পাবিপ্রবি প্রতিনিধিঃ বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে নিয়ে ফেসবুকে পোস্ট করায় পাবনা বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (পাবিপ্রবি) দুই শিক্ষককে ভবিষ্যতে এ ধরনের পোস্ট না করার জন্য হুশিয়ার করার অভিযোগ উঠেছে বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রদলের নেতা-কর্মীদের বিরুদ্ধে। অভিযোগ অনুযায়ী, ১৫ আগস্ট বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে নিয়ে ফেসবুকে পোস্ট দেওয়ার পর বিশ্ববিদ্যালয়ের ভূগোল ও পরিবেশ বিভাগের অধ্যাপক ড. রাহিদুল ইসলাম রাহী এবং বাংলা বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. আরিফ ওবায়দুল্লাহর কাছে গিয়ে তাদেরকে হুশিয়ার করেন ছাত্রদলের নেতা-কর্মীরা। এ সময় ভবিষ্যতে বঙ্গবন্ধুকে নিয়ে ফেসবুকে কোনো পোস্ট না করার জন্য তাদেরকে হুশিয়ার করা হয়।
খোঁজ নিয়ে জানা যায়, ১৫ আগস্ট বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের প্রতি শোক জানিয়ে ভূগোল ও পরিবেশ বিভাগের শিক্ষক অধ্যাপক ড. রাহিদুল ইসলাম রাহী এবং বাংলা বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. আরিফ ওবায়দুল্লাহ ফেসবুকে পোস্ট করেন। এরপর ১৭ আগস্ট দুপুর আড়াইটার দিকে বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রদলের সভাপতি মুজাহিদ হোসেন ও সাধারণ সম্পাদক তরিকুল ইসলামসহ ৫-৬ জন নেতা-কর্মী প্রথমে বাংলা বিভাগের শিক্ষক ড. আরিফ ওবায়দুল্লাহ’র কাছে যান। তারা সেখানে তার কাছে পোস্টের বিষয়ে জানতে চান এবং সামনের দিনে বঙ্গবন্ধুকে নিয়ে ফেসবুকে কোন লেখালেখি না করতে নিষেধ করেন। এরপর তারা ভূগোল ও পরিবেশ বিভাগের শিক্ষক অধ্যাপক ড. রাহিদুল ইসলাম রাহীর চেম্বারে যান। সেখানে তারা বঙ্গবন্ধুকে নিয়ে ফেসবুক পোস্টের প্রসঙ্গ টেনে বলেন, আপনি বঙ্গবন্ধুকে নিয়ে ফেসবুকে পোস্ট করে আওয়ামীলীগের প্রচারণা করছেন এবং এগুলো করে ক্যাম্পাসের শান্তিশৃঙ্খলা নষ্ট করছেন। তারা তাকে বঙ্গবন্ধুকে নিয়ে আগামীদিনে ফেসবুকে কোন পোস্ট না করতে হুশিয়ার করে আসেন।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে বাংলা বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. আরিফ ওবায়দুল্লাহ বলেন, ‘আমার ফেসবুকে পোস্ট করা নিয়ে ওরা আমার কাছে কয়েকজন এসেছেন। আমি ওদেরকে বুঝিয়ে বলেছি সব। আমি কোন রাজনীতি করিনি, কোন রাজনৈতিক দলের সাথে যুক্তও না। তবে সবারই কোন না কোন আদর্শ আছে। মানুষের ওপর কোন আদর্শ চাপিয়ে দেওয়া যায়না। কারো আদর্শ থাকার অর্থ এই না যে সে কোন রাজনৈতিক দল করে। আমি যেটাকে সঠিক মনে করি আমি সেটা করি।’
ভূগোল ও পরিবেশ বিভাগের শিক্ষক অধ্যাপক ড. রাহিদুল ইসলাম রাহীর কাছে জানতে চাইলে ঘটনার সত্যতার স্বীকার করেন এবং তার চেম্বারে ছাত্রদলের নেতা-কর্মীরা আসার বিষয়টিও নিশ্চিত করেন। তবে তিনি এই বিষয়ে বিস্তারিত কোন মন্তব্য করতে রাজি হননি।
এ অভিযোগের বিষয়টি স্বীকার করেছেন বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রদল। বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রদলের সভাপতি মুজাহিদ হোসেন বলেন, ‘দুই শিক্ষককে আমরা বঙ্গবন্ধুকে নিয়ে পোস্ট করতে নিষেধ করেছি। উনার পোস্ট করার কারণে অন্য শিক্ষকরাও উৎসাহ পায়। তারপরেও উনারা সামাজিক মাধ্যমে পোস্ট করে। এতে ক্যাম্পাসে বিশৃঙ্খলা হওয়ার সম্ভাবনা থাকে, তাই নিষেধ করেছি।’
এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর অধ্যাপক ড. কামরুজ্জামান খান বলেন, ‘এ বিষয়ে একজন শিক্ষক আমাকে অবহিত করেছেন। আমি এটা নিয়ে উপাচার্য স্যারের সাথে বিস্তারিত কথা বলবো। একজন শিক্ষক ফেসবুকে কী লিখবেন না লিখবেন সেটা প্রশাসন দেখবেন, এটা দেখা শিক্ষার্থীদের কাজ নয়। কোন শিক্ষককে নিয়ে কারো কোন অভিযোগ থাকলে সেটা প্রশাসনকে জানাতে হবে।’







