অতিরিক্ত ডিআইজি আবদুল্লাহ আল জহিরকে প্রত্যাহার করা হয়েছে। মঙ্গলবার এক অফিস আদেশে এ তথ্য জানিয়েছে পুলিশ হেডকোয়ার্টার্স।
এর আগে রাজধানীর পূর্বাচলের রূপগঞ্জের কালনী এলাকায় অতিরিক্ত ডিআইজি আবদুল্লাহ আল জহিরের মালিকানাধীন একটি বাড়িতে অভিযান চালিয়ে মাদকসহ ৮৫ জনকে আটক করেছে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)। আটকদের মধ্যে ২৬ জন নারী ও ৫৯ জন পুরুষ রয়েছেন। অভিযানে মদ, সিনথেটিক মাদক, সিসা ও বিয়ার উদ্ধার করা হয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ। মঙ্গলবার ডিবির অতিরিক্ত কমিশনার শফিকুল ইসলাম এই অভিযান সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য জানান।
ডিবির অতিরিক্ত কমিশনার শফিকুল ইসলাম জানান, বাড়িটিতে দীর্ঘদিন ধরে অবৈধ মাদক সেবন ও ডিজে পার্টির আসর বসে আসছিল। এই তথ্যের ভিত্তিতে সেখানে অভিযান চালানো হয়। অনলাইনে বাড়িটি ভাড়া দেওয়া হতো বলেও জানান তিনি। গত সোমবার রাতে শুরু হওয়া এই অভিযান মঙ্গলবার পর্যন্ত চলে। অভিযানে মদ, সিনথেটিক মাদক, সিসা ও বিয়ার উদ্ধার করা হলেও মাদকের সুনির্দিষ্ট ধরন ও পরিমাণ সম্পর্কে বিস্তারিত জানানো হয়নি। মঙ্গলবার বিকেল পর্যন্ত ওই বাড়িতে তল্লাশি ও আলামত সংগ্রহের কাজ চলে।
এ বিষয়ে অতিরিক্ত ডিআইজি আবদুল্লাহ আল জহির জানান, ট্রাভেলারসহ বিভিন্ন ধরনের মানুষ অস্থায়ীভাবে থাকা কিংবা সামাজিক অনুষ্ঠান করার জন্য নিয়ম মেনে বাড়িটি ভাড়া নেন। দীর্ঘদিন ধরেই তিনি এভাবেই বাড়িটি ভাড়া দিয়ে আসছেন। জহিরের দাবি, গত সোমবার রাতের জন্মদিনের পার্টি আয়োজনের জন্য বাড়িটি ভাড়া নেওয়া হয়েছিল। ভাড়ার শর্তে মদ, ওয়াইন এবং যেকোনো ধরনের মাদক ও অবৈধ কার্যকলাপ কঠোরভাবে নিষিদ্ধ বলে উল্লেখ রয়েছে।
তিনি আরও বলেন, ‘বাড়িটির ৫টি শয়নকক্ষে সাধারণভাবে সর্বোচ্চ ১০ জন অতিথি রাত কাটাতে পারেন। অতিরিক্ত বিছানার ব্যবস্থা করে সেখানে সর্বোচ্চ ২০ জনের থাকার সুযোগ রয়েছে। এ ছাড়া ১০ জনের বেশি অতিথির জন্য জনপ্রতি ৮ ডলার অতিরিক্ত ফি এবং প্রবেশের সময় প্রত্যেক অতিথির জাতীয় পরিচয়পত্র বা পাসপোর্টের কপি জমা দেওয়ার শর্ত রয়েছে। দিনের বেলায় পারিবারিক অনুষ্ঠান আয়োজনের জন্য সর্বোচ্চ ৪০ জন অতিথি আসতে পারবেন বলেও নিয়মে বলা আছে। এই অবস্থায় কোনো অপরাধমূলক কার্যক্রম হয়ে থাকলে, তার দায় সম্পূর্ণ যারা বাড়িটি ভাড়া নিয়েছেন তাদের।’ তবে সোমবার রাতের পার্টিতে কতজনকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল এবং অতিথিদের পরিচয়পত্র যাচাই করা হয়েছিল কি না, সে বিষয়ে কিছু জানা যায়নি।
ডিবি সূত্রে জানা গেছে, অনলাইনে বেশ কিছুদিন ধরেই এই গোপন আড্ডার প্রচারণা চলছিল। ফেসবুক ও অন্যান্য সামাজিক মাধ্যমে লোভনীয় বিজ্ঞাপন দেখে দূরদূরান্ত থেকে ওই বাড়িতে জড়ো হন অনেকে। খবর পেয়ে সোমবার মধ্যরাতে ঝটিকা অভিযান শুরু করে ডিবির একটি দল।







