মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে উত্তেজনা বাড়ায় বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেলের দাম বেড়ে ব্যারেলপ্রতি ৯০ ডলার ছাড়িয়েছে।
সোমবার ব্রেন্ট ক্রুডের দাম প্রায় ২ শতাংশ বেড়ে ৯০ দশমিক ১৯ ডলারে পৌঁছায়। গত সপ্তাহে ব্রেন্টের দাম ১৫ দশমিক ৯ শতাংশ বেড়েছিল, যা এপ্রিলের পর সবচেয়ে বড় সাপ্তাহিক বৃদ্ধি।
অন্যদিকে, যুক্তরাষ্ট্রের ওয়েস্ট টেক্সাস ইন্টারমিডিয়েট (ডব্লিউটিআই) অপরিশোধিত তেলের দামও বেড়ে ব্যারেলপ্রতি ৮৪ দশমিক ২০ ডলারে উঠেছে। গত সপ্তাহে এর দাম বেড়েছিল ১৫ দশমিক ৫ শতাংশ।
বিশ্লেষকদের মতে, হরমুজ প্রণালি দিয়ে তেল পরিবহন বাধাগ্রস্ত হওয়ার আশঙ্কাই বাজারে অস্থিরতা তৈরি করেছে। আইএনজির বিশ্লেষকরা বলেন, উপসাগরীয় অঞ্চলে উত্তেজনা কমার কোনো লক্ষণ না থাকায় ব্রেন্টের দাম ৯০ ডলারের ওপরে উঠেছে।
গত সপ্তাহান্তে মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাত আরও তীব্র হয়। যুক্তরাষ্ট্র ইরানের বিরুদ্ধে টানা নবম রাতের মতো হামলা চালিয়েছে বলে জানিয়েছে। একই সময়ে যুক্তরাষ্ট্রের মিত্র কুয়েত ও বাহরাইনও ইরানের হামলার খবর জানিয়েছে।
ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস (আইআরজিসি) দাবি করেছে, হরমুজ প্রণালির একটি অনিরাপদ দক্ষিণাঞ্চলীয় পথ দিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করার সময় দুটি তেলবাহী জাহাজ বিস্ফোরিত হয়ে অচল হয়ে গেছে। তবে রয়টার্স এ ঘটনার সত্যতা তাৎক্ষণিকভাবে নিশ্চিত করতে পারেনি।
সাম্প্রতিক দিনগুলোতে হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ চলাচলও বাধাগ্রস্ত হচ্ছে। যুক্তরাষ্ট্র বলছে, তারা ইরানের বন্দরগুলোর ওপর নৌ অবরোধ কার্যকর করছে। অন্যদিকে, ইরান বলছে, প্রণালির নিয়ম ভঙ্গকারী জাহাজগুলোকে তারা লক্ষ্যবস্তু করছে।
হরমুজ প্রণালি দিয়ে বিশ্বের মোট তেল বাণিজ্যের প্রায় এক-পঞ্চমাংশ পরিবহন হয়। ফলে এই পথে অস্থিরতা বিশ্ববাজারে তেলের সরবরাহ নিয়ে উদ্বেগ বাড়াচ্ছে।
যুক্তরাজ্যের মেরিটাইম ট্রেড অপারেশনস জানিয়েছে, সোমবার ওমানের কুমজার এলাকার উত্তর-পশ্চিমে একটি জাহাজে আগুন লাগার ঘটনা ঘটেছে।
বার্কলেজের বিশ্লেষক অমরপ্রীত সিং বলেন, আগামী কয়েক সপ্তাহে বোঝা যাবে, নতুন করে অবরোধ পরিস্থিতির মধ্যে উপসাগরীয় অঞ্চল থেকে কতটা তেল রপ্তানি সম্ভব হবে। তার মতে, বাজার এখনো সম্ভাব্য সংকটের প্রভাবকে পুরোপুরি বিবেচনায় নিচ্ছে না।
রয়টার্সের তথ্য অনুযায়ী, রোববার হরমুজ প্রণালি দিয়ে চারটি জাহাজ চলাচল করেছে, যা আগের দিনের আটটির তুলনায় কম। শুক্রবারের পর থেকে অন্তত তিনটি তেলবাহী ট্যাংকার ও একটি বড় আকারের অপরিশোধিত তেলবাহী জাহাজ এই পথ দিয়ে তেল সংগ্রহের জন্য প্রবেশ করেছে।







