গণভোটের রায় বাস্তবায়ন না হওয়া পর্যন্ত আন্দোলন চালিয়ে যাওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন জাতীয় সংসদের বিরোধীদলীয় নেতা ও জামায়াতে ইসলামীর আমির শফিকুর রহমান।
শুক্রবার (২৪ এপ্রিল) বিকেলে রাজধানীর সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে আয়োজিত এক গণ-সমাবেশে তিনি বলেন, আন্দোলন চলবে সংসদ ও রাজপথ—দুই জায়গাতেই। গণভোটের রায় বাস্তবায়নের দাবিতে খেলাফত মজলিস এ সমাবেশের আয়োজন করে।
আমার বাংলাদেশ পার্টির চেয়ারম্যান মজিবুর রহমান মঞ্জুর বক্তব্য টেনে শফিকুর রহমান বলেন, ৭১ সালে জনগণের রায়কে মান্য না করার কারণে একটি যুদ্ধ অনিবার্য হয়ে উঠেছিল। যারা রায় অস্বীকার করেছিলেন, তাদের পরিণতি ভালো হয়নি। এবারও যারা রায় অস্বীকার করছেন, তারা নিজেদের মুক্তিযুদ্ধের অংশ মনে করেন।
আমরা বলি, সেই মুক্তিযুদ্ধকেই সম্মান করে রায়টা মেনে নেন। এই রায় মেনে নিলে আমরা এই স্টেজে দাঁড়িয়ে এই দাবিতে আর বক্তব্য দেব না।
জামায়াত আমির বলেন, আজকে যে মঞ্চে আমরা এখানে দাঁড়িয়েছি, এই মঞ্চের সঙ্গে দুইটা জিনিস কখনো যাবে না। একটা আধিপত্যবাদ আরেকটা ফ্যাসিবাদ।
এই দুইটাকে এই মঞ্চ কখনো কবুল করবে না, বরদাশত করবে না। এই মঞ্চে যারা বসে আছেন, তারা জাতির স্বার্থে দেশপ্রেম বুকে ধারণ করার কারণে তিলে তিলে তারা প্রমাণ করেছেন—জীবন দেব, অন্যায়ের কাছে মাথা নত করব না।
তিনি অতীতের কথা টেনে বলেন, একসময় সবাই মজলুম ছিলাম, রাজপথে আন্দোলন করেছি, সংগ্রাম করেছি। তাদেরই একটা অংশ আজকে সরকারে যাওয়ার পরে অতীতের সবকিছু ভুলে গেছে। কেন আজকে এই দাবি বাস্তবায়নের জন্য আমাদেরকে রাজপথে আসতে হলো? তারা জাতির সঙ্গে বিশ্বাসঘাতকতা করেছেন এই কারণে আসতে হলো।
তারা স্বীকার করতে বাধ্য হয়েছেন জুলাই সনদ বাস্তবায়নের কার্যকরী আইনি পদ্ধতি হিসেবে গণভোটের কোনো বিকল্প নেই। এই জন্য সেই গণভোটের প্রস্তাব তাদেরই একজন করেছিলেন। তাদের নেতা নির্বাচনী প্রচার অভিযানে শহীদ আবু সাঈদের স্মৃতি হরণ করে বলেছিলেন—প্রিয় দেশবাসী ভোট দেবেন দুটা, একটা দেবেন আমাদের মার্কায় আরেকটা দেবেন গণভোটে; আপনারা সকলে গণভোটে হ্যাঁ বলবেন। এখন তারা বলছেন গণভোট অবৈধ।
তিনি আরো বলেন, পার্লামেন্টে আমরা জিজ্ঞেস করলাম, এটা কি নির্বাচনের পরে অবৈধ হলো না আগে অবৈধ ছিল? তারা এখন কোনো সময় বলেন যে, আমরা চারটার মধ্যে সাড়ে তিনটা মানি, কোনো সময় বলেন পুরাটাই অবৈধ। সুবিধাবাদী মানুষ!







