বরিশালে অগ্রণী হাউজিংয়ের এমডির স্পর্শকাতর স্থানে চেপে ধরে চেক এবং স্ট্যাম্পে সই নেওয়ার আলোচিত ঘটনার মূল অভিযুক্ত মোস্তাফিজুর রহমান লিটুসহ জড়িতরা কেউ যুবদল বা বিএনপির কেউ নয় বলে দাবি করেছেন দলটির স্থানীয় নেতারা।
রোববার (৫ জুলাই) দুপুরে সংবাদ সম্মেলন করে এমন দাবি জানালেও সামনে এসেছে চাঞ্চল্যকর তথ্য। মোস্তাফিজুর রহমান লিটুর দলীয় পরিচয় না থাকলেও তার সঙ্গেই ছিলেন বিএনপি ও যুবদলের এক পদধারী নেতা।
তিনি হলেন বরিশাল দক্ষিণ জেলা যুবদলের ১০ নম্বর সহসাংগঠনিক সম্পাদক আফাস উদ্দৌলা অলিদ ও ইউনিয়ন বিএনপির সাবেক যুগ্ম আহ্বায়ক। যদিও তিনি এখন যুবদলে নেই বলে দাবি করেছেন—কেন্দ্রীয় কমিটির সহসভাপতি ও বরিশাল দক্ষিণ জেলা যুবদলের সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট এইচএম তসলিম উদ্দিন।
তা ছাড়া মামলায় যে সাতজনকে আসামি করা হয়েছে তাদের মধ্যেও অলিদের নাম খুঁজে পাওয়া যায়নি। তার পরও অপরাধের সঙ্গে জড়িত থাকার প্রমাণ পেলে সাংগঠনিক ব্যবস্থা গ্রহণের কথা জানিয়েছেন বিএনপি এবং যুবদলের নেতারা।
ভাইরাল ভিডিওর শুরুতেই দেখা যায়, ঘটনার সময় কথিত যুবদল নেতা মোস্তাফিজুর রহমান লিটুর সঙ্গেই অগ্রণী হাউজিংয়ের ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) আব্দুল আজিজের রুমে প্রবেশ করেন আফাস উদ্দৌলা অলিদ। তিনি রুমের চেয়ারের এক কোণে বসা ছিলেন।
মোস্তাফিজুর রহমান লিটু যখন আব্দুল আজিজের স্পর্শকাতর স্থানে চেপে ধরে চেয়ার থেকে মেঝেতে ফেলে দেন, তখন ওপরে থাকা সিসি ক্যামেরার দিকে দৃষ্টি যায় যুবদল নেতা অলিদের। তখনই ধীরে ধীরে ওই রুম থেকে বাইরে বেরিয়ে যান তিনি। তবে ব্যবসায়ীকে লাঞ্ছিত করতে দেখা যায়নি তাকে।
এ ছাড়া আমিনুল মৃধা নামের একজন ছিলেন ঘটনার সময়। নবগ্রাম রোডের ভাঙ্গারপোল মৃধা বাড়ির বাসিন্দা আমিনুল নিজেও এলাকায় যুবদলের নাম ভাঙিয়ে বিভিন্ন অনৈতিক কাজের সঙ্গে জড়িত বলে অভিযোগ রয়েছে। ভিডিওতে উপস্থিতি স্পষ্ট দেখা গেলেও তার নামও নেই দায়ের হওয়া মামলার আসামির তালিকায়।
এ প্রসঙ্গে মামলার বাদী ভুক্তভোগী অগ্রণী হাউজিংয়ের ব্যবস্থাপনা পরিচালক আব্দুল আজিজ বলেন, যারা ঘটনার সঙ্গে জড়িত, পরিকল্পনায় ছিল তাদের নামেই মামলা করেছি। তবে আমি অনেকের নাম জানি না, বিধায় মামলায় তাদের নাম দিতে পারিনি। আমি মামলা করেছি এখন ভিডিও ফুটেজ দেখে পুলিশ অভিযুক্তদের খুঁজে বের করবে।
অভিযোগ প্রসঙ্গে বক্তব্য জানা যায়নি জেলা যুবদলের সহসাংগঠনিক সম্পাদক আফাস উদ্দৌলা অলিদের। তার ব্যবহৃত মোবাইল নম্বরে একাধিকবার কল করা হলেও নম্বরটি প্রতিবারই বন্ধ পাওয়া যায়।
অবশ্য ঘটনায় নতুন করে সামনে আসা সহসাংগঠনিক সম্পাদক আফাস উদ্দৌলা অলিদ যুবদলে নেই বলে দাবি করেছেন কেন্দ্রীয় যুবদলের সহসাংগঠনিক সম্পাদক ও বরিশাল জেলা যুবদলের সাধারণ সম্পাদক এইচএম তসলিম উদ্দিন।
তিনি বলেন, শুরুতে মোস্তাফিজুর রহমান লিটুর বিষয়টি সামনে আসে। সে যুবদল বা বিএনপির কোনো অঙ্গ সংগঠনের সঙ্গেও জড়িত নয়। আমাদের সামনে যেই ভিডিও এসেছে সেখানে অলিদকে দেখা যায়নি। আর অলিদ একসময় জেলা যুবদলের সহসাংগঠনিক সম্পাদক পদে থাকলেও পরে সে সদর উপজেলার চরবাড়িয়া ইউনিয়ন বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক হয়েছিলেন। এ কারণে দলের সাংগঠনিক নিয়ম অনুযায়ী যুবদলে তার পদ থাকে না। তবে মূল দলে গেলেও তাকে যুবদল থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়নি বলেন তসলিম উদ্দিন।
অন্যদিকে বরিশাল সদর উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক নুরুল আমিন বলেন, ঘটনার সময় অলিদের উপস্থিতির বিষয়টি চোখে পড়েনি। তা ছাড়া অলিদ চরকাউয়া ইউনিয়নের যেই কমিটির যুগ্ম আহ্বায়ক ছিলেন সেই কমিটি অনেক আগেই ভেঙে দেওয়া হয়েছে। বর্তমানে চরকাউয়া ইউনিয়নে বিএনপির কমিটি নেই। তার পরও সাবেক নেতা হিসেবে অলিদের অপরাধের প্রমাণ পেলে তার বিরুদ্ধে সাংগঠনিক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।







