যে তিন কারণে মাদুরোকে লক্ষ্যবস্তু বানালো ট্রাম্প

Post Image

ভেনেজুয়েলার উপকূলে ক্যারিবীয় সাগরে বৃহত্তম বিমানবাহী রণতরী, পারমাণবিক শক্তিচালিত ডুবোজাহাজ ও অত্যাধুনিক যুদ্ধবিমানসহ ব্যাপক সামরিক সমাবেশ গড়ে তোলার পর অবশেষে দেশটিতে হামলা চালিয়ে মাদুরোকে গ্রেপ্তার করেছে যুক্তরাষ্ট্র।

তবে কেন ট্রাম্প প্রশাসন তাকে লক্ষ্যবস্তু বানিয়েছেন সে প্রশ্নই এখন ঘুরপাক খাচ্ছে আর্ন্তজাতিক অঙ্গন থেকে।  মার্কিন কর্মকর্তারা জানান, যুক্তরাষ্ট্রে মাদুরোর বিরুদ্ধে আনা একাধিক ফৌজদারি অভিযোগের বিচারের মুখোমুখি করতে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। 

কিন্তু বিশ্লেশকরা বলছেন, যুক্তরাষ্ট্রের দৃষ্টিতে, চীনের প্রভাব থেকে ভেনেজুয়েলার জ্বালানি খাতকে আলাদা করাও এই অভিযানের অন্যতম কৌশলগত লক্ষ্য।

এদিকে ট্রাম্প প্রশাসন মাদুরোর বিরুদ্ধে এই সামরিক অভিযানের পেছনে যে তিন মূল কারণ তুলে ধরেছে, রয়টার্সের বরাতে সেগুলো নিচে তুলে ধরা হলো—

১. মাদক পাচার ও সংগঠিত অপরাধ:

গত অক্টোবরে ট্রাম্প প্রশাসন মার্কিন কংগ্রেসকে জানায়, যুক্তরাষ্ট্র মাদক কার্টেলগুলোর বিরুদ্ধে কার্যত ‘সশস্ত্র সংঘাতে’ জড়িত। তাদের অভিযোগ, যুক্তরাষ্ট্রে অবৈধ মাদক সরবরাহে ভেনেজুয়েলার প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরো গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন, যা আমেরিকান নাগরিকদের মৃত্যুর জন্য দায়ী। যদিও মাদুরো এসব অভিযোগ সরাসরি প্রত্যাখ্যান করেছেন।

এ প্রেক্ষাপটে ট্রাম্প প্রশাসন কারাগারভিত্তিক ভেনেজুয়েলান অপরাধী গোষ্ঠী ‘ত্রেন দে আরাগুয়া’ এবং মাদক চক্রের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ভেনেজুয়েলার কর্মকর্তাদের বোঝাতে ব্যবহৃত ‘কারতেল দে লোস সোলেস’ নামের গোষ্ঠীকে বিদেশি সন্ত্রাসী সংগঠন হিসেবে ঘোষণা করে।

মার্কিন তথ্যমতে, যুক্তরাষ্ট্র ও ইউরোপে পাঠানো কোকেইনের একটি বড় অংশ ভেনেজুয়েলার মাধ্যমে পাচার হয় এবং দেশটি মাদক পাচারকারী অপরাধী গোষ্ঠীগুলোর নিরাপদ আশ্রয়স্থল হিসেবে ব্যবহৃত হচ্ছে। তবে যুক্তরাষ্ট্রে সবচেয়ে বেশি ওভারডোজের জন্য দায়ী ফেন্টানলের উৎস ভেনেজুয়েলা নয় বলেও স্বীকার করেছে ওয়াশিংটন।

২. ট্রাম্পের ‘মনরো মতবাদ’ পুনরুজ্জীবন:

