রংপুরের পীরগঞ্জ উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়নে ইউরিয়া সার পেতে ভোগান্তিতে পড়েছেন কৃষকরা। চাহিদা অনুযায়ী সার না পেয়ে এক দোকান থেকে অন্য দোকানে ঘুরেও অনেক কৃষককে শেষ পর্যন্ত ডিলার পয়েন্টে দীর্ঘ লাইনে দাঁড়িয়ে সার সংগ্রহ করতে হচ্ছে।
উপজেলার বিভিন্ন এলাকা ঘুরে দেখা গেছে, স্থানীয় সার বিক্রির দোকানগুলোতে প্রয়োজনীয় সার না পেয়ে কৃষকরা ডিলারদের দোকানে ভিড় করছেন। সেখানে ঘণ্টার পর ঘণ্টা অপেক্ষা করেও অনেকে চাহিদা অনুযায়ী সার পাচ্ছেন না। দীর্ঘ অপেক্ষার পর অনেক কৃষককে এক বস্তা করে সার দেওয়া হচ্ছে।
পীরগঞ্জের সাত নম্বর বড় আলমপুর ইউনিয়নের ডিলার মেসার্স তৃপ্তি ট্রেডার্স ও ১২ নম্বর মিঠিপুর ইউনিয়নের সাহা ভান্ডারে সরেজমিনে গিয়ে সার নেওয়ার জন্য কৃষকদের দীর্ঘলাইন দেখা যায়। লাইনে দাঁড়িয়ে কৃষকদের এক বস্তা করে সার দেওয়া হচ্ছে।
এদিকে স্থানীয়দের অভিযোগ, মেসার্স তৃপ্তি ট্রেডার্সের স্বত্বাধিকারী তোজাম্মেল হক দুলু তার ভাতিজা মানিকের দোকানে সার সরবরাহ করে সেখান থেকে বেশি দামে বিক্রি করছেন। তবে এ অভিযোগ অস্বীকার করেছেন তোজাম্মেল হক দুলু।
কৃষক আব্দুল করিম বলেন, সকাল থেকে বসে আছি। এখনো পর্যন্ত চার ঘণ্টা হয়ে গেছে, তবুও সার পাইনি।
কৃষক রবিউল প্রধান বলেন, আমার জমিতে চার বস্তা সারের প্রয়োজন, কিন্তু পেয়েছি এক বস্তা। এভাবে হলে আমাদের ফসলি জমি নষ্ট হয়ে যাবে।
এ বিষয়ে পীরগঞ্জ উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা সুমন আহমেদ বলেন, পীরগঞ্জ উপজেলায় বর্তমানে ৪৯০ টন ইউরিয়া সার মজুত রয়েছে। চলতি মাসে আরো ৩৫৩ টন ইউরিয়া সার বরাদ্দ রয়েছে, যা উত্তোলন করা হচ্ছে। পাশাপাশি আগামী মাসের বরাদ্দের সারও চলতি মাসে উত্তোলনের অনুমতি দেওয়া হয়েছে। সার নিয়ে কোনো ধরনের সিন্ডিকেট যাতে তৈরি হতে না পারে, সে বিষয়েও আমরা কাজ করছি। আশা করছি, পীরগঞ্জ উপজেলায় সার নিয়ে বড় ধরনের কোনো সংকট তৈরি হবে না।







