ঝিনাইদহের কালীগঞ্জের নিভৃত পল্লিতে বটগাছের ডালে গড়ে উঠেছে ব্যতিক্রমী এক রেস্টুরেন্ট। প্রকৃতির নির্মল হাওয়া উপভোগের জন্য সবুজে ঘেরা পরিবেশ, পাশে নিঃশব্দে বয়ে চলা পানির ধারা আর মাথার ওপরে খোলা আকাশে গড়ে তোলা হয়েছে এটি। প্রকৃতির এমন অপূর্ব মঞ্চেই গড়ে উঠেছে রেস্টুরেন্টটি, যেখানে মাটিতে নয়, বরং গাছের ডালে বসেই উপভোগ করা যায় চা, কফি ও পছন্দের নানা খাবার। উপজেলার ঘোড়দহ গ্রামে বিশাল এক বটগাছের ওপর কাঠের মাচা তৈরি করে গড়ে তোলা হয়েছে এই ‘বৃক্ষ বিলাস ক্যাফে অ্যান্ড রেস্টুরেন্ট’। বাস্তবতার মাঝেই যেন স্বপ্নের মতো এক পরিবেশ, যেখানে বসলে শহরের কোলাহল ভুলে প্রকৃতির সান্নিধ্যে ডুবে যাওয়া যায় সহজেই।
কালীগঞ্জ শহর থেকে প্রায় ২৬ কিলোমিটার দূরত্ব। এখান থেকে বটগাছের ওপর রেস্টুরেন্টে খাবার খেতে যাচ্ছেন অনেকেই। বিশেষ করে বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের ছেলেমেয়ে ও শিক্ষার্থীরা বেশি যাচ্ছেন। এই ভিন্নধর্মী উদ্যোগ নিয়েছেন গ্রামের দুই কলেজপড়ুয়া তরুণ কনক হোসেন ও আবির হাসান। তাদের এই সৃজনশীল চিন্তা ইতোমধ্যে কৌতূহলী দর্শনার্থীদের আকর্ষণের কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হয়েছে। প্রতিদিনই দূর-দূরান্ত থেকে মানুষ ভিড় করছেন নতুন অভিজ্ঞতার স্বাদ নিতে। সেখানে ঘুরে দেখা যায়, রেস্টুরেন্টে উঠতে হলে গাছের গায়ে লাগানো সিঁড়ি বেয়ে উঠতে হয় ওপরে। কাঠ দিয়ে তৈরি মাচায় বসে চারপাশের সবুজ প্রকৃতি উপভোগ করা যায়। কোকিলের ডাক, পাখিদের কিচিরমিচির আর মৃদু বাতাস মিলিয়ে পুরো পরিবেশ হয়ে ওঠে প্রাণবন্ত ও মনোমুগ্ধকর। পরিবার-পরিজনের সঙ্গে এমন পরিবেশে এক কাপ চা বা প্রিয় খাবার যেন বাড়িয়ে দেয় আনন্দের মাত্রা।
ঢাকা থেকে ঘুরতে আসা দর্শনার্থী রাকিব হাসান বলেন, ‘এমন অভিজ্ঞতা আগে কখনো পাইনি। গাছের ওপর বসে চা খাওয়া সত্যিই অসাধারণ। প্রকৃতির এত কাছাকাছি এসে মনে হচ্ছে সব ক্লান্তি দূর হয়ে গেছে।’ শহরের চাকলাপাড়া এলাকার বাসিন্দা শিউলি খাতুন বলেন, আমাদের এলাকায় এমন কিছু হবে ভাবতেই পারিনি। এখন অনেক মানুষ আসছে, এতে এলাকাও পরিচিত হচ্ছে। বিশালাকৃতির বটবৃক্ষের ওপরে সুন্দর মনোরম পরিবেশে বসে প্রশান্তির শ্বাস গ্রহণ ও বিভিন্ন পছন্দের খাবার খাচ্ছে। জমির ওপর বিশালাকৃতির এ বটগাছ, তার কাণ্ড ও শাখাপ্রশাখায় তৈরি হয়েছে অন্যরকম সৌন্দর্য। তাই দূর-দূরান্তের মানুষ এখানে এসে বিভিন্ন খাবার খেয়ে মুগ্ধ হন। সরকারি ছুটির দিনে মানুষের ভিড় হচ্ছে বেশি। ফলে বটগাছকে কেন্দ্র করে এ গ্রামে তৈরি হয়েছে এক পর্যটন সম্ভাবনা। সেখানে দেখা মেলে বটতলায় দাঁড়িয়ে রয়েছে প্রাইভেট কার, মোটরসাইকেল, মাইক্রোবাস, হ্যালো বাইকসহ বিভিন্ন যানবাহন; দূর-দূরান্ত থেকে মানুষ এসেছেন। কালীগঞ্জ থেকে আসা চার বন্ধু আব্দুর রহিম, আব্দুল কুদ্দুস, মিনা খাতুন ও সোনিয়া আক্তার বলেন, ‘লোকমুখে শুনে বটগাছের ওপরের রেস্টুরেন্ট দেখতে ও খাবার খেতে এসেছি। দেখার ও খাবারের আগ্রহ তৈরি হয়, সেই আগ্রহ থেকেই এসেছি। এসে খুবই ভালো লাগছে।’
এ ব্যাপারে উদ্যোক্তা কনক হোসেন বলেন, ‘আমরা চেয়েছিলাম মানুষকে একটু ভিন্নধর্মী আনন্দ দিতে, যেন তারা প্রকৃতির কাছাকাছি এসে কিছু সময় শান্তিতে কাটাতে পারে।’ অন্য উদ্যোক্তা আবির হাসান বলেন, ‘শুরুটা ছোট হলেও ভবিষ্যতে আমরা এখানে একটি মিনি পার্ক গড়ে তুলতে চাই, যাতে দর্শনার্থীরা আরো বেশি আকৃষ্ট হয়।’







