তেহরানের মিসাইল অংকে বিপাকে ট্রাম্প: ২৪ লাখের পিছনে আমেরিকার ব্যয় ৪৯ কোটি

Post Image


ইরান ও যুক্তরাষ্ট্র-এর মধ্যকার চলমান সংঘাত নতুন এক উত্তেজনাপূর্ণ পর্যায়ে পৌঁছেছে। মাত্র তিন দিনের মাথায় পরিস্থিতি অনেকটাই ‘ক্ষয়িষ্ণু যুদ্ধে’ রূপ নিয়েছে বলে বিশ্লেষকদের ধারণা।


তেহরানের একের পর এক ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলা বাহরাইন থেকে সংযুক্ত আরব আমিরাত পর্যন্ত বিস্তৃত অঞ্চলের প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার ওপর বাড়তি চাপ তৈরি করেছে। এতে পশ্চিমা দেশগুলোর আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থায় ব্যবহৃত ব্যয়বহুল ক্ষেপণাস্ত্রের মজুদ দ্রুত হ্রাস পাচ্ছে।


প্রতিবেদনে বলা হচ্ছে, ইরানের তুলনামূলক কম খরচের ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিহত করতে যুক্তরাষ্ট্রকে উচ্চমূল্যের প্রতিরক্ষা অস্ত্র ব্যবহার করতে হচ্ছে, যা ব্যয়ের হিসাবে বড় ধরনের বৈষম্য তৈরি করছে।


সামরিক বিশ্লেষকদের মতে, ইরান তাদের সাশ্রয়ী কিন্তু কার্যকর 'শাহেদ-১৩৬' ড্রোন এবং অন্যান্য স্বল্পপাল্লার ক্রুজ মিসাইল ব্যবহার করছে। একেকটি ইরানি ড্রোনের খরচ মাত্র ২০,০০০ ডলার (প্রায় ২৪ লাখ টাকা)। বিপরীতে, এই ড্রোনগুলো ধ্বংস করতে আমেরিকা ও তার মিত্ররা ব্যবহার করছে 'প্যাট্রিয়ট' এয়ার-ডিফেন্স সিস্টেম। প্যাট্রিয়ট সিস্টেম থেকে ছোড়া একেকটি ইন্টারসেপ্টর মিসাইলের দাম প্রায় ৪ মিলিয়ন ডলার (প্রায় ৪৯ কোটি টাকা)।


এই বিশাল অর্থনৈতিক ব্যবধান পশ্চিমা সামরিক পরিকল্পনাবিদদের ভাবিয়ে তুলেছে। আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থায় প্যাট্রিয়ট মিসাইলগুলো ইরানের ড্রোন বা ব্যালেস্টিক মিসাইল রুখতে ৯০ শতাংশের বেশি সফল হলেও, ২০ হাজার ডলারের একটি ড্রোন মারতে ৪ মিলিয়ন ডলার খরচ করা দীর্ঘমেয়াদী যুদ্ধের জন্য আত্মঘাতী হতে পারে।


প্রতিবেদন অনুযায়ী, ইরান ও আমেরিকা—উভয় পক্ষই আগামী কয়েক দিন বা সপ্তাহের মধ্যে অস্ত্রের সংকটে পড়তে পারে। ইরানের কৌশল হলো বিপুল পরিমাণ সস্তা ড্রোন ছুড়ে প্রতিপক্ষের মূল্যবান মিসাইল শেষ করে দেওয়া এবং প্রতিরক্ষা ব্যবস্থাকে ক্লান্ত করে তোলা।


সংশ্লিষ্ট মহলের ধারণা, বর্তমান গতিতে হামলা চলতে থাকলে উপসাগরীয় অঞ্চলে মজুত থাকা আমেরিকার 'পিএসি-৩' ইন্টারসেপ্টর মিসাইলগুলো খুব দ্রুত শেষ হয়ে যেতে পারে।