চলতি মাসে প্রকাশিত যুক্তরাষ্ট্রের জাতীয় নিরাপত্তা কৌশলে ট্রাম্প ১৯ শতকের মনরো মতবাদ পুনরুজ্জীবনের পক্ষে যুক্তি তুলে ধরেন।  এই মতবাদ অনুযায়ী, পশ্চিম গোলার্ধকে যুক্তরাষ্ট্রের ‘প্রভাববলয়’ হিসেবে বিবেচনা করা হয়। নতুন নিরাপত্তা কৌশলে বলা হয়েছে, ট্রাম্পের পররাষ্ট্রনীতির অগ্রাধিকারের শীর্ষে রয়েছে এই অঞ্চল।

বিশেষ করে গুরুত্বপূর্ণ খনিজ সম্পদ ও সামরিক স্থাপনাসহ কৌশলগত সম্পদে চীনের প্রবেশ ঠেকাতে হলে লাতিন আমেরিকায় মার্কিন প্রভাব জোরদার করা প্রয়োজন বলে এতে উল্লেখ করা হয়।  ভেনেজুয়েলা এই কৌশলগত হিসাবের একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ হিসেবেই বিবেচিত হচ্ছে।

৩. জ্বালানি তেল ও ভূ-অর্থনীতি:

নিকোলাস মাদুরো বারবার দাবি করে আসছেন, ওয়াশিংটনের মূল লক্ষ্য ভেনেজুয়েলার বিপুল তেলসম্পদ। বর্তমানে দেশটির তেলের বড় অংশ চীনের কাছে রপ্তানি করা হয়। ভেনেজুয়েলায় বিশ্বের সর্বাধিক প্রমাণিত তেল মজুদ রয়েছে। গত মাসে বিভিন্ন বিশ্লেষক মন্তব্য করেন, এই তেলসম্পদই ট্রাম্প প্রশাসনের সঙ্গে দরকষাকষির ক্ষেত্রে মাদুরোর সবচেয়ে বড় হাতিয়ার হতে পারে।

এই বিভাগের আরও খবর

আন্তর্জাতিক

News Image

কাতারে শুরু প্রথম বাংলাদেশি আম উৎসব

বৃহস্পতিবার, ২৬ জুন, ২০২৫

সর্বশেষ খবর

নেপালের সকল শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ছাত্ররাজনীতি নিষিদ্ধ ঘোষণা

ইরানের হামলায় সৌদি আরবে মার্কিন বিমান ঘাঁটি ‘তছনছ’

পেন্টাগন ইরানের মাটিতে সেনা পাঠালে ‘কফিন’ হয়ে ফিরে যাবে

যুদ্ধ বন্ধে নতুন শর্ত ইরানের

ট্রাম্পবিরোধী বিক্ষোভে উত্তাল যুক্তরাষ্ট্র

একাধিক যুদ্ধফ্রন্টের চাপে ‘ধ্বংসের পথে’ ইসরায়েলি সেনাবাহিনী: সেনাপ্রধান

কাতারের সঙ্গে গুরুত্বপূর্ণ প্রতিরক্ষা চুক্তিতে সই করল ইউক্রেন

হরমুজ প্রণালি দিয়ে তেলবাহী জাহাজ চলাচলের অনুমতি পেয়েছে থাইল্যান্ড

সর্বাধিক পঠিত

ফ্রিডম ফ্লোটিলার সবগুলো জাহাজ আটক

ভালোবেসে ৭০ বছর বয়সী বৃদ্ধকে ২২ বছরের তরুণী বিয়ে

ওমানে ভয়াবহ সড়ক দুর্ঘটনায় ৭ বাংলাদেশি নিহত

ইন্দোনেশিয়ায় স্কুল ধসে নিহতের সংখ্যা বেড়ে ৫৪

আবারও সীমান্তে পাল্টাপাল্টি হামলা পাকিস্তান-আফগানিস্তানের

ফ্রান্সের কাছ থেকে ১০০ রাফাল যুদ্ধবিমান পাচ্ছে ইউক্রেন

যে তিন কারণে মাদুরোকে লক্ষ্যবস্তু বানালো ট্রাম্প

বিদেশিদের জন্য বাড়ি কেনার আইন শিথিল করল সৌদি আরব

সুমুদ ফ্লোটিলা থেকে আটক ১৭১ জনকে মুক্তি দিল ইসরায়েল

গাজায় ভয়াবহ হামলায় নিহত ২৮