আগামী দিনের রাজনীতিতে আওয়ামী লীগ ও জামায়াতের মধ্যে মূল প্রতিদ্বন্দ্বিতা তৈরি হতে পারে বলে মন্তব্য করেছেন সাইম সাবু। তাঁর মতে, আওয়ামী লীগের অংশগ্রহণে অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচন হলে বিএনপির ভোটের হিসাব বদলে যেতে পারে। এমন পরিস্থিতিতে বিএনপির রাজনৈতিক পরিণতি জাতীয় পার্টির চেয়েও খারাপ হতে পারে বলে মনে করেন তিনি।
মঙ্গলবার (২৭ অক্টোবর) নিজের ফেসবুক পোস্টে দেওয়া এক বিশ্লেষণে এসব মন্তব্য করেন সাইম সাবু।
পোস্টে তিনি উল্লেখ করেন, গত নির্বাচনে বিএনপি জোট পেয়েছিল ৪৯ দশমিক ৯৭ শতাংশ ভোট। তাঁর হিসাব অনুযায়ী, এর মধ্যে বিএনপির নিজস্ব ভোট ২০ থেকে ২২ শতাংশ। আওয়ামী লীগের সমর্থকদের ১৫ থেকে ১৭ শতাংশ ভোটও ওই জোটের পক্ষে পড়েছিল বলে তিনি দাবি করেন। বাকি ভোট অন্যান্য দল ও ভাসমান ভোটারদের।
অন্যদিকে, জামায়াত জোট পেয়েছিল ৩১ দশমিক ৭৬ শতাংশ ভোট বলে উল্লেখ করেন তিনি। তাঁর ধারণা, এর মধ্যে জামায়াতের নিজস্ব ভোট ২২ থেকে ২৫ শতাংশ এবং আওয়ামী লীগ সমর্থকদের ৩ থেকে ৫ শতাংশ ভোট ছিল। বাকি ভোট অন্যান্য দল ও ভাসমান ভোটারদের।
সাইম সাবুর ধারণা, আওয়ামী লীগের অংশগ্রহণে জোটগত নয়, বরং দলীয়ভাবে অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচন হলে ভোটের হিসাব ভিন্ন হতে পারে। তাঁর অনুমান অনুযায়ী, এমন নির্বাচনে আওয়ামী লীগ ২৮ থেকে ৩২ শতাংশ, জামায়াত ২২ থেকে ২৫ শতাংশ এবং বিএনপি ১৮ থেকে ২২ শতাংশ ভোট পেতে পারে। ভোটের হার ৭০ শতাংশের বেশি হলে এমন ফল হতে পারে বলেও তিনি মনে করেন।
এই হিসাবের ভিত্তিতে সাইম সাবু মনে করেন, ভবিষ্যৎ রাজনীতিতে আওয়ামী লীগ ও জামায়াতের মধ্যে প্রতিদ্বন্দ্বিতা বাড়তে পারে। অন্যদিকে, আওয়ামী লীগ ঘুরে দাঁড়াতে সময় লাগবে বলে তাঁর ধারণা। এ কারণে আপাতত বিএনপি ও দলটির নেতৃত্বের জন্য অনুকূল রাজনৈতিক পরিস্থিতি রয়েছে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
পোস্টে তিনি আরও বলেন, জামায়াত ও আওয়ামী লীগের মধ্যে জোট হওয়ার সম্ভাবনা নেই। তবে বিএনপি দুই পক্ষের সঙ্গেই রাজনৈতিক সমীকরণে যুক্ত হওয়ার সুযোগ রাখায় দলটির নেতৃত্ব আরও দীর্ঘ সময় ক্ষমতায় থাকতে পারে বলে তিনি মনে করেন। তাঁর মতে, রাজনৈতিক হিসাব-নিকাশে বড় ধরনের পরিবর্তন এলে বিএনপির জন্য পরিস্থিতি কঠিন হয়ে উঠতে পারে।
তবে সাইম সাবুর উল্লেখ করা ভোটের হার ও ভবিষ্যৎ নির্বাচনের সম্ভাব্য ফলাফল তাঁর ব্যক্তিগত বিশ্লেষণ ও অনুমান। এগুলোকে বর্তমান জনসমর্থনের নিশ্চিত চিত্র বা নির্ভরযোগ্য নির্বাচনী পূর্বাভাস হিসেবে বিবেচনা করার জন্য স্বাধীন জরিপ ও তথ্য-উপাত্ত প্রয়োজন।







