সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষকদের তৃতীয় শ্রেণির কর্মচারী পরিচয় থেকে মুক্তি চেয়েছেন সহকারী শিক্ষক জান্নাতুল ফেরদৌসি।
তিনি বলেছেন, শিক্ষকদের প্রত্যাশা ১০ম গ্রেড। তবে ১১তম গ্রেড বাস্তবায়ন হলেও ১০ম গ্রেডের যৌক্তিক দাবি আদায়ের পথ খোলা রাখতে হবে।
মঙ্গলবার (২৭ অক্টোবর) বেলা সাড়ে ১১টার দিকে নিজের ফেসবুক আইডিতে দেওয়া এক পোস্টে এসব কথা বলেন তিনি।
পোস্টে জান্নাতুল ফেরদৌসি লেখেন, ১১তম গ্রেডের জন্য নতুন করে আন্দোলনের প্রয়োজন নেই। সরকার ইতিবাচকভাবে এ গ্রেড বাস্তবায়ন করবেন বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।তবে ১১তম গ্রেড বাস্তবায়ন হলেও ১০ম গ্রেডের দাবি শেষ হয়ে যাবে না বলে মনে করেন এ শিক্ষক। তার মতে, ১১তম গ্রেড বাস্তবায়নের পর আরও তথ্য, যুক্তি ও বাস্তবতার ভিত্তিতে সরকারের সঙ্গে আলোচনা করার সুযোগ থাকবে।
তিনি লেখেন, ‘আজ ১১তম গ্রেড বাস্তবায়ন হলেও, ১০ম গ্রেডের যৌক্তিক দাবির দরজাও খোলা থাকুক। দাবি হোক যুক্তিনির্ভর, আন্দোলন হোক সময়োপযোগী। ঐক্য থাকুক, আলোচনার পথও খোলা থাকুক।’
সহকারী শিক্ষকদের অবস্থান তুলে ধরে জান্নাতুল ফেরদৌসি আরও লেখেন, ‘আমরা তৃতীয় শ্রেণির কর্মচারী হিসেবে থাকতে চাই না। তৃতীয় শ্রেণির কর্মচারী থেকে মুক্তি চাই।’সহকারী শিক্ষকদের গ্রেড বাড়ানোর প্রস্তাব আটকাবর্তমানে সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষকরা জাতীয় বেতন স্কেলের ১৩তম গ্রেডে আছেন।
নতুন পে-স্কেল অনুযায়ী- ১৩তম গ্রেডে তাদের মূল বেতন শুরু হয় ২৪ হাজার টাকা দিয়ে।অন্তর্বর্তী সরকারের সময় সহকারী শিক্ষকদের দাবির পরিপ্রেক্ষিতে প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয় থেকে তাদের বেতন গ্রেড ১১তম করার প্রস্তাব জাতীয় বেতন কমিশনে পাঠানো হয়েছিল। তবে বেতন কমিশন এ বিষয়ে কোনো সিদ্ধান্ত নেয়নি।
সংশ্লিষ্টদের মতে, এ ধরনের সিদ্ধান্ত কমিশনের কার্যপরিধির মধ্যেও পড়ে না।এছাড়া সহকারী শিক্ষকদের বেতন গ্রেড দুই ধাপ বাড়িয়ে ১১তম করতে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ এবং অর্থ বিভাগেও প্রস্তাব পাঠিয়েছিল মন্ত্রণালয়। এ সিদ্ধান্ত বাস্তবায়ন হলে কর্মরত সহকারী শিক্ষকদের বর্ধিত গ্রেডে বেতন দিতে বছরে অতিরিক্ত খরচ হবে প্রায় ৮৩১ কোটি ৯১ লাখ টাকা।
অবশ্য এ বিষয়ে এখনো কোনো অগ্রগতি হয়নি।দেশে বর্তমানে সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় রয়েছে ৬৫ হাজার ৫৬৯টি। এসব বিদ্যালয়ে ৩ লাখ ৮০ হাজারের বেশি শিক্ষক রয়েছেন। সহকারী শিক্ষকের অনুমোদিত পদ তিন লাখ ৬৯ হাজারের কিছু বেশি। বর্তমানে কর্মরত আছেন সাড়ে তিন লাখের বেশি। এছাড়া সম্প্রতি প্রায় ১৪ হাজার সহকারী শিক্ষক নিয়োগ যোগদান করেছেন। তাদেরও ১১ অক্টোবর পদায়ন করা হবে।







