চাঁদার দাবিতে এক ব্যবসায়ীর হাত-পা ভেঙে দেওয়া এবং স্বর্ণালংকার ছিনিয়ে নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে পাবনার সাঁথিয়া উপজেলার শ্রমিকদলের সাংগঠনিক সম্পাদক মো. রিপন সরদার ও তার সহযোগীদের বিরুদ্ধে।
ভুক্তভোগী ব্যবসায়ীর নাম মো. মিজানুর রহমান, তিনি বেড়া পৌরসভার ৮নং ওয়ার্ডের বাসিন্দা আলহাজ মো. মনজেল খানের ছেলে।
ভুক্তভোগী পরিবারের অভিযোগ, ব্যবসায়ী মো. মিজানুর রহমান সি অ্যান্ড বি বাসস্ট্যান্ড এলাকায় একটি মার্কেট নির্মাণকাজ করছেন। ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের পর থেকে রিপন সরদার, করমজা চতুর বাজার বণিক সমিতির সভাপতি ও সাঁথিয়া উপজেলা স্বেচ্ছসেবক দলের সাবেক আহ্বায়ক মরহমসহ কয়েকজন ঐ ব্যবসায়ীর কাছে মার্কেট করার জন্য ৩ লক্ষ টাকা চাঁদা দাবি করেন। সে সময় সেনাবাহিনীর কাছে অভিযোগ দেওয়া হলে সেনাবাহিনী অভিযুক্তদের ডেকে ভবিষ্যতে ঐ ব্যবসায়ীর কাছ থেকে কোন টাকা পয়সা চাইবেনা এই মর্মে মুচলেকা নিয়ে তাদের ছেড়ে দেন।
এরপর দীর্ঘদিন পরিস্থিতি স্বাভাবিক থাকলেও ঐ ব্যবসায়ী মিজানুর রহমান মার্কেটের ছাদের কাজ শুরু করলে গত দুইদিন আগে রিপন সরদার এবং তার সহযোগীরা এসে চাঁদার জন্য হুমকি দিয়ে যান। তবে চাঁদা দিতে অস্বীকৃতি জানানোয় আজ মঙ্গলবার (২৩ জুন) সকাল সাড়ে দশটার দিকে বেড়া বাজার থেকে রিপন সরদার এবং তার সহযোগীরা মিজানুর রহমান তুলে বেড়া বাজার বনিক সমিতির সভাপতি মহরমের অফিসে নিয়ে যান।
ভুক্তভোগীর পরিবারের আরো অভিযোগ, মিজানুর রহমানকে করমজা চতুর বাজার বণিক সমিতির সভাপতি ও সাঁথিয়া উপজেলা স্বেচ্ছসেবক দলের সাবেক আহ্বায়ক মহরমের অফিসে নিয়ে নিয়ে বেধড়ক মারধর করা হয়। এ সময় তার হাতে থাকা প্রায় দেড় ভরি ওজনের দুটি সোনার আংটি এবং নগদ ২০ হাজার টাকা নিয়ে যাওয়া হয়। এরপর তাকে ছেড়ে দিলে পরিবারের লোকজন দ্রুত মিজানুর রহমানকে হাসপাতালে নিয়ে যান। হাসপাতালে এক্সরে করে দেখা যায় মিজানুর রহমানের হাত ও পা ভেঙে গেছে। এছাড়াও শরীরের বিভিন্ন স্থানে পাইপ দিয়ে আঘাতের চিহ্ন রয়েছে। বর্তমানে মিজানুর রহমান পাবনা সদর জেনারেল হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
এ বিষয়ে অভিযুক্ত রিপন সরদারের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, ‘ওরা আমাকে আগে মারছে তাই আমি মারছি। ওরা এর আগে সেনাবাহিনীর কাছে আমাকে নিয়ে অভিযোগ করেন কিন্তু সেনাবাহিনী সেই অভিযোগের কোন সত্যতা পায়নি বরং ওদেরকে পানিশমেন্ট দেওয়া হয়েছে। এরপর ওর ভাই আমাকে বলছে, ভাই যা হওয়ার হয়েছে আমরা সমস্যাটা সমাধান করে ফেলি কিন্তু ওরা এই সমস্যাটা সমাধান করেনি এবং ওরা এখনো আওয়ামীলীগ আমলের মত ভাব নিয়ে চলে।
আমার লোকজন দুই একটা বাড়িবুড়ি দিয়েছে এটা নিয়ে মিথ্যা কথা বলে লাভ নাই। আর চাঁদা ও আংটি কথাটা মিথ্যা, আমি এটা নিই নাই। আর আমি এই ধরণের রাজনীতিও করিনা। মূলত ওরা আওয়ামীলীগ করে বলেই আজকে এই ধরণের ঘটনা ঘটেছে।’
এ ঘটনায় বেড়া এবং সাঁথিয়া থানায় লিখিত অভিযোগ দিয়েছে ভুক্তভোগীর পরিবার। এ বিষয়ে বেড়া মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) নয়ন কুমার সরকার বলেন, ‘আমরা অভিযোগ পাওয়ার পরে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছি। ভুক্তভোগী হাসপাতালে ভর্তি আছে, উনি আসলে উনার সাথে কথা বলবো আমরা।’







