গত এক সপ্তাহে অব্যাহত ভারী বৃষ্টিপাত ও উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢলে নেত্রকোনায় প্রায় ১১ হাজার হেক্টর জমির ধান পানিতে তলিয়ে গেছে। হাওরাঞ্চলে সারা বছরের একমাত্র ফসল পানিতে তলিয়ে যাওয়ায় কৃষকদের মাঝে চরম হাহাকার পরিলক্ষিত হচ্ছে।
নেত্রকোনা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক মো. আমিরুল ইসলাম জানান, চলতি বোরো মওসুমে নেত্রকোনা জেলায় বোরো আবাদের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে ১ লাখ ৮৫ হাজার ৫৪৭ হেক্টর। শেষ পর্যন্ত জেলার কৃষকরা লক্ষ্যমাত্রা ছাড়িয়ে আরও বেশ কিছু জমিতে বোরো ধানের আবাদ করে।
যখন হাওরে অল্প অল্প ধান কাটা শুরু হয় তখনই জেলার বিভিন্ন অঞ্চলে শুরু হয় বৃষ্টি ও শিলাবৃষ্টি। এরপর গত এক সপ্তাহের ভারী বৃষ্টিপাত ও উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢলে নদ-নদীর পানি বৃদ্ধি অব্যাহত রয়েছে। সে সঙ্গে বেশিরভাগ হাওর ও বিলে বৃষ্টির পানি জমে জলাবদ্ধতা তৈরি হয়ে ফসলি জমির ধান পানিতে তলিয়ে যায়।
কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর সূত্রে জানা যায়, ভারী বৃষ্টিপাত ও পাহাড়ি ঢলে নেত্রকোনা জেলার বিভিন্ন হাওর ও বিলে প্রায় ১১ হাজার হেক্টর জমির ধান পানিতে নিমজ্জিত হয়েছে। এই পরিমাণ জমির ধান নষ্ট হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। হাওরসহ সারা জেলায় ক্ষতিগ্রস্ত জমির পরিমাণ হচ্ছে ১৮ হাজার ৪৭৮ হেক্টর। চোখের সামনে সারা বছরের একমাত্র ফসল পানিতে তলিয়ে যাওয়ায় চারদিকে কৃষকের হাহাকার পরিলক্ষিত হচ্ছে।
নেত্রকোনা পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. সাখাওয়াত হোসেন জানান, রোববার বিকেল পর্যন্ত উব্দাখালী, কংশ ও ধনু নদীর পানি বিপৎসীমার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে।
নেত্রকোনা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক মো. আমিরুল ইসলাম জানান, যদি আর কোনো প্রাকৃতিক দুর্যোগ না হয়, তাহলে হাওরের বাকি ধান এক সপ্তাহের মধ্যেই কাটা শেষ হবে। জমিতে পানি জমে থাকায় হারভেস্টার মেশিন ধান কাটতে পারছে না। ধান কাটা শ্রমিকরাই কাঁচি দিয়ে ধান কাটতে বাধ্য হচ্ছেন। যেখানেই সুযোগ পাচ্ছেন, সেখানেই কৃষকরা ভেজা ধান শুকানোর জন্য ছুটছেন।
জেলা প্রশাসক খন্দকার মুশফিকুর রহমান বলেন, সরকারের পক্ষ থেকে ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের সহায়তা প্রদানের জন্য পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে।







