কক্সবাজারের চকরিয়া উপজেলা বিএনপির সভাপতি এনামুল হকের বিরুদ্ধে থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ও প্রশাসনের বিভিন্ন পর্যায়ের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের হুমকি দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে।
গত রোববার রাতে পাশের আজিজনগর ইউনিয়ন-এর ‘চেয়ারম্যান লেক’-এ আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে তিনি বক্তব্য দেন। অনুষ্ঠানে চকরিয়া উপজেলা, পৌরসভা ও মাতামুহুরী উপজেলা বিএনপির বিভিন্ন পর্যায়ের নেতা-কর্মীরা উপস্থিত ছিলেন। মঙ্গলবার ১১ মিনিট ৫ সেকেন্ডের একটি ভিডিও ছড়িয়ে পড়ে।
ভিডিওতে আঞ্চলিক ভাষায় এনামুল হককে বলতে শোনা যায়, “চকরিয়া থানা সবকিছু দেবে না, থানা থেকে আমাদের আদায় করে নিতে হবে। আমাদের নেতা স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী।” তিনি আরও বলেন, “ওসি যদি আমাদের কথা না শোনেন, তাহলে তাঁকে গাট্টি বেঁধে চলে যাওয়ার প্রস্তুতি নিতে হবে।” একইসঙ্গে ইউএনও কার্যালয়ের কর্মকর্তাদের প্রতিও হুঁশিয়ারিমূলক বক্তব্য দেন তিনি।
আরও বড় কর্মকর্তাদের উদ্দেশে বক্তব্যে তিনি বলেন, “১৫ দিনের মধ্যে কাজ না করলে মসজিদ থেকে খাটিয়া এনে শুইয়ে দেওয়া হবে। এরপর হয় আমিরাবাদ, না হয় কক্সবাজারে পাঠিয়ে দেওয়া হবে।”
এ ঘটনায় অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন চকরিয়া উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক এম মোবারক আলী, সাবেক সাধারণ সম্পাদক ফখরুদ্দীন ফরায়েজী, পৌরসভা বিএনপির সহসভাপতি গিয়াস উদ্দিন এবং সাবেক কাউন্সিলর নুরুল আমিনসহ বিভিন্ন ইউনিয়ন বিএনপির নেতারা।
অভিযোগের বিষয়ে এনামুল হক বলেন, তাঁর বক্তব্য বিকৃতভাবে উপস্থাপন করা হচ্ছে। তিনি দাবি করেন, জনগণের স্বার্থে কথা বলতে গিয়ে আঞ্চলিক ভাষায় কিছু মন্তব্য করেছেন। তাঁর ভাষ্য, “যাঁরা জনগণের স্বার্থ দেখবেন না, তাঁদের এখানে থাকা উচিত হবে না—এ কথাই বলেছি।”
এ বিষয়ে চকরিয়া থানার ওসি মোহাম্মদ মনির হোসেন বলেন, তিনি ভিডিও বক্তব্যটি শোনেননি। তবে তাঁর সঙ্গে এনামুল হকের সম্পর্ক ভালো এবং এখন পর্যন্ত তিনি কোনো অনৈতিক তদবির করেননি ।







