আর মাত্র দুটি ম্যাচ। এরপরই পর্দা নামবে ২০২৬ ফুটবল বিশ্বকাপের। আগামী রোববার (১৯ জুলাই) নিউজার্সিতে শিরোপা নির্ধারণী ম্যাচে মুখোমুখি হবে আর্জেন্টিনা ও স্পেন। তার আগে শনিবার (১৮ জুলাই) তৃতীয় স্থান নির্ধারণী ম্যাচে খেলবে ফ্রান্স ও ইংল্যান্ড।
বিশ্বকাপের ট্রফির পাশাপাশি এবারও আলোচনায় রয়েছে ব্যক্তিগত পুরস্কারের লড়াই। টুর্নামেন্ট শেষে ফিফা ছয়টি ব্যক্তিগত পুরস্কার দেবে। এর মধ্যে সবচেয়ে মর্যাদাপূর্ণ তিনটি হলো গোল্ডেন বুট, গোল্ডেন বল ও গোল্ডেন গ্লাভস। সর্বোচ্চ গোলদাতা, আসরের সেরা খেলোয়াড় এবং সেরা গোলরক্ষক এই তিন বিভাগে কারা এগিয়ে আছেন, তা নিয়েই চলছে হিসাব-নিকাশ।
গোল্ডেন বুটে মেসি-এমবাপ্পের হাড্ডাহাড্ডি লড়াই
বিশ্বকাপের সর্বোচ্চ গোলদাতাকে দেয়া হয় গোল্ডেন বুট। ২০২২ কাতার বিশ্বকাপে আট গোল করে এই পুরস্কার জিতেছিলেন ফ্রান্সের অধিনায়ক কিলিয়ান এমবাপ্পে। এবারও তিনি শীর্ষ লড়াইয়ে থাকলেও তার সবচেয়ে বড় প্রতিদ্বন্দ্বী লিওনেল মেসি।
এখন পর্যন্ত দুজনেরই গোলসংখ্যা সমান ৮টি করে। তবে অ্যাসিস্টে এগিয়ে থাকায় আপাতত দৌড়ে এগিয়ে আছেন আর্জেন্টাইন অধিনায়ক। মেসির অ্যাসিস্ট ৪টি, এমবাপ্পের ৩টি।
ফিফার নিয়ম অনুযায়ী, টুর্নামেন্ট শেষে একাধিক খেলোয়াড়ের গোলসংখ্যা সমান হলে প্রথমে বিবেচনা করা হবে অ্যাসিস্ট। সেখানেও সমতা থাকলে কম সময় মাঠে থেকে গোল ও অ্যাসিস্ট করা খেলোয়াড় বিজয়ী হবেন।
মেসির সামনে সুযোগ রয়েছে ফাইনালে স্পেনের বিপক্ষে নিজের ব্যবধান বাড়ানোর। অন্যদিকে তৃতীয় স্থান নির্ধারণী ম্যাচে ইংল্যান্ডের বিপক্ষে খেলবেন এমবাপ্পে। ফলে শেষ দুটি ম্যাচই নির্ধারণ করবে গোল্ডেন বুটের ভাগ্য।
এখন পর্যন্ত গোলদাতাদের তালিকায় এরপর রয়েছেন ইংল্যান্ডের হ্যারি কেইন ও জুড বেলিংহ্যাম, দুজনেরই ৬টি করে গোল। ফ্রান্সের উসমান দেম্বেলের গোলও ৬টি, সঙ্গে আছে ২টি অ্যাসিস্ট। স্পেনের মিকেল ওয়াইয়ারজাবাল করেছেন ৫ গোল।
টানা দ্বিতীয়বার গোল্ডেন বলের পথে মেসি?
