পটুয়াখালীর বাউফলে একটি সড়কের নির্মাণকাজে ব্যাপক অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে। নির্মাণের এক মাস না যেতেই সড়কের বিভিন্ন স্থানে কার্পেটিং উঠে গিয়ে গভীর গর্তের সৃষ্টি হয়েছে। এতে স্থানীয়দের মধ্যে ক্ষোভ বিরাজ করছে।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, ২০২৫-২৬ অর্থবছরে উপজেলা সদর ইউনিয়নের নওমালা-বাউফল সড়কের অলিপুরা বাজার থেকে পৌরসভার হাওলাদার বাড়ি পর্যন্ত ভাঙা অংশ মেরামতের উদ্যোগ নেয় স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর (এলজিইডি)। দরপত্রের মাধ্যমে ৬৮ লাখ টাকায় কাজটি পায় তৌফিক ট্রেড ইন্টারন্যাশনাল নামে একটি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান।
স্থানীয় একাধিক বাসিন্দার অভিযোগ, কার্যাদেশ পাওয়ার মাত্র সাত দিনের মধ্যে ট্যাক কোট দিয়ে তড়িঘড়ি করে কার্পেটিংয়ের কাজ শেষ করা হয়। কাজটি নির্ধারিত স্পেসিফিকেশন (সিডিউল) অনুযায়ী না হওয়ায় মাত্র ২৫ দিনের মাথায় কার্পেটিং উঠে গিয়ে বিভিন্ন স্থানে গর্তের সৃষ্টি হয়েছে।
তাদের দাবি, নির্মাণকাজে নির্ধারিত মানের উপকরণ ব্যবহার করা হয়নি। কাজ শেষে বিপুল পরিমাণ বিটুমিন ও সিলকোট সাইট থেকে ফেরত নেওয়া হয়েছে বলেও অভিযোগ করেন তারা।
স্থানীয়দের ভাষ্য, ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানটির কাছ থেকে সাব-ঠিকাদার হিসেবে সড়কটির নির্মাণকাজ করেন বাউফল উপজেলা বিএনপির সদস্য ও বাউফল সদর ইউনিয়ন বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক মো. কামরুজ্জামান ওরফে কামরুল হাওলাদার।
তবে অনিয়মের অভিযোগ অস্বীকার করেছেন কামরুজ্জামান। তিনি বলেন, "নির্বাচনকে সামনে রেখে একটি চক্র আমার বিরুদ্ধে অপপ্রচার চালাচ্ছে। এভাবে অপপ্রচার করে আমার জনপ্রিয়তা কমানো যাবে না। আমি সিডিউল মেনেই কাজ করেছি। কোথাও কোনো ত্রুটি থাকলে প্রয়োজনীয় মেরামতের ব্যবস্থা করা হবে।
প্রকল্পটির তদারকির দায়িত্বে থাকা বাউফল এলজিইডির উপসহকারী প্রকৌশলী আলী ইবনে আব্বাস বলেন, "টানা বৃষ্টির কারণে সড়কের কার্পেটিং উঠে যেতে পারে। ক্ষতিগ্রস্ত অংশ দ্রুত মেরামতের ব্যবস্থা নেওয়া হবে।"







