ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্যান্টিনগুলোতে গরুর গোশত বিক্রি না হওয়ার পেছনে হিন্দুত্ববাদী মানসিকতা কাজ করছে বলে অভিযোগ করেছেন আমার বাংলাদেশ (এবি) পার্টির সাধারণ সম্পাদক ব্যারিস্টার আসাদুজ্জামান ফুয়াদ।
মঙ্গলবার (১৪ অক্টোবর) ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের মধুর ক্যান্টিনে ডাকসুর উদ্যোগে আয়োজিত ‘বুলিং বনাম একাডেমিক স্বাধীনতা: আরোপ ও অপরায়ণের রাজনীতি’ শীর্ষক সেমিনারে বক্তব্য দিতে গিয়ে তিনি এ মন্তব্য করেন।
ব্যারিস্টার ফুয়াদ বলেন,“ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্যান্টিনগুলোতে গরুর গোশত বিক্রি হয় না। একইভাবে, কোনো শিক্ষার্থীর পোশাকে বোরকা, দাড়ি কিংবা জুব্বা থাকলে অনেকে তা সহজভাবে গ্রহণ করতে পারেন না। এসব আচরণ বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাতিষ্ঠানিক ও সাংস্কৃতিক কাঠামোয় একটি নির্দিষ্ট মতাদর্শের প্রভাবের প্রতিফলন।”
তিনি বলেন,“বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক ও শিক্ষিত সমাজের একটি অংশের চিন্তাভাবনায় হিন্দুত্ববাদী দৃষ্টিভঙ্গির প্রভাব রয়েছে। তাঁদের অনেকে নিজেদের ধর্মীয় পরিচয়ে মুসলমান হলেও চিন্তা ও দৃষ্টিভঙ্গির ক্ষেত্রে হিন্দুত্ববাদী কাঠামো অনুসরণ করেন।”
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রতিষ্ঠার ইতিহাস তুলে ধরে এবি পার্টির এই নেতা বলেন,“বঙ্গভঙ্গ রদের পরিপ্রেক্ষিতে পূর্ব বাংলার মুসলমান ও নমশূদ্রসহ পিছিয়ে পড়া জনগোষ্ঠীর শিক্ষার সুযোগ বাড়ানোর লক্ষ্যেও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার বিষয়টি গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছিল। কিন্তু সে সময়ের জমিদার ও অভিজাত শ্রেণির একটি অংশ বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার বিরোধিতা করেছিল।
ফুয়াদ বলেন,“তৎকালীন প্রভাবশালী শ্রেণি চাইত না কৃষক ও পিছিয়ে পড়া জনগোষ্ঠীর সন্তানরা উচ্চশিক্ষা গ্রহণ করে চিকিৎসক, প্রকৌশলী, বিচারক কিংবা ব্যারিস্টার হয়ে উঠুক। শিক্ষার সুযোগের মধ্য দিয়ে সামাজিক বৈষম্য ও শ্রেণিগত আধিপত্য ভাঙার সম্ভাবনা তৈরি হওয়ায় বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার বিরোধিতা করা হয়েছিল।”
তিনি আরও বলেন,“ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় যে ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপটে প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল, বর্তমানে সেই প্রগতিশীল ও অন্তর্ভুক্তিমূলক চেতনা থেকে প্রতিষ্ঠানটি সরে গেছে কি না, তা নিয়ে প্রশ্ন তোলা প্রয়োজন। তাঁর অভিযোগ, বিশ্ববিদ্যালয়ের একটি অংশ স্থানীয় কৃষক, সাধারণ মানুষ ও এ অঞ্চলের ঐতিহাসিক অভিজ্ঞতার পরিবর্তে অন্য সাংস্কৃতিক ও রাজনৈতিক ধারাকে বেশি গুরুত্ব দেয়।”
বক্তব্যে ব্রিটিশবিরোধী আন্দোলনের বিভিন্ন সংগঠন ও ব্যক্তিত্বের ইতিহাস নিয়েও প্রশ্ন তোলেন ফুয়াদ। তিনি যুগান্তর ও অনুশীলন সংগঠন এবং সূর্য সেন, ক্ষুদিরাম বসু ও প্রীতিলতা ওয়াদ্দেদারের ভূমিকা সম্পর্কে প্রচলিত ঐতিহাসিক মূল্যায়নের সমালোচনা করেন। তাঁর দাবি, এসব বিপ্লবী সংগঠন ও ব্যক্তিত্বকে যেভাবে উপস্থাপন করা হয়, তাতে তাদের রাজনৈতিক আদর্শ ও কর্মকাণ্ডের বিতর্কিত দিকগুলো যথাযথভাবে আলোচিত হয় না।
তিনি বলেন, বাংলাদেশের ইতিহাস ও জাতীয় পরিচয়ের আলোচনায় হাবিলদার রজব আলী খাঁ, তিতুমীর ও দুদু মিয়ার মতো ব্যক্তিত্ব এবং বিভিন্ন ঐতিহাসিক আন্দোলনকেও যথাযথ গুরুত্ব দেওয়া প্রয়োজন।
বক্তব্যের শেষাংশে ফুয়াদ বলেন, বিশ্ববিদ্যালয়ে ধর্মীয় পরিচয়, পোশাক ও খাদ্যাভ্যাসের প্রশ্নে কোনো ধরনের বৈষম্য থাকা উচিত নয়। তাঁর মতে, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে একাডেমিক স্বাধীনতা নিশ্চিত করার পাশাপাশি শিক্ষার্থীদের ভিন্ন ধর্মীয় ও সাংস্কৃতিক পরিচয়ের প্রতিও শ্রদ্ধাশীল হওয়া জরুরি।