বিশ্বকাপের সেরা খেলোয়াড়কে দেয়া হয় গোল্ডেন বল। ২০২২ সালে আর্জেন্টিনাকে শিরোপা জেতানোর পাশাপাশি এই পুরস্কারও জিতেছিলেন লিওনেল মেসি। এবারও তিনি সবচেয়ে বড় দাবিদার হিসেবে বিবেচিত হচ্ছেন।
ফিফার টেকনিক্যাল স্টাডি গ্রুপ সম্ভাব্য প্রার্থীদের সংক্ষিপ্ত তালিকা তৈরি করে। এরপর বিশ্বকাপ কভার করা স্বীকৃতিপ্রাপ্ত সংবাদমাধ্যমের প্রতিনিধিদের ভোটে নির্বাচিত হন টুর্নামেন্টসেরা ফুটবলার। দ্বিতীয় ও তৃতীয় স্থান অধিকারীরা পান যথাক্রমে সিলভার বল ও ব্রোঞ্জ বল।
১৯৭৮ সালে চালু হওয়া এই পুরস্কার জিততে দলকে বিশ্বচ্যাম্পিয়ন হওয়া বাধ্যতামূলক নয়। অতীতে ২০০৬ সালে জিনেদিন জিদান, ২০১৪ ও ২০২২ সালে মেসি এবং ২০১৮ সালে লুকা মদ্রিচ রানার্সআপ দলের হয়েও গোল্ডেন বল জিতেছিলেন। কারণ, ফাইনাল শুরুর আগেই এই পুরস্কারের ভোটগ্রহণ শেষ হয়ে যায়।
এখন পর্যন্ত ইতিহাসে একমাত্র গোলরক্ষক হিসেবে ২০০২ সালে গোল্ডেন বল জিতেছিলেন জার্মানির অলিভার কান। আর একমাত্র ফুটবলার হিসেবে দুইবার এই পুরস্কার জয়ের কীর্তি রয়েছে মেসির।
এবারের সম্ভাব্য প্রার্থীদের তালিকায় মেসির পাশাপাশি রয়েছেন ফ্রান্সের কিলিয়ান এমবাপ্পে ও মাইকেল অলিসে। এ ছাড়া ইংল্যান্ডের হ্যারি কেইন ও জুড বেলিংহ্যাম, নরওয়ের আর্লিং হালান্ড এবং কেপ ভার্দের গোলরক্ষক ভোজিনিয়াও আলোচনায় রয়েছেন।
গোল্ডেন গ্লাভসে চমক দেখাচ্ছেন ভোজিনিয়া
বিশ্বকাপের সেরা গোলরক্ষককে দেয়া হয় গোল্ডেন গ্লাভস। ২০২২ সালে এই পুরস্কার জিতেছিলেন আর্জেন্টিনার এমিলিয়ানো মার্টিনেজ।
সেরা গোলরক্ষক নির্বাচনের ক্ষেত্রে পুরো টুর্নামেন্টে পারফরম্যান্স, গুরুত্বপূর্ণ সেভ, ক্লিন শিট এবং ম্যাচে প্রভাব এসব বিষয় বিবেচনায় নেয় ফিফা। ১৯৯৪ সালে চালু হওয়া এই পুরস্কারের নাম ২০১০ সাল পর্যন্ত ছিল ‘লেভ ইয়াশিন অ্যাওয়ার্ড’।
এবারের বিশ্বকাপে গোলরক্ষকদের মধ্যে সবচেয়ে বেশি আলোচনায় আছেন কেপ ভার্দের ভোজিনিয়া। একের পর এক দুর্দান্ত সেভ করে তিনি দর্শক ও বিশ্লেষকদের প্রশংসা কুড়িয়েছেন। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও তার পারফরম্যান্স নিয়ে ব্যাপক আলোচনা হয়েছে। এমনকি তাকে দলে ভেড়াতে মেজর লিগ সকারের ক্লাব ইন্টার মায়ামি আগ্রহ দেখাচ্ছে বলেও বিভিন্ন প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে।
এ ছাড়া উরুগুয়ের অরল্যান্ডো গিল, পর্তুগালের দিয়োগো কস্তা, সুইজারল্যান্ডের গ্রেগর কোবেল, মরক্কোর ইয়াসিন বুনো এবং মিশরের মোস্তফা শোবেইরও সারা টুর্নামেন্টে ধারাবাহিক পারফরম্যান্স দিয়ে গোল্ডেন গ্লাভসের আলোচনায় জায়গা করে নিয়েছেন।
ফাইনাল ও তৃতীয় স্থান নির্ধারণী ম্যাচের পরই ব্যক্তিগত এই তিন মর্যাদাপূর্ণ পুরস্কারের আনুষ্ঠানিক বিজয়ীদের নাম ঘোষণা করবে ফিফা।







