ঢাকা সেন্ট্রাল ইউনিভার্সিটির ২০২৫-২৬ শিক্ষাবর্ষের প্রায় পাঁচ শতাধিক নবীন শিক্ষার্থীকে বরণ করেছে বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবিরের ঢাকা কলেজ শাখা। ‘নবীনবরণ ও ক্যারিয়ার গাইডলাইন’ শীর্ষক এ অনুষ্ঠানে শিক্ষার্থীদের ফুল, কলমদানি, কুরআন, অনুপ্রেরণামূলক ইসলামী বইসহ বিভিন্ন উপহার দেওয়া হয়।
সোমবার (১২ অক্টোবর) সকাল ১১টায় শহীদ আ. ন. ম. নজীব উদ্দিন খান খুররম অডিটোরিয়ামে অনুষ্ঠানের কার্যক্রম শুরু হয়।
এ সময় আমন্ত্রিত অতিথিদের মাধ্যমে নবীন শিক্ষার্থীকে ফুল দিয়ে বরণ করে নেওয়া হয়। নবীন শিক্ষার্থীদের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণে কলেজের অডিটোরিয়াম কানায় কানায় পূর্ণ হয়ে ওঠে। এর আগে, শিক্ষার্থীরা পূর্বনির্ধারিত গুগল ফর্মের মাধ্যমে নিবন্ধন করে অংশগ্রহণ করেন।
অনুষ্ঠানে ঢাকা কলেজ শাখা ছাত্রশিবিরের সেক্রেটারি সাইমুন ইসলাম সানির সঞ্চালনায় ও সভাপতি মোস্তাকিম আহমেদের সভাপতিত্বে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন সিবগাতুল্লাহ সিগমা। প্রধান আলোচক হিসেবে ছিলেন ছাত্রশিবিরের সাবেক কেন্দ্রীয় সভাপতি জাহিদুল ইসলাম। এছাড়াও বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ডাকসু ভিপি সাদিক কায়েম ও সংগঠনটির অর্থ সম্পাদক আনিসুর রহমান ও আন্তর্জাতিক সম্পাদক আসিফ আব্দুল্লাহ।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে সিবগাতুল্লাহ সিগবা বলেন, আমাদের তরুণরা পড়াশোনা করার জন্য প্রস্তুত আছে। কিন্তু সরকার পড়াশোনার সঠিক পরিবেশ চালু করছে না। কারণ যদি সবাই পড়াশোনায় ঢুকে যায়, তাহলে গাড়ির পেছনে দৌড়াবে কে? কিন্তু সরকার সবসময় শিক্ষার্থীদের দমিয়ে রাখার চেষ্টা করে। আমরা আশাবাদী যে—যেহেতু একটি গণতান্ত্রিক সরকার প্রতিষ্ঠা হয়েছে, তারা বিষয়গুলো দেখবেন।
তিনি বলেন, শিবির তো শিবিরই, ছাত্রদল বা ছাত্রলীগ হওয়ার কোনো সম্ভাবনা আমাদের নেই। শিবির শিবিরই থাকবে। আমরা এটা নিশ্চিত করার চেষ্টা করেছি। মেধার ভিত্তিতে হোক, কিংবা যার যার যোগ্যতার ভিত্তিতেই হোক তারা তাদের প্রমাণ করার সুযোগ পাবে। যার নিড বেশি, রাষ্ট্রের পক্ষ তাকেই সুযোগ দেওয়া হোক। এটাই মূলত শিবিরের চাওয়া-পাওয়া।
প্রধান আলোচকের বক্তব্যে ছাত্রশিবিরের সাবেক কেন্দ্রীয় সভাপতি জাহিদুল ইসলাম বলেন, এই ভূখণ্ডকে আজকে যারা নেতৃত্ব দেবে এবং ভবিষ্যতে যারা এই ভূখণ্ডকে গড়ে তুলবে, তাদেরকে ইতিহাসে ধারাকে শিক্ষার্থীদের উপলব্ধি করতে হবে। শুধুমাত্র চার-পাঁচ বছর পর শিক্ষার্থীরা একটা সার্টিফিকেট নিয়ে বের হবে না। তুমি এই বাংলাদেশকে নিয়ে ভাবো। তোমার কোন জায়গাটাতে কন্ট্রিবিউট করার সুযোগ আছে, সেটা তুমি আইডেন্টিফাই করো। একটি দক্ষ মানবসম্পদ হিসেবে নিজেকে গড়ে তোলো।
তিনি বলেন, ক্যাম্পাসে হল বাণিজ্য অথবা ফাউ খাওয়ার রাজনীতি থাকবে না। দখলদারিত্বের কোনো কিছু থাকবে না। কোনো একজন রাজনৈতিক সংগঠনের কেউ এসে বলবে না যে, এই ক্যাম্পাস অমুক দলের, বরং এই ক্যাম্পাসটা হবে প্রত্যেকটা শিক্ষার্থীর এবং প্রত্যেকটা ছাত্রের ক্যাম্পাস হবে। আমরা এমন ক্যাম্পাস চাই।
বিশেষ অতিথির বক্তব্যে ডাকসু ভিপি সাদিক কায়েম বলেন, ফ্যাসিবাদের কোনো নির্দিষ্ট রাজনৈতিক দল নেই। যে-ই ফ্যাসিবাদী হয়ে উঠবে, তার বিরুদ্ধেই কথা বলতে হবে। ক্যাম্পাসে দখলদারত্বের রাজনীতি এবং গণরুম-গেস্টরুম সংস্কৃতি আর ফিরতে দেওয়া হবে না। দখলদারত্বের সঙ্গে যে-ই জড়িত থাকুক, তার বিরুদ্ধে কথা বলতে হবে। শিক্ষার্থীরা নিজেদের মেরুদণ্ড সোজা রেখে অন্যায়ের বিরুদ্ধে অবস্থান নিলে দেশে আর ফ্যাসিবাদ ফিরে আসবে না।







