‘সরকার বিচার কীভাবে করবে? তাদের মুখে জুলাই, অন্তরে আওয়ামী লীগ’

Post Image

জুলাই গণহত্যার বিচারের কাজটি সরকারের কাছে দায়সারা একটি ব্যাপারে পরিণত হয়েছে। সরকার কীভাবে বিচার করবে? বিএনপির তো মুখে জুলাই, অন্তরে আওয়ামী লীগ। জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) ‘জুলাই গণহত্যা ও গুমের বিচার পর্যবেক্ষণ বিষয়ক কমিটি’র আলোচনা সভায় বক্তারা এসব কথা বলেন।

মঙ্গলবার (১৩ অক্টোবর) বিকেলে রাজধানীর বাংলামোটরে এনসিপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে আয়োজিত আলোচনা সভায় বক্তারা এসব কথা বলেন। এনসিপির জুলাই গণহত্যা ও গুমের বিচার পর্যবেক্ষণ বিষয়ক কমিটি ‘জুলাই গণহত্যার বিচার : রাজনৈতিক প্রতিশ্রুতি ও বাস্তবতার ব্যবধান’ শীর্ষক আলোচনা সভার আয়োজন করে।

বিএনপি সরকারের সমালোচনা করে জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) মুখ্য সংগঠক (দক্ষিণাঞ্চল) হাসনাত আবদুল্লাহ বলেন, বিএনপির মুখে জুলাই, কিন্তু অন্তরে আওয়ামী লীগ— এমন একটি সম্পর্ক দেশের রাজনীতিতে অস্বস্তি তৈরি করেছে। দীর্ঘ দেড় দশকের বেশি সময় ধরে নির্যাতন, মামলা ও কারাবরণের শিকার বিএনপি নেতাকর্মীদের সঙ্গে ৫ আগস্টের পর বিএনপিতে আসা নতুন অংশের পার্থক্য রয়েছে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

হাসনাতের অভিযোগ, আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে নির্যাতিত বিএনপির অনেক নেতাকর্মী এখন দলের ভেতরে গুরুত্ব পাচ্ছেন না। অন্যদিকে, নতুন করে বিএনপিতে যুক্ত হওয়া একটি অংশ ব্যবসায়িক সুবিধা ও প্রভাব বিস্তারের সুযোগ পাচ্ছেন। তবে এসব অভিযোগের পক্ষে বক্তব্যে বিস্তারিত প্রমাণ তুলে ধরেননি তিনি।

এনসিপির যুগ্ম সদস্য সচিব অ্যাডভোকেট আব্দুল্লাহ আল আমিন বলেন, জুলাই গণহত্যার বিচারের কাজটি একটা দায়সারা ব্যাপারে পরিণত হয়েছে। দুবাইয়ে বেনজীরকে আটক করা হলো, সংসদে দাঁড়িয়ে ক্রেডিট নিল সরকার। পরে যখন বেনজীর ছাড়া পেল, তখন আর সরকার কিছু বলে না, একদম চুপ।

অ্যাডভোকেট আব্দুল্লাহ আল আমিন বলেন, বিএনপি জুলাই গণঅভ্যুত্থানের বিচার কীভাবে করবে? চাঁদাবাজি সামলাতেই কূল পায় না। সরকার বলছে, তাদের দলে চাঁদাবাজের স্থান নেই। অথচ দলটিতে এক কোটি চাঁদাবাজ দিয়ে ভরা। চাঁদাবাজ বাদ দিলে দলের কেউ থাকবে না। বিএনপি ১৭ বছর নির্যাতিত হয়েছে। তার মানে এই নয় যে স্বাস্থ্যকেন্দ্র ভেঙে দেবে, সালমান মুক্তাদিরের স্টুডিও ভেঙে ফেলবে।

এনসিপির যুগ্ম আহ্বায়ক অ্যাডভোকেট মুজাহিদুল ইসলাম শাহীন বলেন, আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইবুনালে মাত্র ১৩টি মামলার বিচার চলছে। আমরা ট্রাইবুনাল বাড়ানোর কথা বলে আসছি, কিন্তু সেটি করা হচ্ছে না। জুলাই গণঅভ্যুত্থানের সবচেয়ে বড় সুবিধাভোগী দল বিএনপি সরকারকে জাতীয় নাগরিক পার্টির পক্ষ থেকে বলছি, জুলাই গণহত্যার বিচার কাজ ত্বরান্বিত করুন।

এনসিপির যুগ্ম সদস্য সচিব অ্যাডভোকেট হুমায়রা নূর বলেন, কিছু অসাধু পুলিশ জুলাই গণহত্যার মামলার তদন্তের দায়িত্ব পেয়েছে। এরা গাদ্দার একেকজন। আবার কয়েকদিন আগে দেখা গেল, একটি মামলার রায় হলো সেখানে সাজাপ্রাপ্ত সাতজনই পলাতক। ট্রাইবুনালে এবং তদন্তের দায়িত্বে যারা রয়েছেন, তাদের কাছে আল্লাহর ওয়াস্তে অনুরোধ করতে চাই, শহীদদের রক্তের প্রতি দায়বদ্ধতা অনুভব করুন, বিচারের কাজে আন্তরিক হোন।

ন্যাশনাল লইয়ার্স অ্যালায়েন্সের সদস্য সচিব অ্যাডভোকেট এরশাদুল বারী খন্দকার বলেন, যেই বিরোধী দল ১৭ বছরে আন্দোলন গড়ে তুলতে পারেনি, সেই দলটিকে বিশ্বাস করা আমাদের সবচেয়ে বড় ভুল ছিল। এই সরকারের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমেদের কথা শুনলে মনে হয় না সরকার জুলাই গণহত্যার বিচার করতে চায়।

