ইউরোপের নিরাপত্তা বলয় থেকে নিজেদের গুটিয়ে নেওয়ার পথে আরও এগিয়ে গেলেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। প্রাথমিকভাবে জার্মানি থেকে পাঁচ হাজার সেনা সরানোর পরিকল্পনা করলেও, ট্রাম্প এখন তা ‘বিশাল আকারে’ কমিয়ে ফেলার ঘোষণা দিয়েছেন। এই সিদ্ধান্ত একদিকে যেমন জার্মানির সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের কূটনৈতিক টানাপড়েন তৈরি হয়েছে, অন্যদিকে ডেমোক্র্যাট ও রিপাবলিকানদের তোপের মুখে পড়েছেন ট্রাম্প।
শনিবার (২ মে) ফ্লোরিডায় সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে ট্রাম্প জানিয়েছেন, এ সৈন্য প্রত্যাহার তো কেবল শুরু, সামনে এই সংখ্যা আরও অনেক বাড়বে।
মূলত ইরান ইস্যুতে ইউরোপীয় মিত্রদের, বিশেষ করে জার্মান চ্যান্সেলর ফ্রেডরিক মার্জের অসহযোগিতায় ক্ষুব্ধ হয়ে ট্রাম্প এই পদক্ষেপ নিচ্ছেন বলে ধারণা করা হচ্ছে। দ্বন্দ্বের আরও একটি কারণ হিসেবে ইউরোপীয় ইউনিয়নের (ইইউ) বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের বাণিজ্য চুক্তি না মানার অভিযোগ এনছেন ট্রাম্প। আগামী সপ্তাহ থেকে ইইউতে তৈরি গাড়ি ও ট্রাকের ওপর শুল্ক বাড়িয়ে ২৫ শতাংশ করা হবে বলে জানিয়েছেন তিনি। এই পদক্ষেপ জার্মানির মতো বড় গাড়ি নির্মাতা দেশের জন্য বিশেষভাবে ক্ষতিকর হবে।
জার্মানির প্রতিরক্ষামন্ত্রী বরিস পিস্টোরিয়াস এই ঘোষণাকে কিছুটা স্বাভাবিকভাবে নিলেও সতর্কবার্তা দিয়েছেন। তিনি বলেন, ইউরোপে যুক্তরাষ্ট্রের সৈন্য থাকা উভয়ের জন্যই লাভজনক। এখন ইউরোপীয় দেশগুলোকে নিজেদের নিরাপত্তার দায়িত্ব নিজেদেরই নিতে হবে বলে জানিয়েছেন তিনি।
ন্যাটোর পক্ষ থেকেও জানানো হয়েছে, পরিস্থিতির সঙ্গে মানিয়ে নিতে মিত্র দেশগুলোকে এখন তাদের জিডিপির ৫ শতাংশ প্রতিরক্ষা খাতে খরচ করার লক্ষ্য নিয়ে কাজ করতে হবে।
ট্রাম্পের এই খামখেয়ালি সিদ্ধান্তে যুক্তরাষ্ট্রের কংগ্রেসের রিপাবলিকান নেতারাও অসন্তুষ্ট। তাদের মতে, ইউক্রেন যুদ্ধের এই সংকটময় সময়ে জার্মানি থেকে সেনা সরানো মানে রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনকে ভুল বার্তা দেওয়া। ইরান যুদ্ধে জার্মানি তাদের আকাশসীমা ও সামরিক ঘাঁটি ব্যবহার করতে দিয়ে যুক্তরাষ্ট্রকে সাহায্য করছে বলে স্মরণ করিয়ে দেন তারা।
বর্তমানে জার্মানিতে প্রায় ৩৬ হাজার যুক্তরাষ্ট্রের সৈন্য মোতায়েন রয়েছে। পেন্টাগনের পরিকল্পনা অনুযায়ী, আগামী এক বছরের মধ্যে প্রথম ধাপের প্রত্যাহার শুরু হবে। পেন্টাগনের মতে, আগামী ৬ থেকে ১২ মাসের মধ্যে কার্যকর হবে এই পরিকল্পনা বাস্তবায়ন হবে। ট্রাম্প এর আগে তার প্রথম মেয়াদে সাড়ে নয় হাজার সৈন্য প্রত্যাহারের কথা বলেছিলেন, কিন্তু তিনি তা শুরু করেননি। প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন ২০২১ সালে ক্ষমতা নেওয়ার পর তা স্থগিত করেছিলেন।
বর্তমানে পুরো ইউরোপে প্রায় ৮০ হাজার থেকে এক লাখ সৈন্য মোতায়েন রয়েছে। ২০২২ সালের ফেব্রুয়ারিতে ইউক্রেন যুদ্ধ শুরুর পর যুক্তরাষ্ট্র এই সংখ্যা বাড়িয়েছিল।
তবে ট্রাম্পের নতুন ঘোষণার পর ঠিক কত হাজার সৈন্য শেষ পর্যন্ত জার্মানিতে থাকবে, তা নিয়ে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে। এমনকি পেন্টাগনের অনেক ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাও এই সিদ্ধান্তের বিষয়ে কিছুই জানতেন না বলে জানা গেছে। (আরব নিউজ)







