ভারতের আসামের বিভিন্ন এলাকায় দেশটির সরকার কর্তৃক মুসলিম সম্প্রদায়ের পরিবারের ঘরবাড়ি ও মসজিদ উচ্ছেদের ঘটনায় গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ও সংসদের বিরোধীদলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমান।
এ ঘটনায় আজ শনিবার (২৪ অক্টোবর) নিজের ফেসবুক একাউন্টে দেওয়া এক পোস্টে বাংলা ও ইংরেজীতে এক বিবৃতি দেন।
বিবৃতি জামায়াত আমির বলেন,“আসামের নগাঁও জেলার লুতুমারি-লংজাপ সংরক্ষিত বনাঞ্চলে গত রোববার (১৮ অক্টোবর) ৬০০টিরও বেশি মুসলিম পরিবারের ঘরবাড়ি গুঁড়িয়ে দিয়েছে রাজ্য সরকার। এর আগের দিন, শনিবার (১৭ অক্টোবর), আসামের তিন জেলায় আরও ৫৪৭টি পরিবারকে উচ্ছেদ করা হয়। অর্থাৎ, দুই দিনে মোট ১১০০টিরও বেশি পরিবার উচ্ছেদের শিকার হয়েছে।”
বিভিন্ন উৎসের তথ্য উল্লেখ করে ভারতে মসজিদ উচ্ছেদের ঘটনা জানিয়ে বলেন,“এ উচ্ছেদ অভিযানে ১০টিরও বেশি মসজিদও গুঁড়িয়ে দেওয়া হয়েছে বলে স্থানীয় বাসিন্দারা জানিয়েছেন। এর মধ্যে কয়েকটি মসজিদের বয়স ৫০ বছরেরও বেশি। গত বছর ভারতের আহমেদাবাদে প্রায় ৪০০ বছরের পুরোনো মাঞ্চা মসজিদের একাংশ অপসারণের বিষয়ে গুজরাট হাইকোর্টের সিদ্ধান্তের পর মসজিদটি ভাঙার পথ তৈরি হয়।’’
তিনি জানান, এর আগে, ২০২৪ সালের সেপ্টেম্বরে গুজরাটের গির সোমনাথ জেলায় কয়েকটি প্রাচীন মসজিদ ও কবরস্থানসহ বিভিন্ন স্থাপনা ভেঙে ফেলা হয়। এ ঘটনায় মুসলিম পক্ষ সুপ্রিম কোর্টের দ্বারস্থ হলেও আদালত উচ্ছেদ কার্যক্রম স্থগিত করার নির্দেশ দেয়নি। তবে আদালত এ বিষয়ে সরকারের বক্তব্য জানতে চেয়েছিল।
বিরোধীদলীয় নেতা এসব ঘটনায় উদ্বেগ প্রকাশ করে বলেন,“ভারত সরকার সংখ্যালঘু মুসলমানদের অধিকার রক্ষায় শুধু ব্যর্থই হচ্ছে না, বরং বিভিন্ন ক্ষেত্রে তাদের অধিকার ক্ষুণ্ন করছে। এ ধরনের ঘটনা মানবতা, আইনের শাসন ও সভ্য সমাজের মূল্যবোধের পরিপন্থী। যে দেশেই, যে পক্ষের দ্বারাই এ ধরনের কর্মকাণ্ড সংঘটিত হোক না কেন, তা অবশ্যই নিন্দনীয়।”
পাশ্ববর্তী দেশ ভারতে সাম্প্রদায়িক এ ঘটনায় বাংলাদেশের জনগণের প্রতি আহ্বান জানিয়ে ডা. শফিকুর রহমান বলেন,“কোনো উসকানিতে দেশের অভ্যন্তরে ধর্মীয় বিভাজন ও সামাজিক বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির সুযোগ দেওয়া যাবে না। কারও পাতা ফাঁদে পা দেওয়া যাবে না। আমাদের প্রিয় দেশে বিদ্যমান সামাজিক সম্প্রীতি যেকোনো মূল্যে অক্ষুণ্ন রাখতে হবে। মহান আল্লাহ আমাদের সবাইকে সেই তাওফিক দান করুন।”







