ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের (ডাকসু) মত করেই ঢাকা সিটি কর্পোরেশনগুলোর নির্বাচনে জিতবে বলে মন্তব্য করেছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষক ও অনলাইন অ্যাক্টিভিস্ট ড. ফয়জুল হক।
তিনি বলেছেন, “সাদিক কায়েম দক্ষিণের মেয়র হলে কী করতে পারবেন বা পারবেন সেটি ডাকসুর দিকে তাকালেই বোঝা যায়। ৩৫ লাখ টাকার বিশ্ববিদ্যালয়ের বাজেটের সঙ্গে ৩৫ থেকে ৪০ কোটি টাকার উন্নয়ন একমাত্র তাদের কারণেই সম্ভব হয়েছে।”
গতকাল রবিবার (১৩ সেপ্টেম্বর) সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে নিজ অ্যাকাউন্টে দেওয়া এক পোস্টে তিনি এসব কথা বলেন।
ফেসবুক পোস্টে ড. ফয়জুল হক লেখেন, “ডাকসুর মতো করেই ঢাকা সিটি কর্পোরেশনগুলোর নির্বাচন ও ফলাফল হবে বলে আমার বিশ্বাস। জামায়াতে ইসলামী, বিএনপি, এনসিপিসহ ফ্যাসিবাদবিরোধী শক্তিগুলো সবাই আলাদাভাবে নির্বাচন করলেও রেজাল্টের ক্ষেত্রে দেখা যাবে, জনগণ ঠিকই সঠিক সিদ্ধান্ত নিয়েছে এবং ভোট প্রদান করেছে জামায়াত-শিবিরকে।”
তিনি বলেন, “গত ডাকসু নির্বাচনের সময় বিভিন্ন বুদ্ধিজীবী বলেছিলেন, ‘এটা ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়, আর এখানে কখনোই শিবিরের বিজয় হবে না।’ তাঁদের সেই প্রেডিকশন ভুল প্রমাণিত হয়েছে। প্রায় পূর্ণ প্যানেলেই বিজয়ী হয়েছে শিবির। তখন অনেকেই মনে করতেন, হয়তো ছাত্রদল, এনসিপি, ছাত্র অধিকার কিংবা অন্য কেউ বিজয়ী হবে। কিন্তু না, ফলাফল হয়েছে সম্পূর্ণ উল্টো। শিবিরই তার বীরত্ব প্রমাণ করেছে।”
ঢাকা সিটিকে দুই শিবিরের নেতা লন্ডনের আদলে সাজাবে বলে উল্লেখ্য করে তিনি বলেন, “বাংলাদেশের মানুষ বাস্তবতা ভালোভাবেই বুঝতে সক্ষম। তারা জানে, ঢাকার মতো দুটি গুরুত্বপূর্ণ সিটি কর্পোরেশনে শিবিরের দুইজন দায়িত্বশীলই কর্ণধার হলে সবচেয়ে বেশি উপকৃত হবে সাধারণ জনগণ। ঢাকা সিটি কর্পোরেশন উত্তরে ইতিমধ্যেই কাজের মাধ্যমে জানান দিচ্ছেন ইসলামী ছাত্রশিবিরের সাবেক কেন্দ্রীয় সভাপতি জনাব সেলিম উদ্দিন। তিনি জনআকাঙ্ক্ষা পূরণে দল-মত, জাতি, ধর্ম, বর্ণ নির্বিশেষে সবাইকে নিয়ে কাজ করে যাচ্ছেন। তার কাজের গতি দেখলেই বোঝা যায়, এই সিটি কর্পোরেশনকে তিনি লন্ডনের আদলে সাজাতে পারবেন।”
ডাকসুর উদাহরণ দিয়ে তিনি বলেন, “অন্যদিকে, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের মতো জায়গায় বিপুল ভোটে নির্বাচিত ভিপি সাদিক কায়েমকে জনগণ ভোট দেবে ঢাকা দক্ষিণে। তিনি দক্ষিণের মেয়র হলে কী করতে পারবেন, কী করতে পারবেন না— তা ডাকসুর দিকে তাকালেই বোঝা যায়। ৩৫ লাখ টাকার বিশ্ববিদ্যালয়ের বাজেটের সঙ্গে ৩৫ থেকে ৪০ কোটি টাকার উন্নয়ন একমাত্র তাদের কারণেই সম্ভব হয়েছে।
তিনি আরও বলেন, “অনেক নেতাই হয়তো এই নির্বাচনে অংশ নেবেন, কিন্তু আসলে তাদের পুঁজিপাট্টা জামায়াত-শিবির। যেহেতু ভোটের মাঠে জামায়াতের প্রার্থীকেই তারা ভোট দেবে, সেই জায়গা থেকে জামায়াত-শিবিরের বিপরীতে দাঁড়ানো অন্য দলগুলোর নেতাদের ক্ষেত্রে সম্পূর্ণ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সেই নির্বাচনের মতোই ফলাফল আসবে।
দেখতে অনেক বড় বড় নেতা হলেও, যারা তাদেরকে নেতা বনে যাওয়ার সুযোগ করে দিয়েছে, সেই জামায়াত-শিবিরই শেষ পর্যন্ত তাদের রাজনৈতিক শক্তির বড় একটি অংশ। আর ভোটের মাঠে জনগণ যখন নিজেদের পছন্দের প্রার্থীকে বেছে নেবে, তখন সেই সিদ্ধান্তের প্রতিফলন ফলাফলেও দেখা যাবে।”
সবশেষে ড. ফয়জুল হক বলেন, “আমার বিশ্বাস, ঢাকা সিটি কর্পোরেশন নির্বাচনও ডাকসু নির্বাচনের মতোই অনেক প্রচলিত ধারণাকে ভুল প্রমাণ করতে পারে। নির্বাচনের আগে কে কত বড় নেতা, কার কত বড় সাংগঠনিক পরিচয় কিংবা কার পেছনে কতটা রাজনৈতিক শক্তি—এসব নিয়ে অনেক আলোচনা হতে পারে। কিন্তু শেষ কথা বলবে জনগণ এবং ব্যালট। তাই নির্বাচনের ফলাফল নিয়ে আগেভাগে নানা ধরনের হিসাব-নিকাশ করা হলেও শেষ পর্যন্ত জনগণই সিদ্ধান্ত নেবে। আর সেই সিদ্ধান্ত যদি ডাকসুর নির্বাচনের মতো হয়, তাহলে ঢাকা উত্তর ও দক্ষিণ—দুই সিটিতেই জামায়াত-শিবিরের প্রার্থীদের পক্ষে বড় ধরনের জনসমর্থন দেখা যেতে পারে।”







