যোগ করা সময়ে লাউতারো মার্তিনেজের এক গোলেই বিশ্বকাপের টানা দ্বিতীয় ফাইনাল নিশ্চিত করেছে আর্জেন্টিনা। ইংল্যান্ডের বিপক্ষে সেমিফাইনালে ২-১ ব্যবধানে জয়ের নায়ক হওয়ার পর আবেগাপ্লুত এই ফরোয়ার্ড জানিয়েছেন, এমন একটি গোল করার স্বপ্ন তিনি বুকে লালন করে এসেছেন শৈশব থেকেই।
ম্যাচ শেষে আর্জেন্টাইন সংবাদমাধ্যম টিওয়াইসি স্পোর্টস-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে লাউতারো বলেন, ‘আমি জানি না কী বলব। অনুভূতিটা অবিশ্বাস্য। বাবা যখন আমাকে প্রথম ফুটবল বুট কিনে দিয়েছিলেন, তখন থেকেই আমি এমন একটি গোল করার স্বপ্ন দেখতাম।’
কাতার বিশ্বকাপে আর্জেন্টিনা চ্যাম্পিয়ন হলেও পুরো টুর্নামেন্টে গোলের দেখা পাননি লাউতারো। সে কারণে এবারের বিশ্বকাপ তার জন্য ছিল নিজেকে নতুন করে প্রমাণ করার মঞ্চ। আর সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্তেই সেই প্রতীক্ষার অবসান ঘটালেন ইন্টার মিলানের এই স্ট্রাইকার।
লাউতারো জানান, মাঠে নামার আগেই তিনি নিজের গোল নিয়ে আত্মবিশ্বাসী ছিলেন। সতীর্থ অ্যালেক্সিস ম্যাক অ্যালিস্টার এবং ফাকু মেদিনাকে আগেই বলেছিলেন, তিনি গোল করবেন এবং দলকে জয় এনে দেবেন। শেষ পর্যন্ত তার কথাই সত্যি হয়েছে।
ম্যাচের যোগ করা সময়ে ডান প্রান্ত থেকে লিওনেল মেসির নিখুঁত ক্রসে দুর্দান্ত ফিনিশিংয়ে ইংল্যান্ডের জালে বল জড়িয়ে দেন লাউতারো। সেই গোলেই ২-১ ব্যবধানে জয় নিশ্চিত করে টানা দ্বিতীয়বারের মতো বিশ্বকাপের ফাইনালে ওঠে বর্তমান চ্যাম্পিয়ন আর্জেন্টিনা।
৩৯ বছর বয়সী মেসিও ছিলেন জয়ের অন্যতম স্থপতি। প্রথমে এনজো ফার্নান্দেজের সমতাসূচক গোল এবং পরে লাউতারোর জয়সূচক গোল—দুটিতেই অ্যাসিস্ট করেন আর্জেন্টাইন অধিনায়ক। তার দুর্দান্ত সৃজনশীলতায় শেষ মুহূর্তে ম্যাচ ঘুরিয়ে দেয় লিওনেল স্কালোনির দল।
লাউতারো আরও বলেন, ‘জীবনের অনেক কিছুই বদলে গেছে। বিশেষ করে দুই সন্তানের বাবা হওয়ার পর অনেক বেশি শান্ত ও পরিণত হয়েছি। তবে ছোটবেলার সেই স্বপ্ন বিশ্বকাপের মঞ্চে দেশের হয়ে জয়সূচক গোল করার আকাঙ্ক্ষা কখনো বদলায়নি।’
এখন লাউতারোদের সামনে আর মাত্র একটি ধাপ। স্পেনকে হারাতে পারলেই টানা দ্বিতীয়বারের মতো বিশ্বকাপ ট্রফি নিজেদের করে নেবে আর্জেন্টিনা, আর শৈশবের স্বপ্ন পূরণের পর লাউতারোর সামনে খুলে যাবে আরেকটি সোনালি অধ্যায়।







