চট্টগ্রামের বোয়ালখালীতে বিএনপি নেতা আজিজুল হক চৌধুরী ও তাঁর সহযোগীদের বিরুদ্ধে অবৈধভাবে বালি উত্তোলন এবং চাঁদাবাজির অভিযোগ উঠেছে।
রোববার (১১ জানুয়ারি) চট্টগ্রাম প্রেসক্লাবে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে রিদোয়ান খান নামে এক ব্যক্তি এসব অভিযোগ তুলেছেন। তিনি বলেন, আজিজুল হক চৌধুরীর নেতৃত্বে একটি চক্র দীর্ঘদিন ধরে বোয়ালখালীর চরাঞ্চলে অবৈধভাবে বালি উত্তোলন করে তা চট্টগ্রাম বন্দর চ্যানেলের মাধ্যমে সরবরাহ করে আসছে। এর মাধ্যমে স্থানীয়দের কাছ থেকে প্রতিদিন ৫ থেকে ৬ লাখ টাকা চাঁদা আদায় করা হচ্ছে।
সংবাদ সম্মেলনে রিদোয়ান খান জানান, অবৈধ বালি উত্তোলনের কারণে চরবেতাগী এলাকায় ফসলি জমিতে ভাঙন শুরু হয়। এর প্রতিবাদ করায় তাঁকে রাজনৈতিক মামলায় জড়িয়ে গ্রেপ্তার করা হয়। তিনি ২২ দিন কারাবাসের পর জামিনে মুক্তি পান।
অভিযুক্ত ব্যক্তিরা হলেন—দক্ষিণ জেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক ও শ্রীপুর-খরণদ্বীপ ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান আজিজুল হক চৌধুরী, নুরুল আবছার ওরফে রোকচার (৩৭), শহিদুল ইসলাম ওরফে টাকলা শহিদ (৪০), জানে আলম ওরফে ব্যাট্টা নারু (৪০), রাশেদুল ইসলাম (৩০) ও মো. আসিফ (২৬)।
রিদোয়ান খান অভিযোগ করেন, গত ৩ জানুয়ারি তিনি স্ত্রী ও প্রত্যক্ষদর্শীদের নিয়ে বোয়ালখালী থানায় অভিযোগ দিতে গেলে চাঁদাবাজির অভিযোগ বাদ দেওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়। পরে থানার পরামর্শ অনুযায়ী চাঁদাবাজির অভিযোগ বাদ দিয়ে প্রাণঘাতী হামলার অভিযোগে ৬ জানুয়ারি মামলা দায়ের করেন। বোয়ালখালী থানায় মামলাটি নম্বর ৩/২০২৬ হিসেবে রুজু হয়েছে।
সংবাদ সম্মেলনে আরও বলা হয়, অভিযুক্তরা এর আগেও অস্ত্র ও গোলাবারুদসহ আটক হয়েছিলেন এবং তাঁদের বিরুদ্ধে একাধিক মামলা রয়েছে বলে বিভিন্ন গণমাধ্যমে সংবাদ প্রকাশিত হয়েছে।
রিদোয়ান খান বলেন, একজন সচেতন নাগরিক হিসেবে তিনি আইনি প্রতিকার না পেয়ে সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে বিষয়টি তুলে ধরতে বাধ্য হয়েছেন। তিনি অভিযুক্তদের গ্রেপ্তার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানান। পাশাপাশি অবৈধ বালি উত্তোলন ও বন্দর চ্যানেল দিয়ে বালি পরিবহন বন্ধে সরকারের ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের হস্তক্ষেপ কামনা করেন।







