নাগরিকদের নিরাপদ বসবাস ও নির্বিঘ্ন চলাচল নিশ্চিত করতে শরীয়তপুর জেলা শহরে আধুনিক নজরদারি ব্যবস্থা চালু করেছে জেলা প্রশাসন। শহরের প্রায় ১৪ কিলোমিটার এলাকাজুড়ে বসানো হয়েছে ১২০টি সিসিটিভি ক্যামেরা।
এই নজরদারি ব্যবস্থার সঙ্গে যুক্ত করা হয়েছে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) প্রযুক্তি। সংশ্লিষ্টরা জানান, এআই–সমৃদ্ধ ক্যামেরার মাধ্যমে দুর্ঘটনা, যানজট, অগ্নিকাণ্ড, বিস্ফোরণ, বিকট শব্দ, হট্টগোল, সন্দেহজনক চলাফেরা, চুরি, ডাকাতি ও ছিনতাইয়ের মতো ঘটনা দ্রুত শনাক্ত করা সম্ভব হবে।
জেলা প্রশাসনের আশা, প্রযুক্তিনির্ভর এই উদ্যোগ শহরের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি উন্নত করতে এবং জরুরি সেবাদান কার্যক্রম আরও দ্রুততর করতে সহায়ক হবে।
জেলা প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে, জেলা প্রশাসক তাহসিনা বেগমের উদ্যোগে পুরো শহরকে সিসি ক্যামেরার আওতায় আনার কাজ শুরু হয়। তিনটি প্রধান সড়ককে কেন্দ্র করে স্থাপন করা হয়েছে নজরদারি ব্যবস্থা। একটি আংগারিয়া সেতু থেকে শহর হয়ে ঢাকামুখী সড়ক, একটি মনোহর বাজার হয়ে চাঁদপুরমুখী সড়ক এবং অন্যটি জেলা প্রশাসকের কার্যালয় থেকে পাকারমাথা, বটতলা ও পালং বাজার হয়ে পালং স্কুলমুখী সড়ক। এসব সড়ক ও সংযোগ পথের প্রবেশ ও বহির্গমন মুখে ক্যামেরা স্থাপন করা হয়েছে।
কীর্তিনাশা নদীর কোটাপাড়া এলাকায় নৌপথ পর্যবেক্ষণেও ক্যামেরা বসানো হয়েছে।
শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, হাসপাতাল, বাসস্ট্যান্ড, ধর্মীয় উপাসনালয়, গুরুত্বপূর্ণ সরকারি ও বেসরকারি স্থাপনা এবং বাজারগুলোও নজরদারির আওতায় আনা হয়েছে। সড়কের পাশের বিদ্যুতের খুঁটিতে স্থাপিত ক্যামেরাগুলোতে বিদ্যুৎ ও সোলার সংযোগ রয়েছে। ভিডিও সংরক্ষণ ও পর্যবেক্ষণের জন্য দ্রুতগতির ইন্টারনেট সংযোগ স্থাপন করা হয়েছে।
জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে একটি আধুনিক কন্ট্রোল রুম স্থাপন করা হয়েছে, যেখান থেকে সার্বক্ষণিক মনিটরিং করা হবে। আইনশৃঙ্খলা সংক্রান্ত কার্যক্রমে জেলা প্রশাসনের পাশাপাশি জেলা পুলিশের কাছেও এ ব্যবস্থার নিয়ন্ত্রণ থাকবে।
জেলা প্রশাসক তাহসিনা বেগম বলেন, ইভটিজার, মাদককারবারি ও কিশোর গ্যাংসহ বিভিন্ন অপরাধী চক্র শনাক্ত করতে পৌর এলাকার গুরুত্বপূর্ণ ১৪ কিলোমিটার সড়কে ১২০টি এআই প্রযুক্তির ক্যামেরা স্থাপন করা হয়েছে। এতে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে সহায়ক হবে। ভবিষ্যতে ধাপে ধাপে পুরো জেলাকে এ প্রযুক্তির আওতায় আনার পরিকল্পনা রয়েছে।







