ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে (ঢাবি) সরকারি চাকরিতে পুলিশ ভেরিফিকেশনের নামে হয়রানি ও নিয়োগবঞ্চনার অভিযোগ তুলে মেধাভিত্তিক নিয়োগ নিশ্চিত এবং রাজনৈতিক বৈষম্য বন্ধের দাবি জানিয়েছে বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবির ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শাখা।
সম্প্রতি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষক নিয়োগসহ বিভিন্ন সরকারি চাকরিতে মেধা ও যোগ্যতার ভিত্তিতে চূড়ান্তভাবে উত্তীর্ণ প্রার্থীদের পুলিশ ভেরিফিকেশনের নামে নিয়োগ থেকে বঞ্চিত করা হচ্ছে—এমন অভিযোগে উদ্বেগ ও প্রতিবাদ জানিয়েছে সংগঠনটি।
শুক্রবার (২৫ সেপ্টেম্বর) এক যৌথ বিবৃতিতে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রশিবিরের সভাপতি ও ডাকসুর এজিএস মুহা. মহিউদ্দিন খান এবং সেক্রেটারি কাজী আশিক বলেন, জুলাই গণঅভ্যুত্থানের অন্যতম আকাঙ্ক্ষা ছিল সরকারি চাকরিতে ফেভারিটিজম, কোটা, বৈষম্য ও রাজনৈতিক লিংক-লবিংয়ের অবসান ঘটিয়ে মেধা ও যোগ্যতার ভিত্তিতে নিয়োগ নিশ্চিত করা।
তারা বলেন, মেধা ও যোগ্যতার ভিত্তিতে রাষ্ট্রীয় চাকরির জন্য নির্বাচিত হওয়ার পর কোনো নাগরিককে রাজনৈতিক মতাদর্শ, পারিবারিক পরিচয় কিংবা ভিন্নমতের কারণে নিয়োগ থেকে বঞ্চিত করা হলে তা বৈষম্যমূলক ব্যবস্থার পুনরাবৃত্তি হবে।
বিবৃতিতে তারা আরও বলেন, রাষ্ট্রের সাংবিধানিক ও প্রশাসনিক প্রতিষ্ঠানগুলো কোনো রাজনৈতিক দল বা গোষ্ঠীর স্বার্থ বাস্তবায়নের হাতিয়ার হতে পারে না। সরকারি চাকরিতে নিয়োগের ক্ষেত্রে ব্যক্তির রাজনৈতিক পরিচয়ের পরিবর্তে তার মেধা, যোগ্যতা, সততা ও আইনের প্রতি আনুগত্যকে প্রাধান্য দেওয়া উচিত।
পুলিশ ভেরিফিকেশন প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা, নিরপেক্ষতা ও জবাবদিহি নিশ্চিত করার দাবি জানিয়ে তারা বলেন, মেধা ও যোগ্যতার ভিত্তিতে চূড়ান্তভাবে উত্তীর্ণ কোনো প্রার্থীকে শুধু রাজনৈতিক মতাদর্শ, রাজনৈতিক পরিচয় বা পারিবারিক রাজনৈতিক সংশ্লিষ্টতার কারণে নিয়োগ থেকে বঞ্চিত করা উচিত নয়।
এছাড়া পুলিশ ভেরিফিকেশনে কোনো প্রার্থীর বিষয়ে নেতিবাচক প্রতিবেদন দেওয়া হলে এর সুনির্দিষ্ট, আইনসম্মত ও যাচাইযোগ্য কারণ উল্লেখ করার দাবি জানান তারা।
এরই মধ্যে নিয়োগবঞ্চিত প্রার্থীদের অভিযোগ স্বাধীনভাবে তদন্ত করে অন্যায্য বঞ্চনার প্রমাণ পাওয়া গেলে দ্রুত প্রতিকার নিশ্চিত করারও আহ্বান জানিয়েছে সংগঠনটি।
বিবৃতিতে আরও বলা হয়, রাজনৈতিক মতপার্থক্যকে অপরাধ হিসেবে বিবেচনা করা এবং ভিন্নমতের নাগরিকদের রাষ্ট্রীয় সুযোগ-সুবিধা থেকে বঞ্চিত করার যে কোনো প্রবণতা বন্ধ করতে হবে।
তারা রাজনৈতিক বৈষম্য ও নিয়োগবঞ্চনার অভিযোগের নিরপেক্ষ তদন্ত, ভুক্তভোগীদের ন্যায়সঙ্গত প্রতিকার এবং স্বচ্ছ ও মেধাভিত্তিক নিয়োগব্যবস্থা নিশ্চিত করার দাবি জানান।







