অলৌকিক প্রত্যাবর্তন, তাই বলে বারবার! তাও আবার বিশ্বকাপ মঞ্চে! লিওনেল মেসির মতো ‘ম্যাজিক ম্যান’ থাকলে একবার-দুবার কেন, অসংখ্যবার খাদের কিনারা থেকে প্রবলভাবে ফেরার বিশ্বাস রাখা যায়। আটলান্টা স্টেডিয়ামে আর্জেন্টিনা সমর্থকদের চোখ-মুখ যখন অন্ধকার হয়ে আসছিল, তখন ইংলিশদের উল্লাস ছিল আকাশচুম্বী। ১-০ ব্যবধানে পিছিয়ে পড়া ডিফেন্ডিং চ্যাম্পিয়নদের বিদায় যেন সময়ের ব্যাপার হয়ে দাঁড়ায়! এমন সময় অবিশ্বাস্য ম্যাজিক্যাল পারফরম্যান্সে উত্থান হলো মেসির। ৮৫ থেকে ৯০+২Ñএই সাত মিনিটেই মাস্টারক্লাস পারফরম্যান্স শো করে তিনি আর্জেন্টিনাকে এনে দিলেন মহাকাব্যিক এক জয়। মেসি-জাদুতে ইংল্যান্ডের রক্ষণভাগের গড়া ‘চীনের মহাপ্রাচীর’ চূর্ণবিচূর্ণ করে পিছিয়ে পড়া আর্জেন্টিনা জয় পায় ২-১ গোলে। ম্যাচে নিজে গোল করেননি মেসি, তবে গোল করালেন। তার পারফরম্যান্সে যেন অবাক পৃথিবী বিস্ময়ে তাকিয়ে রয়!
ম্যাচের শুরু থেকে প্রেসিং ফুটবলে আর্জেন্টিনাকে চাপে ফেলার চেষ্টা করে ইংল্যান্ড। এজন্য দুই উইংয়ে অ্যান্তনিও গর্ডন আর মরগান রজার্সকে ব্যবহার করেন টুখেল। এ সময় ইংল্যান্ডের ফাঁদে পড়ে যায় আর্জেন্টিনা। তাদের ধারণার বাইরে আরো গভীরে অবস্থান নেন জুড বেলিংহাম। আর ফলো করেন এনজো ফার্নান্দেজকে। অন্যদিকে অ্যালিস্টারের সঙ্গে ডেক্লান রাইস ও মেসির সঙ্গে যেন জুটি বাঁধেন ইলিয়ট এন্ডারসন। তখন শারীরিকভাবে আর্জেন্টিনার খেলোয়াড়দের উসকে দিয়ে ইংল্যান্ড তাদের বিখ্যাত ‘সেন্ট্রাল ফোকাসড’ ফুটবল খেলার চেষ্টা করে। বেলিংহাম, রাইস ও এন্ডারসনÑএই ত্রয়ী মিডফিল্ডার শক্তি দেখিয়ে মেসিদের আটকে রাখেন। তবে সময় গড়ানোর সঙ্গে সঙ্গে অ্যালিস্টার, ফার্নান্দেজ ও মেসি সেই ফাঁদ থেকে বেরিয়ে আসেন। অ্যান্ডারসনকে দ্বিধায় ফেলে গভীরে গিয়ে অবস্থান নিতে শুরু করেন মেসি। এ ক্ষেত্রে হাঁটার গতিকে ‘অস্ত্র’ হিসেবে কাজে লাগান আর্জেন্টিনা অধিনায়ক। এক পর্যায়ে অ্যান্ডারসনরা ক্লান্ত হয়ে পড়লে ইংল্যান্ডের গতি কমে যায়। এ সুযোগটাই কাজে লাগান মেসিরা। ৫৫ মিনিটে গর্ডন ইংল্যান্ডের হয়ে গোল করার পর ৮৫ মিনিট পর্যন্ত পুরোপুরি রক্ষণে চলে যায় টুখেলের দল। তখন ইংল্যান্ডের দুর্বলতা খুঁজতে থাকেন মেসি। অ্যান্ডারসন আগ্রাসনকে আক্রমণের জায়গা বের করে সুযোগ কাজে লাগান তিনি। শুরু থেকেই মেসি নিষ্প্রভ থাকলেও তার কৌশলী ও বুদ্ধিদীপ্ত ফুটবলের সঙ্গে পেরে উঠতে পারেনি থ্রি লায়নসরা। ৮৫ মিনিটে মেসির পাস থেকে যে গোলটি করেন এনজো ফার্নান্দেজ, সেটি ছিল মেসির অসাধারণ ফুটবল মস্তিষ্কের অবিশ্বাস্য উদ্ভাবন। শর্ট কনারের পর ওয়ান টু ওয়ান করে সময়ক্ষেপণ করছিলেন মেসি। তখন ইংল্যান্ডের ডিফেন্ডারদের তার দিকে আকৃষ্ট করে সতীর্থদের জন্য জায়গা ফাঁকা করার চেষ্টায় থাকেন। তার এই কৌশলের কাছে রীতিমতো বোকা বনে যান ইংল্যান্ডের খেলোয়াড়রা। ডানদিকে তাকে ঘিরে ব্লক তৈরি করে তারা। তারা ভেবেছিল মেসি হয়তো বাঁ পায়ে গোলপোস্ট বরাবর শট নেবেন। কিন্তু প্রথাগত সে কাজটি করলেন না তিনি। এ সময় অনেক ফাঁকা জায়গা পাওয়া বক্সের সামনে ফার্নান্দেজের কাছে পাস দেন। আর যখন এনজো শট নিলেন, গোলরক্ষক লাফিয়েও সেই গোল বাঁচাতে পারেননি। বল জালে।







