গত কয়েকদিন ধরে তীব্র লোডশেডিং হচ্ছে। দিনে ৬ থেকে ৭ বার বিদ্যুৎ চলে যায়। আধা ঘণ্টা বিদ্যুৎ থাকলে দুই থেকে আড়াই ঘণ্টা থাকে না। সবচেয়ে বেশি লোডশেডিং হচ্ছে রাতে। প্রায় রাতই ভ্যাপসা গরমে জন্য নির্ঘুম থাকতে হচ্ছে।
বিরক্তিভরা কণ্ঠে এভাবেই কথাগুলো বলছিলেন টাঙ্গাইল সদর উপজেলার সিলিপুরের চল পাকুল্লা গ্রামের বাসিন্দা সুজন মিয়া। শুধু সুজনই নয় টাঙ্গাইলে গত দুই সপ্তাহ ধরে বিদ্যুতের নজিরবিহীন লোডশেডিংয়ে জনজীবন বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে। একদিকে তীব্র দাবদাহ, অন্যদিকে ঘণ্টার পর ঘণ্টা বিদ্যুৎ না থাকায় চরম দুর্ভোগে পড়েছেন সাধারণ মানুষ। বিশেষ করে গ্রামীণ এলাকায় দিনে-রাতে গড়ে ৮ থেকে ১০ ঘণ্টারও বেশি লোডশেডিং হওয়ায় ব্যাহত হচ্ছে কৃষিকাজ ও ব্যবসা-বাণিজ্য।
জেলা বাংলাদেশ বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ড (পিডিবি) সূত্রে জানা যায়, পিডিবির মোট গ্রাহক সংখ্যা ৩ লাখ ৬৫ হাজার। এতে জেলায় তাদের বিদ্যুতের চাহিদা রয়েছে ১৬০/১৭০ মেগাওয়াট। কিন্ত গত দুই সপ্তাহ ধরে ১০০/১১০ মেগাওয়াট পাওয়া যাচ্ছে। এতে প্রতিদিন প্রায় ৭০ মেগাওয়াট কম পাওয়া যাচ্ছে। যার ফলে লোডশেডিং হচ্ছে।
জেলা পল্লী বিদ্যুত অফিস সূত্রে জানা যায়, বর্তমানে পল্লী বিদ্যুতের জেলার ৭ উপজেলায় গ্রাহক সংখ্যা প্রায় ৬ লাখ ২৪ হাজার। এতে বিদ্যুতের চাহিদা রয়েছে ১৯৮ মেগাওয়াট। কিন্ত বিদ্যুৎ পাওয়া যাচ্ছে ১৩৪ মেগাওয়াট। এতে প্রতিদিন প্রায় ৬৪ মেগাওয়াট কম পাওয়া যাচ্ছে।
স্থানীয়রা জানায়, বিদ্যুতের ঘনঘন লোডশেডিংয়ে গ্রামাঞ্চলের মানুষজন চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন। বিশেষ করে শিশু ও বৃদ্ধরা পড়েছেন বিপাকে। পাশাপাশি ইরি ধানে ঠিক মত সেচ দিতে পারছেন না তারা। পাশাপাশি পোল্ট্রি খামার নিয়ে বিপাকে পড়েছেন অনেকে। এ ছাড়া বিদ্যুতের অভাবে ব্যবসা-বাণিজ্যে ক্ষতি হচ্ছে।
টাঙ্গাইল সদর উপজেলার সিলিপুরের চল পাকুল্লা গ্রামের বাসিন্দা কৃষক জুলহাস উদ্দিন জাগো নিউজকে বলেন, আগে বিদ্যুৎ খুব ভালো ছিল। কয়েকদিন ধরে বিদ্যুৎ আসে আর যায়। দিনের বেশির ভাগ সময়ই বিদ্যুৎ থাকে না। অন্যদিকে রাত ১১টার পরে দুই-এক ঘণ্টা বিদ্যুৎ থাকে। পরে আর বিদ্যুতের কোনো খবরই থাকে না।
তিনি বলেন, বিদ্যুতের অভাবে বিশেষ করে ইরি ধানের ঠিক সেচ দেওয়া হচ্ছে না। ঠিক মতো পানি দেওয়া না গেলে ধানের উৎপাদন ক্ষতিগ্রস্ত হবে।
ঘনঘন লোডশেডিংয়ের কারণে শিক্ষার্থীদের সমস্যার সম্মুখীন হতে হচ্ছে। চলমান প্রাথমিক সমাপনী পরীক্ষায় অংশ নেওয়া শিক্ষার্থী আলতাফ হোসেন বলেন, দিনে-রাতে বারবার বিদ্যুৎ চলে যাওয়ায় ঠিকমত পড়াশোনা করতে পারছি না। গরমে বসে থাকা কষ্টকর হয়ে যায়।
টাঙ্গাইল শহরের ব্যবসায়ী রুবেল বলেন, লোডশেডিং এতো তীব্রই যে আইপিএসের চার্জ পর্যন্ত শেষ হয়ে যায়। এতে দোকান অন্ধকার হয়ে যায়। প্রচন্ড গরমে ক্রেতারা বসতে চায় না। ফলে আমাদের ব্যবসায় ক্ষতি হচ্ছে।
এ ব্যাপারে পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির জেলা শাখার জেনারেল ম্যানেজার ছানোয়ার হোসেন বলেন, প্রতি ঘণ্টাই বিদ্যুতের চাহিদা ও সরবরাহ আপ-ডাউন করে। চাহিদার তুলনায় বিদ্যুৎ কম পাওয়ায় লোডশেডিং দেওয়া হচ্ছে। এতে সাধারণ মানুষ ও আমাদের কষ্ট হচ্ছে।
বিষয়টি নিয়ে টাঙ্গাইল জেলা বাংলাদেশ বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ড (পিডিবি) তত্বাবধায়ক প্রকৌশলী ওবায়দুল ইসলাম বলেন, দুই সপ্তাহের ধরে চাহিদার তুলনায় বিদ্যুতের সরবরাহ কম পাওয়া যাচ্ছে। জাতীয় গ্রীডে পাওয়ারে সমস্যার কারণে আমাদের সরবারাহ কম দিয়ে থাকে।
চাহিদার তুলনায় বিদ্যুৎ সরবারাহ কম পাওয়ার কথা উল্লেখ করে পিডিপি’র নির্বাহী প্রকৌশলী মুহাম্মদ আনোয়ারুল ইসলাম বলেন, চাহিদার তুলনায় বিদ্যুৎ সরবারাহ কম পাচ্ছি। আমার আওতাধীন ২৭ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ দরকার। কিন্ত আমি পাচ্ছি ১৩ কিংবা ১৪ মেগাওয়াট। যার কারণে লোড শেডিং দেখা হচ্ছে।







