রাকৃতিক ও বৈজ্ঞানিক ঘটনা হিসেবে ব্যাখ্যা করেন। আখাউড়া বড়বাজারের বাসিন্দা মির্জা মারুফ ফেসবুকে লেখেন, ঝড়ে উপড়ে পড়া গাছের ওপরের অংশ কেটে ফেলার ফলে ওজন কমে গিয়ে এবং শিকড় ও মাটির স্থিতিস্থাপকতার কারণে গাছটি আংশিকভাবে সোজা হয়ে দাঁড়িয়ে থাকতে পারে। বিষয়টিকে রহস্যময় বা অলৌকিক হিসেবে প্রচার না করার আহ্বান জানান তিনি।
অন্যদিকে স্থানীয় অনেক বাসিন্দা ঘটনাটিকে সৃষ্টিকর্তার কুদরত হিসেবে দেখছেন। গাছের মালিক মাহবুব মুন্সী বলেন, ‘কিভাবে এমন হয়েছে তা আল্লাহই ভালো জানেন। গাছটি দেখতে প্রতিদিন শত শত মানুষ আসছিল। অনেকে মানত করছিলেন, শিকড় সংগ্রহ করছিলেন।’
কাঠুরিয়া মো. আমিন মিয়া জানান, ঝড়ে উপড়ে যাওয়ার পর মাটিতে থাকা অবস্থায় তিনি গাছটি কাটতে শুরু করেন। ডালপালা কেটে ফেলার পর গাছটি আবার সোজা হয়ে দাঁড়িয়ে যায়। তার মতে, ওপরের অংশের ভার কমে যাওয়ায় এমনটি ঘটতে পারে।







