আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে কুষ্টিয়া জেলার চারটি আসনে মোট ৩৪টি মনোনয়নপত্র দাখিল হয়েছে। এর মধ্যে কুষ্টিয়া-১, ২ ও ৩ নম্বর আসনে বিএনপি ও জামায়াতের মনোনীত প্রার্থীদের বাইরে কোনো বিদ্রোহী মনোনয়ন জমা পড়েনি, একমাত্র কুষ্টিয়া-৪ আসনেই বিএনপির অভ্যন্তরীণ দ্বন্দ্ব স্পষ্ট হয়েছে।
কুষ্টিয়া-১ (দৌলতপুর) আসনে মোট ৯টি মনোনয়নপত্র দাখিল হয়েছে। এ আসনে বিএনপির মনোনীত ধানের শীষ প্রার্থী সাবেক সংসদ সদস্য রেজা আহমেদ বাচ্চু মোল্লা এবং জামায়াতের মনোনীত প্রার্থী দৌলতপুর উপজেলা জামায়াতের আমির মোহাম্মদ বেলাল উদ্দীনসহ অন্যরা কাগজ জমা দিলেও কোনো বিদ্রোহী প্রার্থী মাঠে নামেননি। ফলে প্রার্থী সমীকরণ এখানে তুলনামূলকভাবে পরিষ্কার।
কুষ্টিয়া-২ (মিরপুর–ভেড়ামারা) আসনে দাখিল হয়েছে ৮টি মনোনয়নপত্র। এই আসনে বিএনপির ব্যারিস্টার রাগীব রউফ চৌধুরী এবং জামায়াতের নায়েবে আমির আবদুল গফুর দাঁড়িপাল্লা ও যথাক্রমে ধানের শীষ ও দলের মনোনীত প্রার্থী হিসেবে কাগজ জমা দেন। তাদের বাইরে বিএনপি বা জামায়াতের কেউ বিদ্রোহী প্রার্থী হিসেবে মনোনয়ন দাখিল করেননি।
কুষ্টিয়া-৩ (সদর) আসনে মোট ৭টি মনোনয়নপত্র দাখিল হয়েছে। এখানে বিএনপির মনোনীত প্রার্থী ইঞ্জিনিয়ার জাকির হোসেন সরকার এবং জামায়াতের পক্ষ থেকে কুষ্টিয়া জেলা জামায়াতের ইউনিট সদস্য আমির হামজা মনোনয়নপত্র জমা করেন। আনুষ্ঠানিক প্রার্থীদের বাইরে জোটভুক্ত কোনো দলের বিদ্রোহী প্রার্থী কাগজ তোলেননি বলে জানা গেছে।
সবচেয়ে বেশি মনোনয়ন পড়েছে কুষ্টিয়া-৪ (কুমারখালী–খোকসা) আসনে, যেখানে মোট ১০টি মনোনয়নপত্র দাখিল হয়েছে। বিএনপির আনুষ্ঠানিক প্রার্থী সাবেক সংসদ সদস্য সৈয়দ মেহেদী আহমেদ রুমি এবং জামায়াতে প্রার্থী কুমারখালী উপজেলা জামায়াতের নায়েবে আমির আফজাল হোসেন।
পাশাপাশি বিদ্রোহী হিসেবে মনোনয়ন জমা দিয়েছেন কুষ্টিয়া জেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক শেখ সাদী ও কুমারখালী উপজেলা বিএনপির সভাপতি সাবেক পৌর মেয়র নুরুল ইসলাম আনছার প্রামাণিক। কুমারখালী উপজেলা বিএনপির সভাপতি আজ সন্ধ্যায় তার ফেসবুকে পোস্টের মাধ্যমে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে নির্বাচন করার ঘোষণা দিয়েছেন। এই দুই বিদ্রোহী প্রার্থী থাকায় কুষ্টিয়া-৪ আসনে বিএনপির ভেতরকার দ্বন্দ্বই এখন আলোচনার কেন্দ্রবিন্দু।







