খাগড়াছড়ির গুইমারা সরকারি কলেজের ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ অর্জুন নাথের বিরুদ্ধে চরম স্বেচ্ছাচারিতা ও অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে। কলেজের সাধারণ শিক্ষার্থী ও শিক্ষকদের একাংশ এই অভিযোগ তুলেছেন।
শিক্ষার্থীদের অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, কলেজের সাবেক অধ্যক্ষ নাজিম উদ্দিন দায়িত্ব পালনকালে ভর্তি নিশ্চিত করতে শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে দুই বছরের সমুদয় ফি এককালীন আদায় করেছিলেন। গত জুন মাসে নাজিম উদ্দিন অবসর গ্রহণ করলে কলেজের প্রভাষক অর্জুন নাথ ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করেন। দায়িত্ব নেওয়ার পরই তিনি শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে নতুন করে অতিরিক্ত এক হাজার টাকা ফি দাবি ও আদায় করেন।
অতিরিক্ত ফি আদায়ের বিষয়টি নিয়ে কলেজের শিক্ষক পরিষদ বৈঠকে বসে এবং সর্বসম্মতিক্রমে শিক্ষার্থীদের অতিরিক্ত টাকা ফেরত দেওয়ার সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়। তবে শিক্ষকদের অভিযোগ, মিটিংয়ের পরদিনই ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ একক সিদ্ধান্তে সেই সিদ্ধান্ত বাতিল করেন এবং জানিয়ে দেন যে তিনি সাবেক অধ্যক্ষের মেয়াদের কোনো দায় নেবেন না।
শিক্ষার্থীদের পক্ষে দ্বিতীয় বর্ষের ছাত্র তৌফিকুর রহমান ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, “আমি দিনমজুরি করে নিজের পড়ার খরচ চালাই। এই এক হাজার টাকা আয় করতে আমাকে তিনটি দিন কঠোর পরিশ্রম করতে হয়। অধ্যক্ষ স্যার নিজের ইচ্ছামতো আমাদের কাছ থেকে অতিরিক্ত টাকা রেখে দিতে পারেন না। আমরা আমাদের কষ্টের টাকা ফেরত চাই।”
ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষের এমন একমুখী সিদ্ধান্তে ক্ষুব্ধ সহকর্মীরাও। কলেজের আরেক প্রভাষক (শিক্ষক) অভিযোগ করে বলেন, “শিক্ষকদের সমন্বিত সভায় আমরা সবাই মিলে সিদ্ধান্ত নিয়েছিলাম যে শিক্ষার্থীদের অতিরিক্ত টাকা ফেরত দেওয়া হবে। কিন্তু অর্জুন স্যারের একক স্বেচ্ছাচারিতার কারণেই আজ শিক্ষার্থীরা তাঁদের ন্যায্য পাওনা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন।”
কলেজের ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ অর্জুন নাথের বিরুদ্ধে অভিযোগ জানতে গেলে কলেজের আরেকজন শিক্ষক বলেন, আমরা শিক্ষকরা সবাই মিটিং করে শিক্ষার্থীদের বাড়তি টাকা ফেরত দেয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছি, কিন্তু অর্জুন স্যারের একক সেচ্ছাচারিতায় ছাত্ররা তাদের ন্যায্য টাকা পাচ্ছেন না।
কলেজের ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ অর্জুন নাথের সাথে যোগাযোগ করলে তিনি বলেন, খণ্ডকালীন শিক্ষকদের বেতন দেয়ার জন্য ছাত্রদের কাছ থেকে ১০০০/- দরে ২৫৫ জন ছাত্রের থেকে টাকা নেয়ার কথা স্বীকার করেন।
গুইমারা কলেজের সভাপতি গুইমারা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা বলেন, দুই পক্ষেরই অভিযোগ শুনেছি, কলেজে গিয়ে কাগজপত্র যাচাই বাছাই করে প্রয়োজনীয় ব্যাবস্থা গ্রহন করবো।
অভিযোগ রয়েছে, ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ অর্জুন নাথের বিরুদ্ধে কলজের বিভিন্ন কাজে,টেন্ডারে দুর্নীতির অভিযোগ উঠেছে বিগত সময়ে।
আরো অভিযোগ রয়েছে, ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ অর্জুন নাথের বিরুদ্ধে বিগত সরকারের আমলে এক ছাত্রীকে শ্লীলতাহানির গুরুতর অভিযোগ উঠেছিল। সে সময় বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমে এ নিয়ে প্রতিবেদন প্রকাশিত হলেও তৎকালীন রাজনৈতিক প্রভাবে তিনি পার পেয়ে যান বলে দাবি সংশ্লিষ্টদের। শুনা গিয়েছে তাকে নাকি ১ মাসের ছুটি দিয়েছে সমস্যা সমাধান হওয়া পর্যন্ত সে ছুটি কাটাবে। পরবর্তীতে জ্যেষ্ঠতার সুযোগ নিয়ে তিনি ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষের চেয়ারে বসেন।
আমরা আরো জানতে পারি গুইমারা সরকারি কলেজের সাবেক ও বর্তমান শিক্ষার্থীদের ক্ষোভ রয়েছে যে, কলেজ সরকারি হওয়ার পর ও কেন নতুন বিসিএস অধ্যক্ষ পাচ্ছি না কেন ? কেন দুর্নীতি ও শ্লীলতাহানির অভিযোগ থাকা সত্বেও তাকে ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষের চেয়ারে বসিয়েছে?
শিক্ষার্থী আরো বলেন আমরা দ্রুত নতুন অধ্যক্ষ চাই।







