রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (রাকসু) উদ্যোগে 'সাইবার থ্রেটস এন্ড ডিজিটাল ডিফেন্স' শীর্ষক ওয়ার্কশপ অনুষ্ঠিত হয়েছে। শনিবার (৩১ জানুয়ারি) বিকেল ৩টায় বিশ্ববিদ্যালয়ের সিনেট ভবনে শিক্ষার্থীদের সাইবার সচেতনতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে এই অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়।
ওয়ার্কশপে অ্যাকাউনটেন্ডেড এবং জামতারা নামে দুইটি মুভি প্রদর্শন করে সাইবার হামলা সম্পর্কে শিক্ষার্থীদের সচেতন করা হয়। এছাড়া সামাজিক ইঞ্জিনিয়ারিং, ডিপ ফেক, ভয়েজ ক্লোনিং, অনলাইন গ্রুমিং ইত্যাদি বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনা করা হয়।
ওয়ার্কশপের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে রাকসু'র বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিষয়ক সম্পাদক তোফায়েল আহমেদ তোফা বলেন, চলতি মাসের আর্থিক বাজেটের আওতায় শিক্ষার্থীদের জন্য একটি ‘টেক হেল্প ডেস্ক’ চালুর পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। এই হেল্প ডেস্কের মাধ্যমে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা ডিভাইসসংক্রান্ত সমস্যা, ই-মেইল, ফেসবুকসহ বিভিন্ন অনলাইন প্ল্যাটফর্মে প্রযুক্তিগত যেকোনো সমস্যার সমাধান পাবেন। শিক্ষার্থীদের দৈনন্দিন প্রযুক্তিগত সমস্যাগুলো সহজ ও দ্রুত সমাধানের লক্ষ্যেই এ উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
রাকসু'র সাধারণ সম্পাদক সালাউদ্দিন আম্মার বলেন, রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে প্রায় ২০ হাজার ৮০০ অনাবাসিক শিক্ষার্থী রয়েছেন। আবাসনের প্রয়োজনীয়তার সুযোগ নিয়ে কেউ যেন অগ্রিম পাঁচ হাজার বা আট হাজার টাকা আদায় করতে না পারে, সে বিষয়ে সবাইকে সতর্ক থাকতে হবে। মাত্র পাঁচশ টাকায় এক বছরের আবাসনসংক্রান্ত পাওনা পাওয়া যাবে—এমন বিভ্রান্তিকর প্রচারণা বন্ধ করা জরুরি।
রাবি উপ-উপাচার্য (শিক্ষা) অধ্যাপক ড. ফরিদ উদ্দিন খান বলেন, অধিকাংশ সাইবার অপরাধের ক্ষেত্রে মানুষ প্রলোভনের ফাঁদে পড়ে প্রতারিত হয়। অল্প টাকায় বেশি লাভের আশায় শিক্ষিত ও সচেতন মানুষও প্রতারণার শিকার হচ্ছেন। তাই সন্দেহজনক কোনো বার্তা বা কল এলে তা যাচাই না করে কোনো সিদ্ধান্ত নেওয়া উচিত নয়। প্রলোভন এড়িয়ে সতর্ক থাকাই সাইবার ঝুঁকি কমানোর সবচেয়ে কার্যকর উপায়। সাইবার অপরাধ শুধু অনলাইনেই নয়, জীবনের অন্যান্য ক্ষেত্রেও বড় ধরনের ঝুঁকি তৈরি করতে পারে বলে তিনি মন্তব্য করেন।
অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন রাবি কোষাধ্যক্ষ ড. মতিয়ার রহমান, রেজিস্ট্রার ইফতেখারুল আলম মাসুদ, রাজশাহী মেট্রোপলিটন পুলিশের উপ পুলিশ কমিশনার মো. গাজিউর রহমান পিপিএম, অনুষ্ঠানের স্পিকার রুহুল আমিনসহ শতাধিক শিক্ষার্থী।







