চট্টগ্রামের রাউজান উপজেলার পূর্বগুজরা ইউনিয়নের অলিমিয়া হাট বাজারে মো. মুজিব (৫৬) নামের এক যুবদল কর্মীকে প্রকাশ্যে গুলি করে হত্যা করা হয়েছে।
বুধবার (২৫ ফেব্রুয়ারি) ইফতারের পর সন্ধ্যা সোয়া ৭টার দিকে এ ঘটনা ঘটে। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, প্রতিদিনের মতো আরেক যুবদল কর্মী মো. মফিজ সওদাগরের ফলের দোকানের সামনে আড্ডা দিচ্ছিলেন মুজিব। এ সময় ৩-৪ জন অস্ত্রধারী যুবক এসে তাকে দোকানের সামনের রাস্তায় লক্ষ্য করে গুলি করে।
গুলি করে দুর্বৃত্তরা দ্রুত ঘটনাস্থল ত্যাগ করে। পরে স্থানীয়রা গুরুতর আহত অবস্থায় মুজিবকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নেওয়ার চেষ্টা করলে চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন বলে জানা গেছে।
মফিজের সঙ্গে অস্ত্রধারীদের হালকা ধস্তাধস্তি হয়। গুলি মফিজের দোকানের দেওয়ালও ভেদ করে এবং তিনি অল্পের জন্য গুলিবিদ্ধ হওয়া থেকে রক্ষা পান। এসময় গুরুতর আহত অবস্থায় মুজিবকে রাউজান উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হয়।
সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
প্রত্যক্ষদর্শী মো. মফিজ বলেন ‘বাজারে বিভিন্ন দোকানের সামনে অনেক মানুষ ছিল। হঠাৎ অস্ত্রধারীরা এসে মুজিবকে গুলি করে। আমি এক-দুই ইঞ্চির জন্য গুলিবিদ্ধ হওয়া থেকে রক্ষা পাই। অস্ত্রধারীদের আমি ধরার চেষ্টা করি।
কিন্তু বাজারের অন্যরা ভয়ে এগিয়ে আসেনি। সম্ভবত অস্ত্রধারীরা মোটরসাইকেলে এসে গুলি করে আবার মোটরসাইকেলেই পালিয়েছে।’
নিহত মুজিব মধ্যম আধার মানিক এলাকার আনজুর বাবার বাড়ির মৃত আবদুল মোনাফের ছেলে। তার বাড়ি থেকে ঘটনাস্থল মাত্র ৫০০ গজ দূরে। স্থানীয়রা জানান, কয়েকটি গুলি মুজিবের মাথায় লেগেছে এবং তার মাথার মগজ বের হয়ে গেছে।
খবর শুনে পূর্বগুজরা পুলিশ ফাঁড়ি (তদন্ত) কেন্দ্রের পুলিশের একটি দল ঘটনাস্থলে ছুটে যান। রাউজান থানা পুলিশ জানায়, লাশ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য মর্গে পাঠানোর জন্য প্রক্রিয়া চলছে।
স্থানীয় একটি সূত্র জানায়, এলাকার এক ছেলে ও মেয়ের প্রেম সংক্রান্ত ঘটনার জের ধরে প্রেমিক ছেলেটিকে মারধরের প্রতিবাদ করায় কথা কাটাকাটির জেরে মুজিবকে হত্যা করা হতে পারে। নিহত মুজিব ইউনিয়ন যুবদলের সদস্য ও বর্তমান এমপি গিয়াস উদ্দিন কাদের চৌধুরীর অনুসারী। মুজিব একসময় বিদেশ ছিলেন। প্রবাস থেকে এসে বিয়ে-শাদির ওকালতি (ঘটক) করে সংসার চালাতেন। ৫ আগস্ট ক্ষমতা পরিবর্তনের পর স্থানীয় রাজনীতিতে সক্রিয় হন। মারুফ ও শারুফ নামের ২ ছেলের জনক মুজিব।