দেশ উগ্র ডানপন্থার পথে এগিয়ে গেছে বলে মন্তব্য করেছেন অন্তর্বর্তী সরকারের সাবেক উপদেষ্টা মাহফুজ আলম। তাঁর ভাষ্য, বিভিন্ন ধারার নরম ও কট্টর ডানপন্থিরা মিলে এ পরিস্থিতি নিশ্চিত করবে।
আজ বৃহস্পতিবার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক স্ট্যাটাসে এসব কথা বলেন তিনি। ‘জুলাই-পরবর্তী রাজনীতির আজব দশা’ শিরোনামের ওই পোস্টে মাহফুজ আলম লেখেন, অন্তর্বর্তী সরকারের সময় থেকেই ধর্মনিরপেক্ষ নাগরিক সমাজ, ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানকে ‘জাশি অ্যান্ড ৭২ আদার্স’-এর কাছে সাষ্টাঙ্গ প্রণাম করতে দেখেছেন তিনি।
তিনি আরও লেখেন, ক্ষমতার আকাঙ্ক্ষা এবং সংস্কারের নামে বিএনপির বিরোধিতা করতে গিয়ে অনেকে জামায়াতের ঘনিষ্ঠ হওয়ার চেষ্টা করেছেন। তাঁর মতে, এদের অনেকে সাংস্কৃতিকভাবে আজীবন আওয়ামী লীগের ঘরানার ছিলেন এবং বিএনপিকে নিজেদের রুচির সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ মনে করেন না। জামায়াতের ঘনিষ্ঠ হওয়ার পর সেখান থেকে বেরিয়ে আসতে পারবেন না—এমন আশঙ্কায় অনেকে এখনো সেই অবস্থানে রয়েছেন বলেও মন্তব্য করেন মাহফুজ আলম।
তিনি লেখেন, ডিজিটাল মবের চাপে অনেককে ডানপন্থী থেকে উগ্র-ডান হতে দেখেছি। এখনও দেখছি। এসব ডিজিটাল মব আদতে সিস্টেমেটিক প্রোপাগান্ডা ও ক্যারেক্টার অ্যাসাসিনেশন মেকানিজম। এ মেকানিজমকে এড়িয়ে যাওয়ার উপায় সহসা নেই। দেশ (উগ্র) ডানপন্থার ট্রেনে উঠে গেছে। হরেক রঙের নরম-গরম ডান মিলে এটা নিশ্চিত করে ছাড়বে।
মাহফুজ লেখেন, সংস্কারের নামে (ক্ষমতার জন্য?) বিএনপি বিরোধিতা করতে গিয়ে জাশির কাছে যাওয়ার খেসারত সেকুলার সমাজের দিতেই হবে। ট্রাডিশনাল আলেম সমাজকেও জাশিকে সার্ভিস দেওয়ার খেসারত দিতে হবে। এখানে কেবলই জাশির লাভ। লাভের গুড় খাওয়ার পরে ছুড়ে ফেলা হবে দুই গোষ্ঠীকেই।
গুড টাইম ইজ কামিং ফর জাশি অ্যান্ড ৭২ আদার্স। এ আশু ভবিষ্যত পাল্টানোর সাধ্য আপাতত কারো নেই। আর, জাশি যত গুড টাইমে যাবে, ততই লীগ ফেরা অনিবার্য হয়ে উঠবে। উই আর গোয়িং ব্যাক টু সেভেন্টি-ওয়ান। যেখানে বিএনপির একাংশ জাশির দুনিয়ায়, অন্য অংশ লীগের দুনিয়ায় বাস করবে। তোমরা বাকিরা আপাতত জাশি প্রযোজিত কালচারাল ওয়ারে নিজেদের ব্যস্ত রাখো।







