আগামী ১ আগস্টের মধ্যে জুলাই গণ-অভ্যুত্থান স্মৃতি জাদুঘর সর্বসাধারণের জন্য খুলে দেওয়া হবে বলে জানিয়েছেন সংস্কৃতিমন্ত্রী নিতাই রায় চৌধুরী।
আজ মঙ্গলবার সকালে জাদুঘরটির চলমান উন্নয়ন কার্যক্রমের অগ্রগতি পরিদর্শন শেষে উপস্থিত সাংবাদিকদের তিনি এই তথ্য নিশ্চিত করেন।
মন্ত্রী জানান, জুলাই মাসের শেষ দিকে অথবা আগস্টের প্রথম দিনে জাদুঘরটি উদ্বোধনের লক্ষ্য নিয়ে কাজ চলছে এবং প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান এই জাদুঘর উদ্বোধনের সময় নির্ধারণ করবেন। পরিদর্শনকালে জাতীয় সংসদের স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমেদ এবং ডেপুটি স্পিকার কায়সার কামাল মন্ত্রীর সঙ্গে উপস্থিত ছিলেন।
পরিদর্শন শেষে স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমেদ বলেন, বাংলাদেশের তরুণ, কিশোর ও শিশুদের গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠার লড়াইয়ে দেওয়া এই আত্মত্যাগ শুধু দেশের জন্য নয়, বরং সারা বিশ্বের জন্য একটি অনন্য উদাহরণ হয়ে থাকবে।
তিনি জাদুঘরটির ভেতরে প্রদর্শিত স্মৃতিচিহ্নগুলোর আবেগঘন পরিবেশের কথা উল্লেখ করে বলেন, এটি দেখলে চোখের পানি ধরে রাখা কঠিন হয়ে পড়ে। গণতন্ত্রের জন্য বাঙালির এই ত্যাগ বিশ্ববাসীর জন্য চিরকাল অনুপ্রেরণা জোগাবে। একই সঙ্গে এই বিশেষ জাদুঘর প্রতিষ্ঠার উদ্যোগ নেওয়ার জন্য তিনি ড. মুহাম্মদ ইউনূসসহ সংশ্লিষ্ট সকল ব্যক্তিকে আন্তরিক ধন্যবাদ জানান।
ডেপুটি স্পিকার কায়সার কামাল জাদুঘরটিকে ‘ফ্যাসিবাদ থেকে মুক্তির প্রতিবিম্ব’ হিসেবে অভিহিত করেছেন। তিনি মন্তব্য করেন, বাংলাদেশের দামাল ছেলেরা কীভাবে একটি ফ্যাসিবাদমুক্ত রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠা করেছেন, এই জাদুঘরটি হবে সেই গৌরবময় সংগ্রামের জীবন্ত প্রতিফলন।
প্রায় এক ঘণ্টা ধরে জাদুঘরের বিভিন্ন অংশ পরিদর্শন করার সময় তারা উন্নয়ন কাজের খুঁটিনাটি পর্যবেক্ষণ করেন। এই জাদুঘরটি গণ-অভ্যুত্থানের সঠিক ইতিহাস পরবর্তী প্রজন্মের কাছে পৌঁছে দিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে বলে নেতৃবৃন্দ আশা প্রকাশ করেন।
সংস্কৃতি মন্ত্রণালয় সূত্র জানায়, জাদুঘরটির নির্মাণ ও সাজসজ্জার কাজ বর্তমানে শেষ পর্যায়ে রয়েছে। গণ-অভ্যুত্থানের সময়কার বিভিন্ন আলোকচিত্র, ব্যবহৃত সামগ্রী এবং ভিডিও ফুটেজ এখানে বিশেষভাবে সংরক্ষণ করা হচ্ছে।







