নেতাদের মানহানি, সংগঠনের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন এবং বিভক্তি সৃষ্টির অভিযোগে হেফাজতে ইসলাম বাংলাদেশের ভোলা জেলা শাখার সহ-সাধারণ সম্পাদক মাওলানা রাকিবুল ইসলাম ফারুকীকে সংগঠন থেকে বহিষ্কার করা হয়েছে। তাকে সহ-সাধারণ সম্পাদক পদসহ সংগঠনের প্রাথমিক সদস্যপদ থেকেও অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (১৪ মে) দুপুরে রাজধানীর খিলগাঁওয়ে জামিয়া ইসলামিয়া মাখজানুল উলূমে অনুষ্ঠিত হেফাজতে ইসলাম বাংলাদেশের কেন্দ্রীয় ও ঢাকা মহানগরের দায়িত্বশীল নেতাদের এক বৈঠকে এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। বৈঠকে সভাপতিত্ব করেন সংগঠনের মহাসচিব সাজিদুর রহমান।
বৈঠক এবং নেতাকে বহিষ্কারের বিষয়টি শুক্রবার (১৫ মে) গণমাধ্যমে পাঠানো এক বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়।
হেফাজত নেতারা জানান, বৈঠকে সম্প্রতি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে কেন্দ্রীয় যুগ্ম মহাসচিব মাওলানা আজিজুল হক ইসলামাবাদীর বিরুদ্ধে রাকিবুল ইসলাম ফারুকীর উত্থাপিত অভিযোগ এবং সংগঠনের শীর্ষ নেতাদের বিরুদ্ধে চালানো অপপ্রচারের তীব্র নিন্দা জানানো হয়। নেতারা দাবি করেন, অভিযোগগুলো পর্যালোচনা করে এর পক্ষে কোনো গ্রহণযোগ্য প্রমাণ পাওয়া যায়নি।
বৈঠকের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে মিথ্যা অপবাদ প্রদান, বিভ্রান্তিকর প্রচারণা চালানো এবং সাংগঠনিক শৃঙ্খলা ভঙ্গের দায়ে আমিরে হেফাজতের নির্দেশে রাকিবুল ইসলাম ফারুকীর বিরুদ্ধে এ ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।
নেতারা বলেন, একটি স্বার্থান্বেষী মহল সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও বিভিন্ন প্ল্যাটফর্ম ব্যবহার করে হেফাজতে ইসলামের কেন্দ্রীয় নেতাদের বিরুদ্ধে অপপ্রচার চালিয়ে সংগঠনের মধ্যে বিভক্তি সৃষ্টির চেষ্টা করছে। তারা এ ধরনের কর্মকাণ্ডকে সত্য ও ন্যায়ের পরিপন্থি বলে উল্লেখ করেন।
বৈঠকে আরও বলা হয়, আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে শাপলা চত্বরের গণহত্যা সংক্রান্ত মামলার চূড়ান্ত প্রতিবেদন দাখিলের পূর্বমুহূর্তে মামলার বাদী মাওলানা আজিজুল হক ইসলামাবাদীর বিরুদ্ধে অপপ্রচার চালিয়ে বিচার কার্যক্রম বাধাগ্রস্ত করার ষড়যন্ত্র চলছে।
দেশবাসী ও তাওহিদী জনতার প্রতি আহ্বান জানিয়ে নেতারা বলেন, যাচাইবিহীন তথ্য ও গুজবে বিভ্রান্ত না হয়ে ধৈর্য, সচেতনতা ও ঐক্য বজায় রাখতে হবে। একই সঙ্গে সংগঠনের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন হয়– এমন কর্মকাণ্ড থেকে বিরত থাকার আহ্বানও জানানো হয়।
তারা সতর্ক করে বলেন, ভবিষ্যতে সংগঠনের শৃঙ্খলাবিরোধী কার্যক্রম বা নেতাদের বিরুদ্ধে মানহানিকর অপপ্রচার চালানো হলে সাংগঠনিক ও আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। কোনো অভিযোগ থাকলে তা লিখিতভাবে সংগঠনের মহাসচিবের কাছে জমা দেওয়ার আহ্বান জানানো হয়।
বৈঠকে হেফাজতের নায়েবে আমির মুফতি জসিম উদ্দিন, আল্লামা সালাহউদ্দীন নানুপুরী, মাওলানা মুহিউদ্দীন রাব্বানী, মাওলানা আইয়ুব বাবুনগরী, মাওলানা আব্দুল কাইয়ুম সুবহানী, মাওলানা জহুরুল ইসলাম, মাওলানা হাবিবুল্লাহ মিয়াজী, মাওলানা আজিজুল হক ইসলামাবাদীসহ কেন্দ্রীয় নেতারা উপস্থিত ছিলেন।







