নোয়াখালী-৬ (হাতিয়া) আসনের সংসদ সদস্য আব্দুল হান্নান মাসউদের বিরুদ্ধে ‘তিন কোটি টাকার ডিল’ সংক্রান্ত অভিযোগ তোলা জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় (জাবি) ছাত্রদল নেতার বাড়িতে হামলা-ভাঙচুরের ঘটনা ঘটেছে।
বৃহস্পতিবার (৪ জুন) রাত পৌনে নয়টার দিকে নোয়াখালীর হাতিয়া উপজেলার বুড়িরচর ইউনিয়নের ৮ নম্বর ওয়ার্ডের সাগরিয়া বাজার এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।
শুক্রবার (৫ জুন) বিকেলে এক সংবাদ সম্মেলন এমন দাবি করেন ভুক্তভোগী ছাত্রদল নেতা। তিনি এ ঘটনার নিরপেক্ষ ও সুষ্ঠু তদন্ত করে জড়িতদের দ্রুত আইনের আওতায় আনারও দাবি জানান।
ভুক্তভোগী ছাত্রদল নেতার নাম আব্দুল গাফফার। তিনি জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় (জাবি) শাখা ছাত্রদলের আহ্বায়ক সদস্য।
সংবাদ সম্মেলনে আব্দুল গাফফার হামলার ঘটনায় প্রশাসনের কাছে চার দাবি তুলে ধরেন। সেগুলো হলো: হামলার ঘটনার নিরপেক্ষ ও সুষ্ঠু তদন্ত নিশ্চিত করা, হামলায় জড়িতদের দ্রুত শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনা, তার পরিবার ও স্বজনদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং ঘটনার নেপথ্যে মদদদাতা প্রভাবশালী ব্যক্তি বা গোষ্ঠীর বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা।
সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে আব্দুল গাফফার জানান, জুলাই গণঅভ্যুত্থানের পর থেকে সংসদ সদস্য আবদুল হান্নান মাসউদের বিভিন্ন বিতর্কিত কর্মকাণ্ড নিয়ে জনমনে প্রশ্ন ওঠে এবং তিনি ব্যক্তিগতভাবে সাংসদ থেকে দূরত্ব বজায় রাখা শুরু করেন।
সম্প্রতি তিনি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সাংসদ হান্নান মাসউদের বিরুদ্ধে নোয়াখালী জেলা আওয়ামী লীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক ও তৎকালীন সংসদ সদস্য একরামুল করিম চৌধুরীকে বিমানবন্দর পর্যন্ত পৌঁছে দেওয়ার বিনিময়ে ‘তিন কোটি টাকার ডিল’ সংক্রান্ত একটি গুরুতর অভিযোগ উত্থাপন করেন।
ভুক্তভোগী গাফফারের অভিযোগ, এই বিষয়টি জনসমক্ষে আসার পর থেকেই সংসদ সদস্য মাসউদের সমর্থকরা বিভিন্নভাবে হুমকি-ধমকি দিয়ে আসছিলেন। এরই ধারাবাহিকতায় বৃহস্পতিবার রাতে তার গ্রামের বাড়িতে সন্ত্রাসী হামলা চালানো হয়।
তিনি আরও জানান, হামলার পর স্থানীয় নেতাকর্মীরা তার বাবার সঙ্গে দুর্ব্যবহার করেন এবং অনুমতি ছাড়াই ভিডিও ধারণের মাধ্যমে ঘটনাটিকে ভিন্ন খাতে প্রবাহিত করার চেষ্টা চালান।
আব্দুল গাফফার বলেন, তিনি ব্যক্তিগত কোনো বিদ্বেষ থেকে নয়, বরং জনস্বার্থ ও জবাবদিহিতার জায়গা থেকেই অভিযোগগুলো উত্থাপন করেছেন।
উল্লেখ্য, গত ৩ জুন ফেসবুকে দেওয়া একটি পোস্টে বিএনপি নেতা রাশেদ খাঁন অভিযোগ তোলেন, আওয়ামী লীগের এক সংসদ সদস্যকে (সাবেক) টাকার বিনিময়ে বিমানবন্দর পর্যন্ত পৌঁছে দিতে চেয়েছিলেন তিনি।
পোস্টে রাশেদ খাঁন লিখেন, ‘একবার আওয়ামীলীগের এক এমপিকে ৪ কোটিতে বিমানবন্দর পর্যন্ত পৌঁছে দেওয়ার আলাপ ওঠে। আওয়ামীলীগের নেতাদের সাথে বৈঠক শেষ করে হান্নান মাসউদ জিসানকে বলে, ভাই, ওরা ১ কোটি দিতে চায়, আপনি ৩ কোটিতে ডিল করেন। ওদের সব কাঁচা টাকা, টাকা পয়সার দরকার আছে! এ কথা শুনে একপ্রকার স্তব্ধ হয়ে যায় জিসান! হান্নান মাসউদের অনেক ঘটনার রাজসাক্ষী হাতিয়ার এই সন্তান আবদুল গাফফার জিসান।’
এরপর আবদুল হান্নান মাসউদ তার ফেসবুক আইডিতে গাফফারের সঙ্গে মুঠোফোনে কথোপকথনের একটি রেকর্ড পোস্ট করেন। সেখানে গাফফারকে উদ্দেশ্য করে কেন তার বিরুদ্ধে ‘মিথ্যা অভিযোগ’ তোলা হয়েছে জানতে চান হান্নান মাসউদ। জবাবের একপর্যায়ে এর জন্য ক্ষমা চান গাফফার।
এদিকে আবদুল হান্নান মাসউদের পোস্টের পর আবদুল গাফফারের আরেকটি ভিডিও ফেসবুকে আপলোড করেন রাশেদ খাঁন। এতে গাফফার দাবি করেন, সান্ত্বনা দিতে গিয়েই তিনি আবদুল হান্নান মাসউদকে ফোন দিয়েছিলেন। আবদুল হান্নান মাসউদের ‘তিন কোটি টাকায় ডিল করতে’ চাওয়ার ঘটনাটি সম্পূর্ণ সত্য। তবে গাফফার এ বিষয়ে রাজি না হওয়ায় ‘ডিলটি’ হয়নি।
ভুক্তভোগী ছাত্রদল নেতা আরও বলেন, এ বিষয়ে হান্নান মাসউদের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি নেতাকর্মীদের ওপর নিয়ন্ত্রণ নেই বলে জানিয়েছেন, যা অত্যন্ত দায়িত্বজ্ঞানহীন।
হামলায় সংসদ সদস্য হান্নান মাসউদে কর্মী ও ঘনিষ্ঠ ব্যক্তিদের সম্পৃক্ততার তথ্য ও প্রমাণ রয়েছে, যাদের মধ্যে কয়েকজন সম্পৃক্ত থাকার কথা স্বীকার করেছেন বলেও জানান আব্দুল গাফফার।
এ বিষয়ে হাতিয়া থানার ওসি মো. কবির হোসেন গণমাধ্যমকে বলেন, পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে। ছাত্রদল নেতা গাফফারের বাবা এ কে এম মোছলেহ উদ্দিনকে এ বিষয়ে থানায় লিখিত অভিযোগ দিতে বলা হয়েছে। অভিযোগ পেলে তা তদন্ত করে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।







