দীর্ঘ ১৭ বছর পর অবাধ, সুষ্ঠু, নিরপেক্ষ ও জবাবদিহিতামূলক ভোট দেওয়ার প্রত্যাশায় শহর থেকে গ্রামে ফিরছেন কর্মজীবী মানুষ। এ উৎসব নাড়ির টানে বাড়ি ফেরা নয়; এ উৎসব এ দেশের মানুষের অস্তিত্বের উৎসব, এ উৎসব স্বাধীনতা, মুক্তি ও অধিকার ফিরে পাওয়ার উৎসব বলে দাবি করছেন ভোট দেওয়ার জন্য বাড়ি ফেরা পথের যাত্রীরা।
ভোটের ছুটিতে উত্তরবঙ্গে যাওয়ার জন্য ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়কের পাশে কোনাবাড়ী স্ট্যান্ডে মঙ্গলবার সকাল ৯টার দিকে গাড়ির অপেক্ষায় দাঁড়িয়েছিলেন বাড়িতে যাওয়ার জন্য নারী শ্রমিক সাজেদা বেগম। তিনি বলেন, দীর্ঘদিন পর ভোট দেওয়ার সুযোগ পাইছি। সরকার আমাগো ছুটি দিছে। তাই ভোট দিবার যাইতাছি।
তিনি বলেন, আমরা চাই যে গরিব-দুঃখী মানুষের খোঁজ-খবর রাখব, শ্রমিকদের বেতন বাড়াব সেই ধরনের প্রার্থীকে ভোট দিব। আমরা অনেকদিন ভোট দিবার পারি নাই। এই ভোটের কারণে যদি আমাগো দুঃখ বুঝে এমন সরকার আসে তাহলে আমরা যে দিন-রাত পরিশ্রম করছি সেই পরিশ্রম সার্থক হবে।
টাঙ্গাইল যাবে এমন এক ব্যবসায়ী রফিক গাড়ির জন্য অপেক্ষা করছিলেন। কেন বাড়ি যাচ্ছেন- এ প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, দীর্ঘ ১৭ বছর আমাদের ভোট থেকে বঞ্চিত করেছিল আওয়ামী লীগ সরকার। দেশের মানুষের স্বাধীনতা হরণ করেছিল তারা। ভোটের অধিকার থেকে বঞ্চিত করা হয়েছিল আমাদের। আজ তারা পালিয়ে গেছে। এখন সময় এসেছে ভোট দেওয়ার। অস্থিতিশীল পরিবেশকে স্থিতিশীল করার জন্য, দেশের উন্নয়নের জন্য একজন নির্বাচিত সরকার প্রয়োজন। এ দেশের দীর্ঘদিনের সংকট মোকাবেলায় একজন যোগ্য নির্বাচিত প্রতিনিধি প্রয়োজন। যিনি দেশ ও দেশের মানুষকে যোগ্য অভিভাবক হিসেবে সব সংকট মোকাবেলায় আগলে রাখতে পারবেন। দেশের গণতন্ত্র পুনরুদ্ধার, সংকট মোকাবেলা ও মানুষের মুক্তির জন্য প্রতিটি নাগরিকের ভোট দেওয়া একান্ত প্রয়োজন। তাই আমার ব্যবসা প্রতিষ্ঠান বন্ধ রেখে গ্রামের বাড়িতে ভোট দিতে দিচ্ছি। একটি ভোট দেশের উন্নয়নে সহায়ক ভূমিকা পালন করতে পারে।
মঙ্গলবার বিকাল ৫টায় গার্মেন্টস ছুটির পর শ্রমিক তাজুল ইসলাম কোনাবাড়ী থেকে টাঙ্গাইল যাওয়ার জন্য বাসে উঠছিলেন; এ সময় তিনি বলেন, ভোটের জন্য ৪ দিনের ছুটি পাইছি। ভোট আমার নাগরিক অধিকার। তাই গ্রামে যাচ্ছি ভোট দেওয়ার জন্য। তবে যাত্রীদের কাছ থেকে বাস ভাড়া বেশি নেওয়া হচ্ছে। সবাই যাতে নিরাপদে ভোট দিতে যেতে পারেন- এজন্য সবার কাছ থেকে সঠিক ভাড়া নেওয়া হোক- এটাই আমার দাবি।
অপরদিকে বাস কাউন্টার থেকে বলা হয়, সামান্য ভাড়া বাড়ানো হয়েছে। তবে সবার কাছে জোর করে নয়। অনেকের কাছে টাকা না থাকায় তাদের কাছ থেকে কমও নিচ্ছি।
বাংলাদেশ গার্মেন্টস অ্যান্ড শিল্প শ্রমিক ফেডারেশনের সভাপতি শ্রমিক নেতা রফিকুল ইসলাম সুজন বলেন, গাজীপুর-১ আসনে সর্বাধিক শিল্পকারখানা থাকায় বিশেষ করে (কোনাবাড়ী-কাশিমপুর) এলাকাজুড়ে ৬৪ জেলার মানুষ নানা পেশায় কর্মজীবী হওয়ায় এই অঞ্চলে বসবাস করেন। তাদের নিজেদের প্রত্যক্ষ ভোট প্রদানের জন্য সোমবার সন্ধ্যার পর থেকে মঙ্গলবার সারাদিন বাড়ি গিয়েছে। বুধবার পর্যন্ত শ্রমিকরা গ্রামে যাবেন। সেই সুবাদে শ্রমিকরা ভিড় ঠেলে ভোট দেওয়ার জন্য উৎসবমুখর পরিবেশে গ্রামে যাচ্ছেন। এ সময়ে যাতে কোনোভাবেই বাস ভাড়া বা অন্যান্য গাড়ি ভাড়া বৃদ্ধি করা না হয় এ বিষয়ে প্রশাসনের তদারকির জোর দাবি জানান শ্রমিক নেতা রফিকুল ইসলাম সুজন।
যাওয়া এবং আসার পথে যাতে নিরাপদ পরিবেশ বজায় থাকে এ বিষয়ে সরকারের প্রতি অনুরোধ জানান তিনি।
বাসের চালক ও যাত্রীদের কাছে জানা যায়, মঙ্গলবার বিকালে যানজট না থাকলেও সকালে ও আগের রাতে প্রচণ্ড যানজটের সৃষ্টি হয়। ফলে গাজীপুর চৌরাস্তা থেকে চান্দুরা পর্যন্ত যাত্রীদের দুর্ভোগ পোহাতে হয়। তবে মঙ্গলবার বেলা ১১টার পর থেকে স্বাভাবিক পরিবেশে যানবাহন চলাচল করছে।







