নির্বাচন কমিশন (ইসি) নিয়ন্ত্রণ করে বিএনপি দেশে ‘কন্ট্রোলড ডেমোক্রেসি’ প্রতিষ্ঠা করতে চায় বলে মন্তব্য করেছেন ডাকসুর ভিপি সাদিক কায়েম। স্থানীয় সরকার নির্বাচন নিয়ে সরকার ও নির্বাচন কমিশনের পরস্পরবিরোধী বক্তব্যের প্রসঙ্গ তুলে তিনি এ মন্তব্য করেন।
মঙ্গলবার (১৫ সেপ্টেম্বর) নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক আইডিতে দেওয়া এক পোস্টে সাদিক কায়েম বলেন, স্থানীয় সরকার নির্বাচন নিয়ে সরকার ও নির্বাচন কমিশনের পরস্পরবিরোধী বক্তব্যের মধ্য দিয়ে নির্বাচন আয়োজন নিয়ে সরকারের তালবাহানা ও সমন্বয়হীনতা স্পষ্ট হয়েছে।
তিনি বলেন, সোমবার আগারগাঁওয়ে নির্বাচন কমিশন ভবনে ইসি সানাউল্লাহ ঘোষণা করেছেন, সাত ধাপে স্থানীয় সরকার নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে এবং প্রথম ধাপের ভোটের তারিখ ১২ নভেম্বর নির্ধারণ করা হয়েছে। অথচ মঙ্গলবার স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেছেন, স্থানীয় নির্বাচন নিয়ে ইসির দেওয়া তারিখ চূড়ান্ত নয়। এতে নির্বাচন আয়োজন নিয়ে সরকার ও নির্বাচন কমিশনের পরস্পরবিরোধী অবস্থান স্পষ্ট হয়েছে।
সাদিক কায়েম আরও বলেন, প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা ডা. জাহেদ উর রহমান বলেছেন, স্থানীয় সরকার নির্বাচন নিয়ে সরকারের সিদ্ধান্ত গুরুত্বপূর্ণ। এর অর্থ হলো, সরকার নির্বাচন কমিশনের দেওয়া তারিখ মানছে না। বরং সরকারকে সুযোগ করে দিতে নিজেদের সুবিধামতো নির্বাচন কমিশনকে দিয়ে একটি তারিখ ঘোষণা করানো হচ্ছে। ফলে জনগণের কাছে বিষয়টি স্পষ্ট যে সরকার নির্বাচন কমিশনকে নিয়ন্ত্রণ করতে চাইছে।
বিএনপি সরকারের সমালোচনা করে তিনি বলেন, বিএনপি সরকার একদিকে দেশ পরিচালনায় সীমাহীন ব্যর্থতার পরিচয় দিয়েছে, অন্যদিকে বিএনপির নেতাকর্মীরা চাঁদাবাজি ও জুলুমের মাধ্যমে জনজীবন অতিষ্ঠ করে তুলেছে। এ কারণে তারা সুষ্ঠু নির্বাচন ও জনগণের রায়কে ভয় পাচ্ছে। সে কারণেই স্থানীয় সরকারের সব স্তরে, এমনকি ইউনিয়ন পরিষদেও দলীয় নেতাকর্মীদের প্রশাসক হিসেবে বসিয়ে ‘কুখ্যাত স্বৈরাচার আইয়ুবশাহীর পথ’ অনুসরণ করা হচ্ছে।
নির্বাচন কমিশনের গুরুত্ব তুলে ধরে ডাকসুর ভিপি বলেন, নির্বাচন কমিশন দেশের স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ প্রতিষ্ঠান। দেশের রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা ও গণতান্ত্রিক অগ্রযাত্রা বজায় রাখতে কমিশনের ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
তিনি বলেন, নির্বাচন কমিশনকে নিয়ন্ত্রণ করে দেশে সুস্থ ও স্বাভাবিক গণতান্ত্রিক পরিবেশ নিশ্চিত করা যায় না। এর উদাহরণ আগের স্বৈরাচারী সরকার। কিন্তু বর্তমান পরিস্থিতিতে দেখা যাচ্ছে, বিএনপিও স্বৈরাচার আমলের মতো দেশের অন্যান্য প্রতিষ্ঠানের পাশাপাশি নির্বাচন কমিশনকেও নিয়ন্ত্রণ করে দেশে একটি ‘কন্ট্রোলড ডেমোক্রেসি’ প্রতিষ্ঠা করতে চায়।
সরকারের প্রতি আহ্বান জানিয়ে সাদিক কায়েম বলেন, নির্বাচন কমিশনের মতো সংবিধিবদ্ধ ও স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠানগুলোকে স্বাধীনভাবে চলতে দিতে হবে। নির্বাচন কমিশনকে দলীয়করণ ও নিয়ন্ত্রণ করার ফল কখনোই ভালো ফলাফল বয়ে আনবে না।