জুলাই শহীদ মাহমুদুর রহমান সৈকতের বোন সাবরিনা আফরোজ সেবন্তী বলেন, খুনি স্বৈরাচার শেখ হাসিনা, সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল এবং সাবেক আইজিপি আব্দুল্লাহ আল মামুনের শাস্তির যে রায় হলো সেখানে আব্দুল্লাহ আল মামুনের শাস্তিটা কোনোভাবেই যথেষ্ট নয়। আমরা ফাঁসির রায় কার্যকরে সুনির্দিষ্ট উদ্যোগ দেখতে চাই। সরকার যেন আমাদের স্পেসিফিক আপডেটটা দেয়।

সাবরিনা আফরোজ সেবন্তি বলেন, অনেক ক্ষেত্রে দেখা যায় যে, দোষী নয় তাদেরও আসামি করা হয়েছে। আমার ভাইয়ের হত্যায় যারা জড়িত তাদের শাস্তি যেন নিশ্চিত হয় এমন বিচার চাই। আমার ভাইকে মারার পর সাংবাদিকরা জিজ্ঞেস করেছিল, আমরা মামলা করব কিনা, আমরা করিনি। ৫ আগস্টের পর মামলা করেছি, কারণ এখন বিচার চাওয়া যায়। যে আমার ভাইকে খুন করেছে, তার কাছে তো বিচার চাইতে পারি না।

জুলাই ওয়ারিয়র্স অ্যালায়েন্সের সভাপতি ও আহত জুলাই যোদ্ধা মো. সালমান হোসেন বলেন, ১৯ জুলাই জুমার দিন ছিল, আমি সেদিন গুলিবিদ্ধ হয়ে আহত হই। আমি যেমন ট্রমার মধ্য দিয়ে রাত কাটাই, সেরকম ট্রমার মধ্য দিয়ে যদি প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের রাত কাটাতে হতো, তাহলে তিনি বুঝতে পারতেন যে, কেন আমরা বিচারের জন্য এত কথা বলি।

এনসিপির কেন্দ্রীয় সংগঠক অ্যাডভোকেট আরমান হোসাইনের সঞ্চালনায় আলোচনা সভায় জুলাই ওয়ারিয়র্স অ্যালায়েন্সের সহ-সভাপতি আহত জুলাই যোদ্ধা মায়মুনা মায়া বলেন, আমরা প্রতিটি রাজনৈতিক দলকে প্রশ্ন করতে চাই, তারা জুলাই গণহত্যার বিচার কার্যকরে কতটুকু আন্তরিকতা নিয়ে কাজ করছেন।

এই বিভাগের আরও খবর

রাজনীতি

সর্বশেষ খবর

ধর্মমন্ত্রীর সঙ্গে খেলাফত আন্দোলন নেতাদের সাক্ষাৎ

‘সরকার বিচার কীভাবে করবে? তাদের মুখে জুলাই, অন্তরে আওয়ামী লীগ’

যুক্তরাষ্ট্রের উদ্দেশে ঢাকা ছাড়লেন চরমোনাই পীর

‘চুয়েটে না ফেরার শর্তে’ পুলিশি পাহারায় ক্যাম্পাস ছাড়লেন ভিসি

বিএনপিকে শেখ হাসিনার ভূতে ধরেছে: মামুনুল হক

পুনর্গঠন হচ্ছে এনসিপির কেন্দ্রীয় কমিটি, বাদ যাচ্ছে উত্তরাঞ্চল-দক্ষিণাঞ্চলের মুখ্য সংগঠকের পদ

পালিয়েও সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড অব্যাহত রেখেছে ফ্যাসিস্টরা: ড. ইউনূসকে হেনস্তার প্রতিবাদে জামায়াত আমির

রাষ্ট্রের উদাসীনতায় অগ্নিকাণ্ডে মানুষ সর্বস্ব হারাচ্ছে: সাদিক কায়েম

সর্বাধিক পঠিত

নির্বাচনি সফরে জনগণের অভূতপূর্ব সাড়ায় জামায়াত আমিরের কৃতজ্ঞতা

অধিকার হরণকারীদের বিরুদ্ধে রাজপথেই জবাব দেওয়া হবে: হাসনাত আবদুল্লাহ

গণভোটের রায় বাস্তবায়নের আন্দোলনে নামছে ১১ দলীয় জোট

জনগণের সঙ্গে বিশ্বাসঘাতকতা করছে বিএনপি: হান্নান মাসউদ

ড. ইউনূসসহ সব উপদেষ্টার দেশত্যাগে নিষেধাজ্ঞা চেয়ে লিগ্যাল নোটিশ

শহীদ আবরার ফাহাদকে শিবির ট্যাগ দিয়ে হ/ত্যা করা হয়েছে

‘দলীয় বিবেচনায়’ ১১ বিশ্ববিদ্যালয়ে ভিসি নিয়োগে জামায়াতের প্রতিবাদ

শহীদদের স্বপ্ন বাস্তবায়নে সকলকে দেশ গঠনে হাত দিতে হবে : প্রধানমন্ত্রী

বিরোধীদল চক্রান্ত শুরু করছে, আমাদের ভোটাররা আঙুল চুষবে না: ওয়াদুদ

আইনমন্ত্রীকে চ্যালেঞ্জ ছুড়ে দিলেন সারোয়ার তুষার