রাবি প্রতিনিধি, মো. আতিকুর রহমান

রাবিতে ‘ফিরে দেখা জুলাই’ স্মৃতিচারণ ও আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত

Post Image

জুলাই গণঅভ্যুত্থানের দ্বিতীয় বর্ষপূর্তি উপলক্ষে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় (রাবি) শাখা সমাজতান্ত্রিক ছাত্রফ্রন্টের আয়োজনে 'ফিরে দেখা জুলাই' শীর্ষক স্মৃতিচারণ ও আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে।

আজ বুধবার বিকেলে বিশ্ববিদ্যালয়ের ইসমাইল হোসেন সিরাজী ভবনে আয়োজিত অনুষ্ঠানে জুলাই আন্দোলনে অংশ নেওয়া কয়েকজন শিক্ষার্থী নিজেদের অভিজ্ঞতা তুলে ধরেন। পরে জুলাইয়ের শহীদদের স্মরণে এক মিনিট নীরবতা পালন করা হয়।

অনুষ্ঠানে সমাজতান্ত্রিক ছাত্রফ্রন্টের কেন্দ্রীয় সভাপতি সালমান সিদ্দিকী বলেন, শিক্ষা রক্ষার আন্দোলন ও গণসংস্কৃতি রক্ষার লড়াই একে অপরের সঙ্গে সম্পর্কযুক্ত। সুস্থ সংস্কৃতি ও মূল্যবোধ ছাড়া কোনো রাজনৈতিক আন্দোলন দীর্ঘস্থায়ী হতে পারে না। তাঁর ভাষ্য, জুলাই কেবল কোটা সংস্কারের আন্দোলন ছিল না; বরং দীর্ঘদিনের বৈষম্য, দমন-পীড়ন ও বঞ্চনার বিরুদ্ধে মানুষের জমে থাকা ক্ষোভের বহিঃপ্রকাশ ছিল।

তিনি বলেন, জুলাইকে ব্যর্থ বলা ইতিহাসের বড় অসঙ্গতি। ভাষা আন্দোলন, ১৯৬২ সালের শিক্ষা আন্দোলন, ১৯৬৯-এর গণঅভ্যুত্থান, ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধ কিংবা ১৯৯০ সালের স্বৈরাচারবিরোধী আন্দোলনের মতো কোনো আন্দোলনই ব্যর্থ হয় না। জুলাই ছিল একটি গণঅভ্যুত্থান, বিপ্লব নয়। বিপ্লবের মাধ্যমে রাষ্ট্রের রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক ও প্রাতিষ্ঠানিক কাঠামোয় আমূল পরিবর্তন আসে, কিন্তু জুলাই-পরবর্তী সময়ে সেই ধরনের পরিবর্তন ঘটেনি।


আলোচনা সভায় গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগের অধ্যাপক আ-আল মামুন বলেন, জুলাই অভ্যুত্থান বাংলাদেশের সাংস্কৃতিক ও রাষ্ট্রচিন্তার নতুন পরিসর তৈরি করলেও পরবর্তীকালে বিভিন্ন পক্ষ নিজেদের রাজনৈতিক ও সাংস্কৃতিক অবস্থান প্রতিষ্ঠার চেষ্টা করেছে, যা জুলাইয়ের সর্বজনীন চেতনাকে সংকুচিত করার ঝুঁকি তৈরি করেছে। 

তিনি বলেন, আন্দোলনের পর ক্ষমতার অপব্যবহার বা অনিয়মের সমালোচনা করা মানে জুলাইকে অস্বীকার করা নয়; বরং সমালোচনামূলক মূল্যায়নই আন্দোলনের চেতনাকে শক্তিশালী করে।

