বরিশালের বাবুগঞ্জে রহমতপুর বাসস্ট্যান্ডের যাত্রীছাউনিতে সন্তান প্রসব করেন মানসিক ভারসাম্যহীন এক নারী। জন্মের পর প্রায় দুই ঘণ্টা সেখানে পড়ে থাকার পর খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে ছুটে যান উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) আসমা উল হুসনা। সংকটাপন্ন নবজাতককে দ্রুত হাসপাতালে পাঠানোর ব্যবস্থা করা হলেও শেষ পর্যন্ত শিশুটিকে বাঁচানো যায়নি।
শুক্রবার (১৪ আগস্ট) সকাল সাড়ে ৮টার দিকে রহমতপুর বাসস্ট্যান্ডের যাত্রীছাউনিতে ওই নারী সন্তান প্রসব করেন। স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, প্রায় ৩৮ বছর বয়সী ওই নারী দীর্ঘদিন ধরে বাসস্ট্যান্ড এলাকায় অবস্থান করতেন। তাঁর স্বজন বা পরিবারের বিষয়ে স্থানীয়দের কাছে স্পষ্ট কোনো তথ্য নেই।
স্থানীয় বাসিন্দা শাহীন জানান, সন্তান প্রসবের পরও দুই ঘণ্টার বেশি সময় শিশুটিকে কোনো প্রাথমিক চিকিৎসা বা প্রয়োজনীয় স্বাস্থ্যসেবা দেওয়া হয়নি। পরে প্রশাসনের কর্মকর্তারা ঘটনাস্থলে এসে শিশুটিকে হাসপাতালে নেওয়ার ব্যবস্থা করেন।
খবর পেয়ে ইউএনও আসমা উল হুসনার সঙ্গে ঘটনাস্থলে যান উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. মো. মনিরুল ইসলাম, উপজেলা সমাজসেবা কর্মকর্তা মো. মিজানুর রহমানসহ সংশ্লিষ্টরা। নবজাতকের অবস্থা সংকটাপন্ন দেখে ইউএনওর গাড়িতে করে দ্রুত তাকে বরিশালের শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়। একই সঙ্গে সন্তান প্রসবকারী ওই নারীকে প্রয়োজনীয় চিকিৎসা দেওয়ার ব্যবস্থাও করা হয়।
হাসপাতালে পৌঁছানোর পর চিকিৎসকেরা নবজাতককে মৃত ঘোষণা করেন। চিকিৎসকদের প্রাথমিক ধারণা, জন্মের পর প্রয়োজনীয় পরিচর্যা ও উষ্ণতা নিশ্চিত না হওয়া এবং দীর্ঘ সময় ঠান্ডা পরিবেশে থাকার কারণে শিশুটির শরীরের তাপমাত্রা কমে হাইপোথারমিয়া হয়ে থাকতে পারে। তবে মৃত্যুর সুনির্দিষ্ট কারণ পরীক্ষা-নিরীক্ষার পর নিশ্চিত হওয়া যাবে।
বাবুগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আসমা উল হুসনা বলেন, “বিষয়টি জানার সঙ্গে সঙ্গে আমি ঘটনাস্থলে যাই এবং নবজাতককে দ্রুত হাসপাতালে নেওয়ার ব্যবস্থা করি। একজন মানসিক ভারসাম্যহীন নারী সন্তান প্রসব করেছেন—এমন খবর পাওয়ার পরও যদি কেউ সহযোগিতার জন্য এগিয়ে না আসেন, সেটি অত্যন্ত দুঃখজনক। প্রত্যক্ষদর্শীদের উচিত ছিল দ্রুত প্রশাসন বা স্বাস্থ্য বিভাগের সঙ্গে যোগাযোগ করা।