সংযুক্ত আরব আমিরাত (ইউএই) জানিয়েছে, গত কয়েক দিনের হামলায় তারা বিপুল সংখ্যক ইরানি ড্রোন ও মিসাইল ধ্বংস করেছে। তবে ক্রমাগত এই হামলা দুবাই এবং আবুধাবির মতো শহরগুলোর নিরাপত্তা ও স্থিতিশীলতার ওপর বড় প্রশ্নচিহ্ন এঁকে দিয়েছে। উপগ্রহ চিত্রে দেখা গেছে, ড্রোন হামলার ফলে সৌদি আরবের তেল শোধনাগারসহ বিভিন্ন স্থানে ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে।


কার্নেগি এনডাউমেন্ট ফর ইন্টারন্যাশনাল পিসের সিনিয়র ফেলো অঙ্কিত পান্ডার মতে, যুদ্ধের প্রথম ৬০ ঘণ্টার পরিস্থিতি দেখে মনে হচ্ছে এটি একটি দীর্ঘমেয়াদী অচলাবস্থার দিকে যাচ্ছে। যে পক্ষ বেশি সময় ধরে তাদের অস্ত্রের জোগান এবং রাজনৈতিক ধৈর্য ধরে রাখতে পারবে, শেষ পর্যন্ত তারাই সুবিধাজনক অবস্থানে থাকবে।

এই বিভাগের আরও খবর

আন্তর্জাতিক

News Image

কাতারে শুরু প্রথম বাংলাদেশি আম উৎসব

বৃহস্পতিবার, ২৬ জুন, ২০২৫

সর্বশেষ খবর

প্রথমবারের মতো যুক্তরাষ্ট্র সফরে যাচ্ছেন লেবাননের প্রেসিডেন্ট

কেন ইরান যুদ্ধে জিততে পারছে না যুক্তরাষ্ট্র

সাত সকালে ভূমিকম্পে কেঁপে উঠল ইরান

যুক্তরাষ্ট্রকে ‘বড় শয়তান’ বললেন ইরানের শীর্ষ সামরিক কমান্ডার

একসাথে মরার পরিকল্পনা, প্রেমিক নদীতে ঝাঁপ দেওয়ার পরেই পালালেন প্রেমিকা

আফগানিস্তানে জাতিসংঘ মিশনের প্রধান হলেন বাংলাদেশের রাবাব ফাতিমা

প্রতিবেশী দেশগুলোর সঙ্গে সংঘাতে জড়ানোর ইচ্ছা নেই: ইরান

এবার জর্ডানে মার্কিন সামরিক স্থাপনায় হামলা

সর্বাধিক পঠিত

বাংলাদেশিদের জন্য অভিবাসী ভিসা স্থগিত করল যুক্তরাষ্ট্র

বন্যায় তলিয়েছে সাপের খামার, ছড়িয়ে পড়েছে ৯০০ বিষধর সাপ

উত্তপ্ত পরিস্থিতিতে ইসলামী বিশ্বকে জরুরি পদক্ষেপের আহ্বান এরদোয়ানের

মার্কিন বাহিনীও ইরানে হামলায় যোগ দিয়েছে

ফের ইরানে ভূমিকম্প, তবে কি পারমাণবিক অস্ত্রের পরীক্ষা চালাচ্ছে তেহরান!

ইরান-ভেনেজুয়েলাকে যুক্তরাষ্ট্রের নিষেধাজ্ঞা

দূতাবাস কর্মীদের দ্রুত ইসরায়েল ত্যাগের নির্দেশ যুক্তরাষ্ট্রের

মুসলিম ব্রাদারহুডের কয়েকটি শাখাকে ‘সন্ত্রাসী সংগঠন’ তকমা দিচ্ছে ট্রাম্প

ব্রাজিল টানা ভারী বৃষ্টিতে বন্যায়: নিহত ১৪, নিখোঁজ প্রায় ৪৫

তেহরানের মিসাইল অংকে বিপাকে ট্রাম্প: ২৪ লাখের পিছনে আমেরিকার ব্যয় ৪৯ কোটি