চেক প্রতারণার মামলায় এক বছরের কারাদণ্ড ও অর্থদণ্ডপ্রাপ্ত এবং গ্রেপ্তারি পরোয়ানা থাকা বিএনপি নেত্রী রেনু আক্তার পটুয়াখালীর গলাচিপা উপজেলা আইনশৃঙ্খলা কমিটির মাসিক সভায় উপস্থিত ছিলেন। সভায় তাঁর উপস্থিতির ছবি ও ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর বিষয়টি নিয়ে সমালোচনা শুরু হয়েছে।
রেনু আক্তার গলাচিপা উপজেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক। গত সোমবার উপজেলা পরিষদের সম্মেলনকক্ষে অনুষ্ঠিত আইনশৃঙ্খলা কমিটির সভায় থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি)সহ প্রশাসনের কর্মকর্তাদের সঙ্গে তাঁর উপস্থিতির ছবি ও ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে।
জানা গেছে, ২০১৭ সালে চেক প্রতারণার অভিযোগে রাজধানীর গুলশান থানায় রেনু আক্তারের বিরুদ্ধে মামলা হয়। চলতি বছরের ৪ মে ঢাকা মহানগর যুগ্ম দায়রা জজ আদালত মামলাটির রায় দেন। অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ায় আদালত তাঁকে এক বছরের বিনাশ্রম কারাদণ্ড ও ১৬ লাখ ৬৮ হাজার টাকা অর্থদণ্ড দেন।
দুই দিন পর ৬ মে আদালত তাঁর বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করেন। পরোয়ানার চিঠিতে তাঁর ঠিকানা হিসেবে উপজেলা সদরের হেলিপ্যাড এলাকা এবং ছিয়াম এন্টারপ্রাইজ নামের একটি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের মালিক হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। পরোয়ানার আদেশ পটুয়াখালীর পুলিশ সুপারের কার্যালয়ে এলে আইনগত ব্যবস্থা নিতে গত ১৬ আগস্ট তা গলাচিপা থানায় পাঠানো হয়।
রেনু আক্তার উপজেলার চরবিশ্বাস ইউনিয়নের চরবিশ্বাস গ্রামের বাসিন্দা। তিনি চরবিশ্বাস ইউনিয়ন বিএনপির আহ্বায়কও। সভায় সভাপতিত্ব করেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) আবুজর মো. ইজাজুল হক। উপস্থিত ছিলেন গলাচিপা থানার ওসি মো. ইমতিয়াজ আহমেদ, উপজেলা বিএনপির সভাপতি গোলাম মোস্তাফা, উপজেলা গণঅধিকার পরিষদের সাধারণ সম্পাদক জাকির মুন্সি, যুব অধিকার পরিষদের সহসভাপতি মহিবুল্লাহ এনমি, ছাত্র অধিকার পরিষদের নেতা আবু নাইম এবং বিভিন্ন সরকারি দপ্তরের কর্মকর্তারা।
চেক প্রতারণার মামলায় সাজা পাওয়া কিংবা নিজের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানার বিষয়টি অস্বীকার করেছেন রেনু আক্তার। তাঁর দাবি, তাঁর বিরুদ্ধে কোনো পরোয়ানা নেই। আওয়ামী লীগ (কার্যক্রম নিষিদ্ধ) সরকারের আমলে চট্টগ্রামে তাঁর বিরুদ্ধে একটি রাজনৈতিক মামলা হয়েছিল বলে তিনি জানান। গত আগস্টে চট্টগ্রামের একটি আদালতে তিনি হাজিরাও দিয়েছেন
উপজেলা বিএনপির সভাপতি গোলাম মোস্তফা বলেন, রেনু আক্তারের বিরুদ্ধে মামলা বা গ্রেপ্তারি পরোয়ানার বিষয়টি তিনি জানতেন না। বিষয়টি জানার পর তাঁকে দ্রুত তা সমাধানের পরামর্শ দিয়েছেন। তাঁর ভাষ্য, এটি দলীয় কোনো ঘটনা নয়, তাই দলীয়ভাবে সিদ্ধান্ত নেওয়ার সুযোগ কম।
রেনু আক্তারের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন গলাচিপা থানার ওসি ইমতিয়াজ আহম্মেদ। সভায় তাঁর উপস্থিতির বিষয়ে ওসি বলেন, পরোয়ানায় আসামির বিস্তারিত পরিচয় না থাকায় এবং কোনো মহল থেকে তাঁর পরিচয় শনাক্ত না হওয়ায় তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা নেওয়া সম্ভব হয়নি। বিষয়টি নজরে আসার পর তাঁকে গ্রেপ্তারে অভিযান চলছে বলেও জানান তিনি।







