মার্কিন রাজনীতির প্রভাবশালী ব্যক্তিত্ব ও সাবেক কৌশলবিদ স্টিভ ব্যনন ইরানের বিরুদ্ধে সম্ভাব্য যুদ্ধে উপসাগরীয় দেশগুলোর ভূমিকা নিয়ে বিতর্কিত মন্তব্য করেছেন। তিনি বলেছেন, এই যুদ্ধে যদি কেউ অংশ নেয়, তবে সংশ্লিষ্ট দেশগুলোর রাজপুত্রদেরই প্রথম সারিতে পাঠানো উচিত।
শনিবার নিজের ‘ওয়ার রুম’ পডকাস্টে বক্তব্য দিতে গিয়ে ডোনাল্ড ট্রাম্প এর ঘনিষ্ঠ এই মিত্র বলেন, সম্ভাব্য স্থল অভিযানের প্রথম ধাপে উপসাগরীয় অঞ্চলের অভিজাত পরিবার ও তাদের সন্তানদের অংশগ্রহণ থাকা উচিত।
ব্যানন কটাক্ষ করে বলেন, “রাজপুত্রদের ইউনিফর্ম পরে যুদ্ধে নামতে দেখা যাক। বিশেষ বাহিনীতে তাদের কেউ আছে কি না—তা-ও দেখা দরকার।” একই সঙ্গে তিনি অভিযোগ করেন, যুক্তরাষ্ট্রের মিত্র দেশগুলো নানা ক্ষেত্রে ওয়াশিংটনকে ব্যবহার করছে।
তিনি আরও বলেন, ইসরায়েল, আরব দেশ এবং ইউরোপ—সবাই যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে ‘খেলা’ করছে, অথচ যুক্তরাষ্ট্রই সেনা পাঠাচ্ছে। তার মতে, সামরিক পদক্ষেপের পাশাপাশি বিকল্প ও কূটনৈতিক পথ খোলা রাখা উচিত।
ঐতিহাসিক প্রসঙ্গ টেনে ব্যানন বলেন, “আমরা যেন ২ হাজার ৩০০ বছর আগে আলেকজান্ডার যা করেছিলেন, সেই পথেই হাঁটছি।” তিনি ইঙ্গিত করেন, এমন যুদ্ধে আঞ্চলিক দেশগুলোকেই সামনে থাকা উচিত।
নির্দিষ্টভাবে সংযুক্ত আরব আমিরাতের কথাও উল্লেখ করে তিনি বলেন, খারগ দ্বীপে সম্ভাব্য অভিযানে তাদের এগিয়ে আসা উচিত। পাশাপাশি দুবাইকে ইরানের অর্থপাচারের কেন্দ্র বলেও অভিযোগ করেন তিনি।
এদিকে একই সময়ে কূটনৈতিক তৎপরতাও জোরদার হচ্ছে। সংঘাত এড়াতে পাকিস্তান ‘অর্থবহ’ আলোচনার প্রস্তাব দিয়েছে। ইতোমধ্যে সৌদি আরব, মিসর ও তুরস্কের প্রতিনিধিরা ইসলামাবাদে বৈঠক করছেন, যাতে উত্তেজনা কমিয়ে সম্ভাব্য যুক্তরাষ্ট্র-ইরান সংলাপের পথ তৈরি করা যায়।
উল্লেখ্য, এর আগের দিন ফ্লোরিডায় এক বিনিয়োগ সম্মেলনে বক্তব্য দিতে গিয়ে ডোনাল্ড ট্রাম্প সৌদি যুবরাজ মেকে নিয়েও মন্তব্য করেন, যা নতুন করে আলোচনার জন্ম দিয়েছে।







