স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ বলেছেন, আসন্ন পবিত্র ঈদুল আজহা ঘিরে রাজধানী ঢাকাসহ সারা দেশে কঠোর নিরাপত্তাবলয় গড়ে তোলা হবে। তিনি বলেন, সড়ক ও নৌপথে পশুবাহী যানবাহনে যে কোনো ধরনের চাঁদাবাজিও কঠোর হস্তে দমন করা হবে। তিনি বলেন, ঈদের ছুটির আগেই পোশাক শ্রমিকদের বেতন-বোনাস পরিশোধের নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। বাংলাদেশ সীমান্তে কাঁটাতারের বেড়া দেওয়া নিয়ে ভারতের পশ্চিমবঙ্গের নবনির্বাচিত মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর বক্তব্য সম্পর্কে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, এ বিষয়ে গুরুত্ব দেওয়ার কিছু নেই। কেন্দ্রীয় সরকারের পক্ষ থেকে কোনো সিদ্ধান্ত এলে সেটি কূটনৈতিক আলোচনা হবে। ‘নোম্যান্স ল্যান্ড (শূন্যরেখা)’ বজায় রেখে ভারত নিজেদের সীমানার মধ্যে কোনো ব্যবস্থা নিতে চাইলে সেটি নিয়েও আলোচনা করা হবে। মঙ্গলবার সচিবালয়ে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সভাকক্ষে ঈদুল আজহা উপলক্ষ্যে আইনশৃঙ্খলাসংক্রান্ত সভা শেষে তিনি সাংবাদিকদের এসব কথা বলেন। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সভায় ধর্মবিষয়ক মন্ত্রী কাজী শাহ মোফাজ্জাল হোসাইন কায়কোবাদ, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব মনজুর মোর্শেদ চৌধুরীসহ সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের সচিব এবং আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর প্রধানরা উপস্থিত ছিলেন।
বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন বলেন, ভারতের কোনো অঙ্গরাজ্যের নির্বাচন বা তার ফলাফল সে দেশের অভ্যন্তরীণ বিষয়। কোনো অঙ্গরাজ্যের একটি দলের বক্তব্যের জবাব আমরা দেব না। ভারতের কেন্দ্রীয় সরকারের পক্ষ থেকে আমাদের জানাতে হবে। তিনি আরও বলেন, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব হলো সীমান্তে নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং যে কোনো ধরনের ‘পুশইনের’ ব্যাপারে সতর্ক থাকা। বিজিবিকে সতর্ক থাকতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, আমরা সতর্ক আছি। সীমান্তে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি সমুন্নত রাখার দিকেই আমাদের নজর রয়েছে। পশ্চিমবঙ্গের নির্বাচনপরবর্তী সহিংসতা এবং মুসলমানদের ওপর হামলার অভিযোগের বিষয়ে তিনি বলেন, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে পুরোনো কিছু ছবি ছড়িয়ে বিভ্রান্তি তৈরি করা হচ্ছে।
চাঁদাবাজির কারণে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দাম বেড়েছে-বিরোধীদলীয় নেতা শফিকুর রহমানের এমন বক্তব্যের বিষয়ে দৃষ্টি আকর্ষণ করা হলে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন বলেন, নির্দিষ্ট তথ্যপ্রমাণ দিলে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। কোথায় কোথায় চাঁদাবাজি বেড়েছে, সে তালিকা পেলে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। তিনি বলেন, ৩০ এপ্রিল থেকে দেশজুড়ে বিশেষ অভিযান চলছে। মাদক, অস্ত্রধারী সন্ত্রাসী, চিহ্নিত আসামি ও চাঁদাবাজদের বিরুদ্ধে অভিযান অব্যাহত রয়েছে। ঈদুল আজহায় নিরাপত্তার বিষয়ে তিনি বলেন, ঈদের আগে ও পরে সাতদিন করে ১৪ দিন পুলিশ সদর দপ্তরে বিশেষ মনিটরিং সেল চালু থাকবে। এ সময় পুলিশ, ফায়ার সার্ভিস, নৌপরিবহণ মন্ত্রণালয়, বিআইডব্লিউটিএসহ সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন সংস্থার হটলাইন সক্রিয় থাকবে। এছাড়া র্যাব, পুলিশ, আনসার, বিজিবি, কোস্ট গার্ডসহ সব গোয়েন্দা সংস্থাকে সমন্বিতভাবে কাজ করার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।
সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, ঈদের আগে পোশাক শ্রমিকদের বেতন-বোনাস পরিশোধ নিশ্চিত করতে বিজিএমইএ, বিকেএমইএ, বাংলাদেশ ব্যাংক, সংশ্লিষ্ট ব্যাংক ও শ্রমিক ফেডারেশনগুলোকে যথাযথ নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। কিছু রুগ্ণ শিল্পপ্রতিষ্ঠান ও বন্ধ কারখানার বিষয়েও আলোচনা হয়েছে। সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলো সমন্বয়ের মাধ্যমে সমাধানের চেষ্টা করবে। তিনি বলেন, কাঁচা চামড়ার ন্যায্যমূল্য নির্ধারণে ট্যানারি মালিকদের সঙ্গে বাণিজ্য মন্ত্রণালয় বৈঠক করবে। পাশাপাশি চামড়া সংরক্ষণে সরকার বিনামূল্যে লবণ বিতরণের উদ্যোগ নিয়েছে। এ লক্ষ্যে ২০ কোটি টাকা ব্যয়ে বিনামূল্যে লবণ সরবরাহের অনুমোদন দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী। এ বিষয়ে ইসলামি ফাউন্ডেশন ও ধর্ম মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমে সচেতনতা কার্যক্রম চালানো হবে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও প্রচার চালানো হবে। চামড়া যাতে পাচার না হয়, সে বিষয়েও সরকার ব্যবস্থা নিয়েছে। বিজিবিকে সর্বোচ্চ সতর্ক থাকার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী জানান, এবার সারা দেশে ৪ হাজার ২৫৯টি পশুর হাট ইজারা দেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনে ১৫টি এবং দক্ষিণ সিটি করপোরেশনে ১১টি হাট থাকবে। হাটগুলোয় পর্যাপ্ত আলোকসজ্জা ও সিসিটিভি ক্যামেরা স্থাপনের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। জাল নোট শনাক্তে প্রতিটি হাটে ব্যাংকগুলোর বুথ ও মেশিন থাকবে। এছাড়া ইজারাদারদের চাহিদা অনুযায়ী নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে ‘অঙ্গীভূত আনসার’ নিয়োজিত করা হবে।
সড়ক ও নৌপথে পশুবাহী যানবাহনে যে কোনো ধরনের চাঁদাবাজি কঠোর হস্তে দমনের হুঁশিয়ারি দিয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, চাঁদাবাজি রোধে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী বডি ওর্ন ক্যামেরা ব্যবহার করবে এবং সিভিল ড্রেসে গোয়েন্দা নজরদারি থাকবে।