সভাপতির বক্তব্যে বিশ্ববিদ্যালয় শাখা সমাজতান্ত্রিক ছাত্রফ্রন্টের আহ্বায়ক ফুয়াদ রাতুল বলেন, জুলাই গণঅভ্যুত্থান কোনো একক ব্যক্তি বা সংগঠনের নেতৃত্বে নয়; সাধারণ ছাত্র-জনতার স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণে গড়ে উঠেছিল। আন্দোলনের শুরু থেকেই একটি গোষ্ঠী নেতৃত্ব ও কৃতিত্ব নিজেদের নিয়ন্ত্রণে নেওয়ার চেষ্টা করেছে। তাঁর দাবি, সংকটময় সময়ে অনেক কথিত সমন্বয়ক অনুপস্থিত থাকলেও সাধারণ শিক্ষার্থীরাই আন্দোলনকে টিকিয়ে রেখেছিলেন।


তিনি আরও বলেন, জুলাইয়ের মূল আকাঙ্ক্ষা ছিল বাকস্বাধীনতা, গণতান্ত্রিক অধিকার ও বৈষম্যহীন সমাজ প্রতিষ্ঠা। কিন্তু পরবর্তী সময়ে বিভাজনমূলক বিতর্কের মাধ্যমে সেই চেতনাকে দুর্বল করার চেষ্টা হয়েছে। কাঙ্ক্ষিত সামাজিক ও রাজনৈতিক পরিবর্তনের জন্য আদর্শভিত্তিক সংগঠিত শক্তি গড়ে তোলারও প্রয়োজন রয়েছে।

এই বিভাগের আরও খবর

ক্যাম্পাস

News Image

ভূমিকম্পে কাঁপল পাকিস্তান

রবিবার, ২৯ জুন, ২০২৫

সর্বশেষ খবর

রাবিতে ‘ফিরে দেখা জুলাই’ স্মৃতিচারণ ও আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত

‎পাবিপ্রবি শাখা ছাত্রশিবিরের নেতৃত্বে উল্লাস-শামীম

জুলাই শহীদ ও আহতদের স্মরণে আলোচনা সভা ও দোয়া মাহফিল

ঢাবিতে জুলাই শহীদদের স্মরণ ও বিচারের দবিতে ছাত্রীদের মোমবাতি প্রজ্বলন

শিক্ষার্থীদের কুরআন ও ফুলের চারা উপহার দিল শাবিপ্রবি ছাত্রী সংস্থা

মাতৃত্বকালীন সময়ে ছাত্রীদের জন্য বিশেষ ছাড়ের ঘোষণা দিলো রাবি

স্থায়ীভাবে ছাত্রলীগমুক্ত ক্যাম্পাস রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়

জাবি দেশের প্রথম ‘নিষিদ্ধ ছাত্রলীগমুক্ত’ ক্যাম্পাস

সর্বাধিক পঠিত

জবিতে দফায় দফায় সংঘর্ষ, শিক্ষক-শিক্ষার্থীসহ আহত ৩০

উপাধ্যক্ষ থেকে অধ্যক্ষ পদে পদোন্নতি পেলেন প্রকৌশলী শাহেলা পারভীন

টিএসসিতে দুই নারীকে লাঞ্ছিত, ঢাবির ৩ শিক্ষার্থী বহিষ্কার

সাদিক কায়েমের স্ত্রীকে ‘ছিনতাইকারী’ আখ্যা দিয়ে বিয়ে বাতিলের দাবি একদল ছাত্রীর

চবির সেই ছাত্রদল নেতা বান্ধবীসহ আপত্তিকর অবস্থায় আটক

সেন্ট্রাল ইউনিভার্সিটির জন্য ‘অধ্যাদেশ মঞ্চ’ তৈরি করছে শিক্ষার্থীরা

‘আল্লাহ সম্মান রেখেছেন’, ঢাবিতে প্রথম হয়েই শুকরিয়া জানালেন শিবির নেতা

কর্মচারী সমিতির নেতাকে মারধর করলো জবি ছাত্রদল নেতা

রাবিতে সাইবার থ্রেটস এন্ড ডিজিটাল ডিফেন্স' শীর্ষক ওয়ার্কশপ অনুষ্ঠিত

ডাকসু থেকে পদত্যাগের ঘোষণা সর্ব মিত্র চাকমার