দেশের সীমান্তের মানুষগুলোর ফুড সেফটি নেই : নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী

Post Image

এনসিপির মুখ্য সমন্বয়ক নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী বলেছেন, আমি সীমান্তের প্রান্তিক পর্যায়ে গিয়ে দেখলাম সেই মানুষগুলোর ফুড সেফটি (খাদ্য নিরাপত্তা) নেই। তাদের কৃষি ব্যবস্থার কোনো নিরাপত্তা নেই। সেখানে বড় বড় হত্যাকাণ্ডের ঘটনা ঘটে। কৃষক নিজের জমিতে গিয়ে চাষাবাদ করতে পারে না, ধান উৎপাদন করতে পারে না। বাংলাদেশের ভূমি হওয়া সত্ত্বেও সেখানে উৎপাদন করতে না পেরে কৃষক বঞ্চিত হচ্ছে।

বুধবার (১৩ মে) বিকেলে জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) কৃষি সেল আয়োজিত ধান কেনার মৌসুমে সরকারি শর্ত ও অসময়ের অতিবৃষ্টিতে কৃষকের হাহাকার : সংকট ও উত্তরণের পথ শীর্ষক সেমিনারে তিনি এসব কথা বলেন।

নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী বলেন, আমি গতকাল সীমান্তে গিয়েছিলাম। সেখানে যাওয়ার পথে পুলিশ আমাকে ঢুকতে দিচ্ছিল না। আমি তো বাংলাদেশের ভেতরেই যেতে চাই। বাংলাদেশের ভেতরে যদি আমি যেতে না পারি, তবে এটি বর্তমান সরকারের জন্য একটি লজ্জার বিষয়। তারা ভয় পায় সীমান্তে গেলে কোনো উত্তেজনার সৃষ্টি হবে কি না। সীমান্তে আমি প্রান্তিক পর্যায়ে গিয়ে দেখলাম সেই মানুষগুলোর খাদ্য নিরাপত্তা নেই। তাদের কৃষি ব্যবস্থার কোনো নিরাপত্তা নেই। সীমান্তে যে বড় বড় হত্যাকাণ্ডগুলো হয়ে থাকে, সেখানে দেখবেন কৃষকের জমিতে সে গিয়ে চাষ করতে পারে না। বাংলাদেশের ভূমি হওয়া সত্ত্বেও কৃষক সেখানে উৎপাদনের অধিকার থেকে বঞ্চিত হচ্ছে। গতকালের একটি ঘটনা দেখে আমরা আশান্বিত হয়েছি। 

এনসিপির মুখ্য সমন্বয়ক বলেন, কৃষি ব্যবস্থার কথা চিন্তা করে মওলানা ভাসানী তার দলের একটি মার্কা রেখেছিলেন। সেই মার্কা চুরি হয়ে গিয়েছে। মওলানা ভাসানী এখন শুধু নামেই আছেন। মওলানা ভাসানী বাংলাদেশে কৃষক-নির্ভর রাজনীতির সূচনা করেছিলেন। যদি মওলানা ভাসানীর সেই মার্কাটি তার কাছে থাকত, তবে আজকে ধান মার্কা পানির নিচে তলিয়ে যেত না।

তিনি প্রশ্ন রেখে বলেন, বাংলাদেশের হাওরের ধান কোথায় চলে গেছে? সব পানির নিচে তলিয়ে গিয়েছে। অবশ্যই ধান মার্কা ক্ষমতায় আছে, কিন্তু বাস্তব যে ধান, তা এখন পানির নিচে। এই ধান আমাদের রক্ষা করার কথা ছিল। সেই ধানের মার্কা বগুড়া থেকে ছেড়ে গুলশানে চলে এসেছে। এখন প্রায়োগিক অর্থে এই ধান কেন্দ্রিক যে সিন্ডিকেট ও ব্যবসায়ী গোষ্ঠী রয়েছে, তাদেরই তোষণ ও পুনর্বাসন করা হচ্ছে।

নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী বলেন, এক বিএসএফ সদস্য বাংলাদেশে গরু চুরি করতে এসেছে, তাকে গ্রামবাসী ঐক্যবদ্ধভাবে ধাওয়া দিয়েছে। ভবিষ্যতে যদি ভারতীয় শুভেন্দু অধিকারী থেকে শুরু করে মোদির মতো চোর, বাটপাররা বাংলাদেশের অর্থনৈতিক, রাজনৈতিক ও সাংস্কৃতিক অধিকার চুরি করতে আসে, তবে ১৮ কোটি মানুষ ঐক্যবদ্ধ হয়ে তাদের দৌড়ানি দেবে; যাতে দক্ষিণ এশিয়া থেকে তাদের আধিপত্য নিশ্চিহ্ন হয়।

তিনি বলেন, দক্ষিণ এশিয়ায় বাংলাদেশ রাষ্ট্র স্বাধীনভাবে টিকে আছে, এটি পৃথিবীর অন্যতম এক আশ্চর্যের বিষয়। দক্ষিণ এশীয় বাঙালি মুসলমান এবং আপামর বাঙালিরা স্বাধীনতা অর্জন করেছিল এবং বিশ্বের বুকে তারা টিকে আছে। ভারত সাম্রাজ্যবাদের সামনেও তারা টিকে আছে। আমরা তাদের বলতে চাই, পৃথিবী যতদিন থাকবে, কেয়ামত পর্যন্ত আমরা টিকে থাকব। বাংলাদেশের ১৮ কোটি মানুষ দরকার হলে না খেয়ে থাকবে, কিন্তু তোমাদের সামনে কখনোই মাথা নত করবে না। এটি আমরা অতীতেও বলেছি, ভবিষ্যতেও বলব। আশা করি, সরকার বাংলাদেশের মানুষের জীবনের এই চাহিদা ও আকাঙ্ক্ষা বুঝে রাজনীতির পথে এগোবে। তাদের যে মার্কা হাওরের পানির নিচে তলিয়ে গিয়েছে, সেই মার্কা তারা উদ্ধার করে কৃষকদের মুক্তি দিবে।

এই বিভাগের আরও খবর

রাজনীতি

সর্বশেষ খবর

সরকারি সুবিধা নামে বিএনপি নেতার প্রতারণা, পিটুনি দিয়ে পুলিশে সোপর্দ

দুই মাসের ব্যবধানে বিদ্যুৎ-গ্যাসের দাম বৃদ্ধিতে জনগণ হতাশ

এনসিপিতে চার মুক্তিযোদ্ধাসহ দুই শতাধিক নেতাকর্মীর যোগদান

১৮ কিশোর গ্যাং সদস্যকে আটক করে পুলিশের হাতে তুলে দিলো ছাত্রদল

বিদ্যুতের দাম বৃদ্ধিতে স্বস্তি পেলেন দুই শ্রেণির মানুষ।

রোহিঙ্গা সংকটে তুরস্কের সহযোগিতা চাইল জামায়াত

যেকোনো সময় ছাত্রদলের কমিটি, কপাল পুড়তে পারে বিতর্কিতদের

পুলিশের ওপর হামলা: ছাত্রদল নেতা গ্রেপ্তার ও দল থেকে বহিষ্কার

সর্বাধিক পঠিত

হাদিকে বিদেশে নেয়ার পরিকল্পনা

প্রয়োজনে দেশের মানুষ ভোটের জন্য জীবন দেবে: আসিফ মাহমুদ

৩০ দফা ইশতেহার ও ১২ বিশেষ কর্মসূচি ঘোষণা ইসলামী আন্দোলনের

হাসিনার বিচার আন্তর্জাতিক মানের হয়েছে, রায়ও বাস্তবায়ন হবে

এবার নির্বাচন থেকে সরে দাঁড়ালেন এনসিপির সামান্তা শারমিন

সামনে আরও হত্যাকাণ্ড ঘটতে পারে : মির্জা ফখরুল

ঢাকা-১৯ আসনে নির্বাচনি প্রচারণায় বাধা ও নারী হেনস্তা: ১১ দলীয় জোটের তীব্র নিন্দা

একটি বিশ্বমোড়ল ও দুটি ‘আঞ্চলিক শক্তি’ প্রভাব বিস্তার করতে চাইছে: সালাহউদ্দিন

গণঅভ্যুত্থানের সেই আইকনিক জার্সিতে সংসদে হাসনাত আবদুল্লাহ

একটি গ্রুপ ইলেকশন ইঞ্জিনিয়ারিং করার চেষ্টা করছে: মির্জা আব্বাস