রাজনীতির ময়দানে নানা সময়ে আলোচনায় ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ। কখনও ভোটের সমীকরণে, কখনও জোট ভাঙায় আবার কখনও সরকারবিরোধী সরব পদচারণায়। বিএনপি-জামায়াতের সঙ্গে গাঁটছড়া বাঁধা নিয়েও একটা সময় আলোচনা ছিল তুঙ্গে। যদিও শেষ মুহূর্তে একলা চলো নীতিতেই অটল দলটি।
ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের ভবিষ্যৎ ভাবনা কী? সংবিধান সংশোধনে নতুন গণভোটের উদ্যোগ, জুলাই সনদ বাস্তবায়ন নিয়ে বিতর্ক ও বিএনপি সরকারের সাত মাসের অর্জন নিয়ে কথা বললেন খোলামেলা।
তিনি দাবি করেন, জাতীয় নির্বাচনের আগে বিএনপির সঙ্গে আলোচনায় ইসলামবিরোধী কোনো আইন পাস না করার প্রতিশ্রুতি পেয়েছিলেন। কিন্তু ক্ষমতায় যাওয়ার পর রক্ষা করা হয়নি সেই প্রতিশ্রুতি।
ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের আমীর বলেন, সম্পত্তি হস্তান্তরসংক্রান্ত এই আইনটি সম্পূর্ণ ইসলামবিরোধী। আপনারা যেসব আইন শরিয়াবিরোধী করছেন, তা জাতি ভালোভাবে নেবে না। মুসলমানরাও বিষয়টি ভালোভাবে দেখবে না। আলেম-ওলামারাও এসব আইন মেনে নেবেন না।
সংবিধান সংশোধন প্রশ্নে নতুন করে গণভোট আয়োজনের উদ্যোগ নিয়েও আপত্তি ইসলামী আন্দোলনের।
তিনি বলেন, যেখানে রাষ্ট্রীয়ভাবে একটি গণভোট অনুষ্ঠিত হয়ে গেছে, সেখানে আবার প্রয়োজনে গণভোট দিতে হবে—এ কথা কেন বলা হচ্ছে? এর কারণ কী? তাহলে তো প্রশ্ন উঠবে, আপনারা যদি গণভোটের ফলাফলকে গুরুত্ব না দেন, তাহলে সেটি প্রশ্নবিদ্ধ হয়ে পড়ে। সে ক্ষেত্রে আপনারা যে জাতীয় নির্বাচনের মাধ্যমে সরকার গঠন করেছেন, সেটিও তো প্রশ্নবিদ্ধ হবে। তাহলে জাতীয় নির্বাচনও আবার হওয়া উচিত।
জামায়াতের চলমান লংমার্চ নিয়েও কড়া সমালোচনা করেন মুফতি রেজাউল করিম। তাঁর অভিযোগ, বিরোধী দলের কর্মসূচি জনগণের সঙ্গে ধোঁকাবাজি। পর্দার আড়ালে সমঝোতা করেই সরকারের সঙ্গে চলছে বিরোধীরা।
বিরোধীদের চলমান লংমার্চ প্রসঙ্গে রেজাউল করিম বলেন, বিরোধীদের লংমার্চ হাস্যকর হয়েছে। সংসদে এসে তারা এক ধরনের কথা বলেন, আর রাস্তায় লংমার্চ করতে গিয়ে বলেন অন্য ধরনের কথা। আমি এ বিষয়ে আর বেশি ব্যাখ্যা দিতে চাই না। তাদের দ্বিচারিতা ও দ্বিমুখী আচরণ জাতির কাছে একপর্যায়ে অত্যন্ত হাস্যকর হয়ে উঠেছে।
তৃণমূলে ভোটের লড়াইয়ে এককভাবেই চমক দেখাতে চায় ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ।







